ঢাকা ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ভারত পিএসএলে নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ, যা বলছে পিসিবি যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী পাটুরিয়ায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, পারাপারে চলছে ১৮টি লঞ্চ চট্টগ্রামে ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ মন্ত্রী-এমপিরা কে কোথায় ঈদ করবেন? ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা বি এন পি সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর থানা বি এন পির আহ্বায়ক এস এম এ হামিদ ঈশ্বরদী থেকে এলো উদ্ধারকারী ট্রেন, সৈয়দপুর থেকে আসছে আরেকটি রূহানীনগর এর পক্ষ থেকে সম্মানিত ইমাম-মুয়াজ্জিনগণকে  হাদিয়া প্রদান

জানুয়ারিতে সড়কে ঝরল ৫৪৬ প্রাণ, ৩৭ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা

দেশে বিদায়ী জানুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনার এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। মাসজুড়ে ৫৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪৬ জন নিহত এবং ১ হাজার ২০৪ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেলের মাধ্যমে। মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৩৭ দশমিক ৮৬ শতাংশই ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের বার্ষিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গণমাধ্যমে পাঠানো সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সই করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে ১৩২টি দুর্ঘটনায় ১৩৩ জন নিহত ও ৩২৮ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে; ২৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৮ জন।

দুর্ঘটনায় পতিত যানবাহনের ধরনে দেখা গেছে, বরাবরের মতো শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল (২৮.৪৬ শতাংশ)। এরপর রয়েছে ট্রাক-পিকআপ ও লরি (২৩.৬৪ শতাংশ), বাস (১৪.৩৫ শতাংশ), ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক (১৩.৬৩ শতাংশ) এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা (৫.৫৪ শতাংশ)।

নিহতদের মধ্যে বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১২৭ জন চালক, ৮৯ জন পথচারী, ৫৪ জন নারী, ৪৮ জন শিশু, ৫৭ জন শিক্ষার্থী, ২১ জন পরিবহন শ্রমিক এবং ৮ জন শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৫ সদস্য এবং ৪ জন চিকিৎসকও এই মিছিলে সামিল হয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সড়কের পাশাপাশি রেল ও নৌপথও ছিল অনিরাপদ। জানুয়ারি মাসে রেলপথে ৩৭টি দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত, ৬ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য মিলেছে। সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে সর্বমোট ৫৯৭টি দুর্ঘটনায় ৫৮৬ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৩৮ জন আহত হয়েছেন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে সড়ক পরিবহন খাতে নীতি ও কৌশলগত দুর্বলতা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, বেপরোয়া গতি এবং মহাসড়কে ছোট যানবাহনের (ইজিবাইক, মোটরসাইকেল) অবাধ চলাচলকে দায়ী করেছে।

একইসঙ্গে দুর্ঘটনা রোধে সংগঠনটি ১৪ দফা সুপারিশ পেশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, সিসি ক্যামেরা পদ্ধতিতে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ, মহাসড়কে সার্ভিস লেন নির্মাণ, দক্ষ চালক তৈরি এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ টাস্কফোর্স গঠন করা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প

জানুয়ারিতে সড়কে ঝরল ৫৪৬ প্রাণ, ৩৭ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা

আপডেট সময় ০১:১৯:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশে বিদায়ী জানুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনার এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। মাসজুড়ে ৫৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪৬ জন নিহত এবং ১ হাজার ২০৪ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেলের মাধ্যমে। মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৩৭ দশমিক ৮৬ শতাংশই ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের বার্ষিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গণমাধ্যমে পাঠানো সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সই করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে ১৩২টি দুর্ঘটনায় ১৩৩ জন নিহত ও ৩২৮ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে; ২৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৮ জন।

দুর্ঘটনায় পতিত যানবাহনের ধরনে দেখা গেছে, বরাবরের মতো শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল (২৮.৪৬ শতাংশ)। এরপর রয়েছে ট্রাক-পিকআপ ও লরি (২৩.৬৪ শতাংশ), বাস (১৪.৩৫ শতাংশ), ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক (১৩.৬৩ শতাংশ) এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা (৫.৫৪ শতাংশ)।

নিহতদের মধ্যে বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১২৭ জন চালক, ৮৯ জন পথচারী, ৫৪ জন নারী, ৪৮ জন শিশু, ৫৭ জন শিক্ষার্থী, ২১ জন পরিবহন শ্রমিক এবং ৮ জন শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৫ সদস্য এবং ৪ জন চিকিৎসকও এই মিছিলে সামিল হয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সড়কের পাশাপাশি রেল ও নৌপথও ছিল অনিরাপদ। জানুয়ারি মাসে রেলপথে ৩৭টি দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত, ৬ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য মিলেছে। সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে সর্বমোট ৫৯৭টি দুর্ঘটনায় ৫৮৬ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৩৮ জন আহত হয়েছেন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে সড়ক পরিবহন খাতে নীতি ও কৌশলগত দুর্বলতা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, বেপরোয়া গতি এবং মহাসড়কে ছোট যানবাহনের (ইজিবাইক, মোটরসাইকেল) অবাধ চলাচলকে দায়ী করেছে।

একইসঙ্গে দুর্ঘটনা রোধে সংগঠনটি ১৪ দফা সুপারিশ পেশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, সিসি ক্যামেরা পদ্ধতিতে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ, মহাসড়কে সার্ভিস লেন নির্মাণ, দক্ষ চালক তৈরি এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ টাস্কফোর্স গঠন করা।