ঢাকা ০৬:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ববি সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজে বাস-মাহিন্দ্র সংঘর্ষে প্রাণহানি ১, আহত ৪ স্ত্রী পালিয়ে যাওয়ায় ৪০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করলেন স্বামী আমাদের নেতা মানবিক, কোনো বৈষম্য হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দল দুর্ভাগ্যবশত হাসিনার ভাষায় কথা বলছে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ভারতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ পরিবারের সঞ্জিতের ধর্মান্তর, বিয়ে, ২০ লাখ টাকা ও পিতৃপরিচয়ের জটিলতা ও প্রতারণা সালমান শাহ হত্যা মামলা : খলনায়ক ডনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন বালিয়াডাঙ্গীতে স্কুলের ৪৭ শতক জমি নিয়ে বিরোধ, উদ্ধারে মানববন্ধন সিলেট পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরে নিয়াজুর-সুবর্ণা দম্পতিকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ ডিজিটাল নম্বর প্লেটের নামে ১৫০০ কোটি টাকা আদায়, ৫৪ লাখ গ্রাহক বিপাকে
৫% কমিশন বাণিজ্য, ভুয়া বিল ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে টেন্ডার সিন্ডিকেট

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রোপলিটন জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ খাইরুল ইসলামকে ঘিরে একাধিক গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে বদলি বাণিজ্য পরিচালনা, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, নিম্নমানের কাজের বিল পাশ করানো, ভুয়া বিল তৈরি, পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং টেন্ডারপ্রাপ্তির বিনিময়ে কমিশন গ্রহণের মতো অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাববলয় তৈরি করে তিনি ঢাকা মহানগর অঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই নিয়ন্ত্রণের ফলে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন। অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে তিনি সরকারি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। বিভিন্ন প্রকল্পে কাজের বরাদ্দ, বিল অনুমোদন এবং টেন্ডার ব্যবস্থাপনায় প্রভাব খাটানোর মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেছেন। সুবিধাজনক স্থানে পদায়ন অথবা কম গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত প্রভাব কাজ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, একটি নির্দিষ্ট প্রশাসনিক বলয় তৈরি করে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলোতে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বসানোর চেষ্টা করেছেন। এর ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা কমে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দরপত্র প্রক্রিয়ায় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ব্যবস্থা কার্যকর থাকলেও বাস্তবে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বাইরে অন্য ঠিকাদারদের অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত করা হতো। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত হতো যাতে পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলোই শেষ পর্যন্ত কাজ পায়। এতে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সবচেয়ে গুরুতর নতুন অভিযোগ হলো— টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ৫ শতাংশ হারে কমিশন গ্রহণ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পেতে হলে ঠিকাদারদের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট হারে কমিশন নেওয়া হতো। অভিযোগ অনুযায়ী, টেন্ডার অনুমোদন, কাজের বরাদ্দ এবং বিল দ্রুত পাশ করানোর ক্ষেত্রে এই কমিশন ব্যবস্থার প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। একটি অঘোষিত নিয়ম হিসেবে প্রকল্পের আর্থিক মূল্যের নির্দিষ্ট অংশ কমিশন হিসেবে প্রদান করা হতো বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন। এতে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিভিন্ন প্রকল্পে বাস্তব কাজের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে বিল তৈরি করার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, প্রকল্পের অগ্রগতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিল প্রস্তুত করে তা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্ধারিত মান অনুসরণ না করে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে অবকাঠামোর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের কাজ হওয়া সত্ত্বেও তা গ্রহণ করে পূর্ণাঙ্গ বিল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, অসম্পূর্ণ বা নিম্নমানের কাজ সম্পন্ন হলেও প্রভাব খাটিয়ে দ্রুত বিল পাশ করানো হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিতভাবে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে অন্যান্য যোগ্য ঠিকাদাররা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই অভিযোগগুলোর কারণে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিষয়গুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই জরুরি। প্রয়োজনে স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা উচিত।

উল্লেখ্য, উপরোক্ত বিষয়গুলো অভিযোগ হিসেবে বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নিরূপণ সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ববি সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজে বাস-মাহিন্দ্র সংঘর্ষে প্রাণহানি ১, আহত ৪

৫% কমিশন বাণিজ্য, ভুয়া বিল ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

গণপূর্তের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে টেন্ডার সিন্ডিকেট

আপডেট সময় ১২:৪৩:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রোপলিটন জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ খাইরুল ইসলামকে ঘিরে একাধিক গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে বদলি বাণিজ্য পরিচালনা, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, নিম্নমানের কাজের বিল পাশ করানো, ভুয়া বিল তৈরি, পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং টেন্ডারপ্রাপ্তির বিনিময়ে কমিশন গ্রহণের মতো অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাববলয় তৈরি করে তিনি ঢাকা মহানগর অঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই নিয়ন্ত্রণের ফলে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন। অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে তিনি সরকারি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। বিভিন্ন প্রকল্পে কাজের বরাদ্দ, বিল অনুমোদন এবং টেন্ডার ব্যবস্থাপনায় প্রভাব খাটানোর মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেছেন। সুবিধাজনক স্থানে পদায়ন অথবা কম গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত প্রভাব কাজ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, একটি নির্দিষ্ট প্রশাসনিক বলয় তৈরি করে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলোতে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বসানোর চেষ্টা করেছেন। এর ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা কমে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দরপত্র প্রক্রিয়ায় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ব্যবস্থা কার্যকর থাকলেও বাস্তবে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বাইরে অন্য ঠিকাদারদের অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত করা হতো। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত হতো যাতে পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলোই শেষ পর্যন্ত কাজ পায়। এতে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সবচেয়ে গুরুতর নতুন অভিযোগ হলো— টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ৫ শতাংশ হারে কমিশন গ্রহণ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পেতে হলে ঠিকাদারদের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট হারে কমিশন নেওয়া হতো। অভিযোগ অনুযায়ী, টেন্ডার অনুমোদন, কাজের বরাদ্দ এবং বিল দ্রুত পাশ করানোর ক্ষেত্রে এই কমিশন ব্যবস্থার প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। একটি অঘোষিত নিয়ম হিসেবে প্রকল্পের আর্থিক মূল্যের নির্দিষ্ট অংশ কমিশন হিসেবে প্রদান করা হতো বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন। এতে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিভিন্ন প্রকল্পে বাস্তব কাজের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে বিল তৈরি করার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, প্রকল্পের অগ্রগতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিল প্রস্তুত করে তা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্ধারিত মান অনুসরণ না করে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে অবকাঠামোর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের কাজ হওয়া সত্ত্বেও তা গ্রহণ করে পূর্ণাঙ্গ বিল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, অসম্পূর্ণ বা নিম্নমানের কাজ সম্পন্ন হলেও প্রভাব খাটিয়ে দ্রুত বিল পাশ করানো হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিতভাবে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে অন্যান্য যোগ্য ঠিকাদাররা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই অভিযোগগুলোর কারণে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বিষয়গুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই জরুরি। প্রয়োজনে স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা উচিত।

উল্লেখ্য, উপরোক্ত বিষয়গুলো অভিযোগ হিসেবে বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নিরূপণ সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে।