ঢাকা ০২:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ৭ জন নতুন চিকিৎসক যোগদান

তৃণমূল মানুষের সহজ ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবার নতুন দিগন্ত কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে একসঙ্গে যোগদান করেছেন ৪৮তম বিসিএসের ৭ জন তরুণ চিকিৎসক। তাঁদের পদায়নের ফলে দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকট অনেকাংশে কাটবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নতুন ও পূর্বের চিকিৎসক মিলিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দ্বীপাঞ্চলের স্বাস্থ্যখাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের মাঝে আশার সঞ্চার

নতুন যোগদানকারী চিকিৎসকদের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি মহেশখালী উপজেলাতেই। অপর দুইজন পার্শ্ববর্তী পেকুয়া ও বাঁশখালী উপজেলার বাসিন্দা। নিজ এলাকার সন্তানরা নিজ জন্মভূমিতে চিকিৎসাসেবা দিতে ফিরে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ আনন্দ ও আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এলাকার বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত চিকিৎসকরা আরও আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।

চালু হয়েছে সিজারিয়ান ও সার্জারি সেবা
উল্লেখ্য, মাত্র এক সপ্তাহ আগে হাসপাতালে গর্ভবতী মায়েদের জন্য সিজারিয়ান অপারেশন ও জেনারেল সার্জারি সেবা চালু হয়েছে। এতদিন জটিল রোগী ও প্রসূতিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর বা চট্টগ্রামে যেতে হতো, যা ছিল সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। নতুন চিকিৎসকদের সংযুক্তির মাধ্যমে এসব সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারিত হবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা এখন নিজ এলাকাতেই তুলনামূলক উন্নত চিকিৎসা পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন যোগদানকারী চিকিৎসকরা
নবযোগদানকারী চিকিৎসকরা হলেন-ডা. শাহরিয়ার চৌধুরী রিফাত (বাঁশখালী),ডা. আবু জর গিফারী (পেকুয়া),ডা. রোকন উদ্দিন (ছোট মহেশখালী),ডা. আরমান কাদের (মাতারবাড়ী),ডা. আরিফুল ইসলাম (কালারমারছড়া),
ডা. এ আর এম ফয়জান কিবরিয়া (হোয়ানক) এবং
ডা. উম্মে সিজরাতুন তানবিন (হোয়ানক)।

বর্তমানে হাসপাতালে সরাসরি কর্মরত মহিলা চিকিৎসকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনজনে, যা নারী রোগীদের জন্য বিশেষভাবে ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

টিএইচও’র প্রত্যাশা
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডা. মাহাফুজুল হক জানান, নবযোগদানকৃত সবাই মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং উচ্চতর প্রশিক্ষণ কোর্সে অধ্যয়নরত রয়েছেন। তিনি বলেন, “তরুণ ও উদ্যমী চিকিৎসকদের সমন্বয়ে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। আমরা চাই দলগতভাবে কাজ করে দ্বীপাঞ্চলের মানুষের আস্থা অর্জন করতে।”
তিনি আরও জানান, হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা, নতুন এ তরুণ চিকিৎসকরা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দিন-রাত দায়িত্ব পালন করে হাসপাতালের সেবার মান বজায় রাখবেন। নিয়মিত উপস্থিতি, আন্তরিক ব্যবহার ও দায়িত্বশীল চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হলে মহেশখালীর মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
দ্বীপাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার এই নতুন সংযোজনকে ঘিরে আশাবাদের পাশাপাশি বাস্তবায়নের দিকেও সবার নজর। এখন দেখার বিষয়, নতুন এই চিকিৎসক টিম কতটা কার্যকরভাবে মহেশখালীর স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ৭ জন নতুন চিকিৎসক যোগদান

আপডেট সময় ০৮:২৫:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তৃণমূল মানুষের সহজ ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবার নতুন দিগন্ত কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে একসঙ্গে যোগদান করেছেন ৪৮তম বিসিএসের ৭ জন তরুণ চিকিৎসক। তাঁদের পদায়নের ফলে দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকট অনেকাংশে কাটবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নতুন ও পূর্বের চিকিৎসক মিলিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দ্বীপাঞ্চলের স্বাস্থ্যখাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের মাঝে আশার সঞ্চার

নতুন যোগদানকারী চিকিৎসকদের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি মহেশখালী উপজেলাতেই। অপর দুইজন পার্শ্ববর্তী পেকুয়া ও বাঁশখালী উপজেলার বাসিন্দা। নিজ এলাকার সন্তানরা নিজ জন্মভূমিতে চিকিৎসাসেবা দিতে ফিরে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ আনন্দ ও আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এলাকার বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত চিকিৎসকরা আরও আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।

চালু হয়েছে সিজারিয়ান ও সার্জারি সেবা
উল্লেখ্য, মাত্র এক সপ্তাহ আগে হাসপাতালে গর্ভবতী মায়েদের জন্য সিজারিয়ান অপারেশন ও জেনারেল সার্জারি সেবা চালু হয়েছে। এতদিন জটিল রোগী ও প্রসূতিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর বা চট্টগ্রামে যেতে হতো, যা ছিল সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। নতুন চিকিৎসকদের সংযুক্তির মাধ্যমে এসব সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারিত হবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা এখন নিজ এলাকাতেই তুলনামূলক উন্নত চিকিৎসা পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন যোগদানকারী চিকিৎসকরা
নবযোগদানকারী চিকিৎসকরা হলেন-ডা. শাহরিয়ার চৌধুরী রিফাত (বাঁশখালী),ডা. আবু জর গিফারী (পেকুয়া),ডা. রোকন উদ্দিন (ছোট মহেশখালী),ডা. আরমান কাদের (মাতারবাড়ী),ডা. আরিফুল ইসলাম (কালারমারছড়া),
ডা. এ আর এম ফয়জান কিবরিয়া (হোয়ানক) এবং
ডা. উম্মে সিজরাতুন তানবিন (হোয়ানক)।

বর্তমানে হাসপাতালে সরাসরি কর্মরত মহিলা চিকিৎসকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনজনে, যা নারী রোগীদের জন্য বিশেষভাবে ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

টিএইচও’র প্রত্যাশা
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডা. মাহাফুজুল হক জানান, নবযোগদানকৃত সবাই মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং উচ্চতর প্রশিক্ষণ কোর্সে অধ্যয়নরত রয়েছেন। তিনি বলেন, “তরুণ ও উদ্যমী চিকিৎসকদের সমন্বয়ে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। আমরা চাই দলগতভাবে কাজ করে দ্বীপাঞ্চলের মানুষের আস্থা অর্জন করতে।”
তিনি আরও জানান, হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা, নতুন এ তরুণ চিকিৎসকরা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দিন-রাত দায়িত্ব পালন করে হাসপাতালের সেবার মান বজায় রাখবেন। নিয়মিত উপস্থিতি, আন্তরিক ব্যবহার ও দায়িত্বশীল চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হলে মহেশখালীর মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
দ্বীপাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার এই নতুন সংযোজনকে ঘিরে আশাবাদের পাশাপাশি বাস্তবায়নের দিকেও সবার নজর। এখন দেখার বিষয়, নতুন এই চিকিৎসক টিম কতটা কার্যকরভাবে মহেশখালীর স্বাস্থ্যখাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম