জামায়াত ক্ষমতায় আসলে সবচেয়ে অবহেলিত জেলা কুড়িগ্রাম থেকে দেশের উন্নয়ন শুরু হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার দুপুরে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট কর্তৃক আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াত আমির বলেন, আমরা কোন পরিবার, গোষ্টিতন্ত্র কায়েম করতে চাই না, আমরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না,আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। তিনি বলেন গত ৫৩ বছরে কুড়িগ্রামকে অবহেলিত করে রাখা হয়েছে। আপনাদের ঘর থেকে আগামীতে প্রধানমন্ত্রী জন্ম নিবে ইনশাআল্লাহ। কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দুইটি ডিপার্টমেন্ট নিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে। এটা এই এলাকার মানুষের সাথে উপহাস।আমরা শিক্ষায় গুরুত্ব দিবো। সত্যিকারের শিক্ষাটা প্রতিটি আদম সন্তানকে আমরা বুঝিয়ে দিবো ইনশাআল্লাহ।
জামায়াতের আমির বলেন, আমি ফেলানীর মা-
বাবার সাথে দেখা করেছি। তাদের চোখে আমি অশ্রু দেখিনি রক্ত দেখেছি। আর যেন কোন ফেলানীকে জীবন দিতে না হয়। আমরা কথা দিচ্ছি আমাদের বন্ধু থাকবে কিন্তু কোথাও কোন প্রভু থাকবে না।
তিনি বলেন, আমরা কোন দলীয় সরকার কায়েম করতে চাই না।
তিনি বলেন, তিস্তা পাড় থেকে এই বিজয় শুরু হয়েছে। সারা বাংলায় এখন মুক্তির গণ জোয়ার শুরু হয়েছে। এতে দেশের মেযেরাই আমাদের শক্তি যুগিয়েছিল।
আমরা মাদেরকে কথা দিচ্ছি, আমাদের সবকিছুর বিনিময়ে আপনাদের চলাচলে শতভাগ নিরাপত্তা নিম্চিত করা হবে। মা-বোনদের সম্মান করা আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
৪ দিন আগে আমার এক্স আইডি হ্যাক করে যাতা চালানো হয়েছে। আর একটি দল তাইরে নাইরে বলে ঝাপিয়া পড়ছে। লজ্জা, ওদের চুনুপুটিসহ বড় বড় নেতারাও গান গাওযা শুরু করলো। আমাদের সাইবার টিম তাদেরকে শক্তভাবে ধরে ফেলেছে। অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সত্য ঢাকা থাকে না।
তিনি বলেন, রংপুর অঞ্চলের আবু সাইদ বলেছিল ভিতরে তুমুল ঝড় বুক পেতেছি গুলি কর। গুলি পিঠে নেয় নাই তিন তিনটি গুলি বুকে নিয়েছিল। এটাই বীরত্বের পরিচয়। এখান থেকে জুলাই আন্দোলন জ্বলে উঠেছিল। আপনারা বড়ই সৌভাগ্যবান।
আমরা আপনাদেরকে কথা দিচ্ছি আধিপত্যের বাদের বিরুদ্ধে আপসহীন যোদ্দা হিসেবে আবরার ফাহাদ প্রথমে মাহাদৎ বরণ করেছিল। তার রাস্তা ধরে আবু সাইদের মৃত্যু। সেই রাস্তা ধরে তাদের সহযোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হয়েছেন। একে একে তারা ১৪ শ জন শহীদ হয়েছে। এই ১৪ শ বীরের লাশ এখন এই জাতির ঘাড়ে। এই ১৪ শ জন বীরের রক্ত আমাদের নদীগুলো লাল করে দিয়েছে। আমরা এই বীরদের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করবো না।
তিনি বলেন, আমাদের নদীগুলোকে কঙ্কার বানিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সবগুলো চোর। নদী ভাঙ্গনরোধের জন্য যতগুলো বাজেট হয়েছে সব তাদের পেটে গিয়েছে। এই চোরেরা টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা। আমরা যদি সুযোগ পাই তাহলে ওদের বুকের হাত ঢুকিয়ে সব বের করে আনা হবে।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় কুড়িগ্রাম কলেজ মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকারের সভাপতিত্বে এনসিপি’র সদস্য সচিব আকতার হোসেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, ঢাবির সিনেট সদস্য আসিফ আব্দুল্লাহসহ ৪টি সংসদীয় আসনের প্রার্থী, কেন্দ্রীয় ও জেলা জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিল।
জেলার ৯টি উপজেলা থেকে লক্ষাধিক মানুষ জনসভায় অংশ গ্রহন করে। কানায় পূর্ণ হয়ে যায় কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠ। বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে ও বাসা বাড়ির ছাদেও মানুষের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে।
উল্লেখ্য, কুড়িগ্রামের সংসদীয় ৪টি আসনের মধ্যে কুড়িগ্রাম-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-২ এনসিপির ড. আতিক মুজাহিদ, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব আলম সালেহী ও কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
গোলাম মোস্তফা, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি 
























