সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্তের পথে। বেতন কমিশন ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই আংশিকভাবে নতুন স্কেল কার্যকরের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে জানানো হয়েছে।
এতে সরকারি চাকরিজীবীদের চিকিৎসা ভাতা ৩ হাজার ৫০০ টাকা বাড়িয়ে পাঁচ হাজার টাকা করার সুপারিশ করতে যাচ্ছে পে কমিশন। আগামী বুধবার (২১ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে জমা দেওয়া হবে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) পে কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, নবম পে স্কেলে দুই ক্যাটাগরিতে চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে। প্রথম ক্যাটাগরিতে যে সব চাকরিজীবীর বয়স ৪০ বছর কিংবা তার কম তাদের প্রতি মাসে চার হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হবে।
আর দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে যাদের বয়স ৪০ বছরের বেশি তাদের পাঁচ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করবে কমিশন।
পে কমিশনের একজন সদস্য বলেন, তরুণদের চেয়ে বয়স্কদের চিকিৎসা ভাতা কিছুটা বেশি করার সুপারিশ করা হচ্ছে। বয়স্কদের ওষুধ কিনতে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় হয়। এজন্য তাদের ভাতা কিছুটা বেশি করার সুপারিশ করা হচ্ছে। অবসরের পর একজন সরকারি চাকরিজীবী মাসিক ৫ হাজার টাকা করেই চিকিৎসা ভাতা পাবেন।
বর্তমানে ২০১৫ সালের পে স্কেল অনুযায়ী ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা। নবম গ্রেডে একজন বিসিএস কর্মকর্তা পান ২২ হাজার টাকা। আর সর্বোচ্চ পর্যায়ে সচিবদের মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে ৮৬ হাজার টাকার মধ্যে।
এদিকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় থাকলেও অর্থ মন্ত্রণালয় বাজেটে অর্থের সংস্থান রেখেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৬ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি।
অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, মূল বেতন বা ভাতার যেকোনো একটি জানুয়ারি থেকে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকি অংশ পরবর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
অনলাইন ডেস্ক 























