সংবাদ শিরোনাম ::
অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ৯নং ওয়ার্ডের জয় কালিহাতীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

ব্যবসায়ীরা নয়, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে চাই: আসিফ মাহমুদ

কালো টাকা ও ঋণখেলাপি ব্যবসায়ীদের অর্থনির্ভর নির্বাচনী রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি কেন্দ্রীয়ভাবে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেছেন, জনগণের ছোট ছোট অনুদানেই তারা নির্বাচন করতে চান, যাতে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কেবল জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এক জায়গা থেকে নিশ্চিত করতেই কেন্দ্রীয়ভাবে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। দাতারা চাইলে সরাসরি জাতীয় নাগরিক পার্টিকে অনুদান দিতে পারবেন, আবার চাইলে নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীকে সহায়তা করতে পারবেন। আমাদের পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই তহবিলে কত টাকা এলো, কোথায় খরচ হলো— সবকিছু আমরা প্রতি বছর অডিটের মাধ্যমে যাচাই করে পূর্ণাঙ্গ অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করব, যা দেশবাসীর জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে তারা যখন অন্য দলগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা কিংবা নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন নিজেদের ক্ষেত্রেও সেই একই মানদণ্ড বজায় রাখা জরুরি। জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থীদের মধ্যে কেউই হাজার কোটি বা শত শত কোটি টাকার ঋণখেলাপি নন, কারও বিদেশি নাগরিকত্ব বা বিদেশে বাড়িঘর নেই। এটাই আমাদের রাজনীতির একটি মৌলিক পার্থক্য।

দলের প্রার্থীদের সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, অধিকাংশ প্রার্থী জুলাই অভ্যুত্থানের পর সদ্য চাকরিতে যোগ দেওয়া তরুণ পেশাজীবী, যারা চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে এসেছেন, অথবা পড়াশোনা শেষ করা সাবেক শিক্ষার্থী। প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনা করলেই দেখা যাবে— হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া কেউই আগে থেকে কোটিপতি বা আর্থিকভাবে খুব বেশি সচ্ছল নন। ফলে জনগণের সমর্থনই তাদের প্রধান শক্তি।

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, কোনো প্রার্থী যদি ব্যবসায়ী বা ঋণখেলাপিদের অর্থে নির্বাচিত হন, তাহলে সংসদে গিয়ে সেই অর্থদাতাদের স্বার্থ রক্ষার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আমরা সেই রাজনীতির অংশ হতে চাই না।

জনগণের পরামর্শে নীতি নির্ধারণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি জানান, ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক নীতি থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে জনগণের পরামর্শ, সমর্থন ও সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে যেতে চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি। আমাদের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিশ্চিত করা হবে।

বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির যে প্রার্থীকে বা দলকে তারা উপযুক্ত মনে করেন, সেখানে অনুদান দিয়ে এই নির্বাচনী বৈতরণি পার হতে সহযোগিতা করুন। আপনাদের অর্থ, সহযোগিতা ও সমর্থনে নির্বাচিত হলে আমরা সংসদে আপনাদের কণ্ঠস্বরই তুলে ধরব।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের

ব্যবসায়ীরা নয়, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে চাই: আসিফ মাহমুদ

আপডেট সময় ০৪:২৩:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

কালো টাকা ও ঋণখেলাপি ব্যবসায়ীদের অর্থনির্ভর নির্বাচনী রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি কেন্দ্রীয়ভাবে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেছেন, জনগণের ছোট ছোট অনুদানেই তারা নির্বাচন করতে চান, যাতে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কেবল জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এক জায়গা থেকে নিশ্চিত করতেই কেন্দ্রীয়ভাবে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। দাতারা চাইলে সরাসরি জাতীয় নাগরিক পার্টিকে অনুদান দিতে পারবেন, আবার চাইলে নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীকে সহায়তা করতে পারবেন। আমাদের পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই তহবিলে কত টাকা এলো, কোথায় খরচ হলো— সবকিছু আমরা প্রতি বছর অডিটের মাধ্যমে যাচাই করে পূর্ণাঙ্গ অডিট রিপোর্ট প্রকাশ করব, যা দেশবাসীর জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে তারা যখন অন্য দলগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা কিংবা নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন নিজেদের ক্ষেত্রেও সেই একই মানদণ্ড বজায় রাখা জরুরি। জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থীদের মধ্যে কেউই হাজার কোটি বা শত শত কোটি টাকার ঋণখেলাপি নন, কারও বিদেশি নাগরিকত্ব বা বিদেশে বাড়িঘর নেই। এটাই আমাদের রাজনীতির একটি মৌলিক পার্থক্য।

দলের প্রার্থীদের সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, অধিকাংশ প্রার্থী জুলাই অভ্যুত্থানের পর সদ্য চাকরিতে যোগ দেওয়া তরুণ পেশাজীবী, যারা চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে এসেছেন, অথবা পড়াশোনা শেষ করা সাবেক শিক্ষার্থী। প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনা করলেই দেখা যাবে— হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া কেউই আগে থেকে কোটিপতি বা আর্থিকভাবে খুব বেশি সচ্ছল নন। ফলে জনগণের সমর্থনই তাদের প্রধান শক্তি।

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, কোনো প্রার্থী যদি ব্যবসায়ী বা ঋণখেলাপিদের অর্থে নির্বাচিত হন, তাহলে সংসদে গিয়ে সেই অর্থদাতাদের স্বার্থ রক্ষার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আমরা সেই রাজনীতির অংশ হতে চাই না।

জনগণের পরামর্শে নীতি নির্ধারণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি জানান, ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক নীতি থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে জনগণের পরামর্শ, সমর্থন ও সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে যেতে চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি। আমাদের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিশ্চিত করা হবে।

বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির যে প্রার্থীকে বা দলকে তারা উপযুক্ত মনে করেন, সেখানে অনুদান দিয়ে এই নির্বাচনী বৈতরণি পার হতে সহযোগিতা করুন। আপনাদের অর্থ, সহযোগিতা ও সমর্থনে নির্বাচিত হলে আমরা সংসদে আপনাদের কণ্ঠস্বরই তুলে ধরব।