দিনাজপুরের বাজারে হঠাৎ করে নতুন আলুর দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে নতুন আলুর দাম বাড়ায় পুরাতন আলুর চাহিদা বেড়েছে। তবে পুরাতন আলুর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। রবিবার (১১ জানুয়ারি) দিনাজপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এই দৃশ্য দেখা গেছে। বাজারে প্রকার ভেদে নতুন আলু ৩০ টাকা থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর পুরাতন আলু বিক্রি হচ্ছে ১২ টাকা কেজি। তবে পাড়া মহল্লায় দোকান গুলোতে নুতন আলু জাত ভেদে ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
কৃষক ও ব্যবসায়ীরা প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশায় নতুন আলু ক্ষেত থেকে তুলার জন্য শ্রমিক না পাওয়াকে দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছেন।
আবহাওয়া অফিসের সূত্র মতে, দিনাজপুর জেলায় টানা সাত দিন ধরে চলছে মৃদু শৈত্য প্রবাহ চলছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা কাছাকাছি হওয়ায় প্রচণ্ড শীত অনুভূত হচ্ছে। হাড় কাঁপানো এই শীতের কারণে মানুষ কোনো কাজেই ঠিক মত করতে পারছেন না। ক্ষেতে খোলা মাঠে কাজ করা আরো কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে করে কৃষি শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় কনকনে শীতে আগাম জাতের আলু উত্তোলন করার জন্য পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে চাহিদার তুলনায় আলু উত্তোলন কমে গেছে। যতটুকু উত্তোলন হচ্ছে তা ট্রাকে লোড হয়ে ঢাকা চলে যাচ্ছে। সে কারণে দিনাজপুরের বাজারে আলু সরবরাহ কমেছে।
অনেক সবজির দোকানে নতুন আলু নেই। আর এই সুযোগে বাজারে জাতভেদে আলুর দাম কেজিতে ১০ টাকা থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্টারিস ৭ জাতেল আলু বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি, যা দুদিন আগেও ছিল ১৫ টাকা কেজি, দেশী গোল আলু ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে যা দুদিন আগে বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকা কেজিতে, সাদা চল্লিশা আলু দুদিন আগেও বিক্রি হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, তা আজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা। এছাড়াও
বিনা সেভেন. সান সাইন, দেশি শাখিতা আলু বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি। পাড়া মহল্লার মুদি দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে।
সদর উপজেলার ঘুঘুডাঙ্গা গ্রামের কৃষক জুয়েল ইসলাম বলেন, বাজারে যেভাবে দাম বেড়েছে সে তুলনায় ক্ষেতে দাম বাড়েনি। ক্ষেতে আলু জাতভেদে সর্বচ্চো ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাত বদলে আলুর দাম দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। উপশহর এলাকার মুদি তোকানদার আমির হামজা জানান, বাজারে আলুর দাম বেড়েছে। আমরা বেশি দামে কিনছি, বেশি দামে বিক্রি করছি। আজকে সাদা চল্লিশা আলু ৫০ টাকা কেজি বিক্রি করছি।
শহরের সবচেয়ে বড় কাঁচা বাজার বাহাদুর বাজারে আলুর অনেক পাইকারি দোকান বন্ধ রয়েছে। বাজারে আলু সরবরাহ কমেছে। তাই বেশি দামে আলু বিক্রি হচ্ছে। ৩০ টাকা কেজির নিচে নতুন আলু নেই। তাই মানুষ বাধ্য হয়ে পুরাতন আলু কিনছে। রুপম নামে এক ক্রেতা জানান, নতুন আলু দাম বেশি হওয়ায় তিনি ৬০ টাকা দিয়ে ৫ কেজি পুরাতন আলু নিয়েছেন।
আলুর পাইকারি ব্যবসায়ী আজাহার আলী জানান, শীতের কারণে কৃষকরা আলু উত্তোলন করতে পারছেন না। সে কারণে বাজারে আলু সরবহার নেই, বড় ব্যবসায়ীরা যতটুকু আলু পাচ্ছেন তা দিয়ে ঢাকার বড় ব্যবসায়ীদেরকে ঠিক রাখার চেষ্টা করছেন। বাজারে আলু সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। পুরাতন আলু দিয়ে ক্রেতার চাহিদা মেটানো হচ্ছে। বাজারে নতুন আলুর দাম বাড়লেও পুরাতন আলু দাম বাড়েনি। এখনো খুচরা ১২ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















