ঢাকা ০১:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৫ শতাংশ কমিশন পেলেই কাজ দেওয়া হয় ঠিকাদারকে

এক বছরেই ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন রেল কর্মকর্তা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৩:০৪:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৪৩ বার পড়া হয়েছে

রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক তথা চিফ কন্ট্রোলার অব স্টোরস (সিসিএস) প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের জিম্মি করে ৫ শতাংশ হারে কমিশন আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি প্রকাশ হওয়া একটি ভিডিওতে এমন তথ্য দিয়েছেন একই দপ্তরের সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (ক্রয়-২) মো. শরিফুল ইসলাম। তিনি বেলাল হোসেন সরকারের কমিশনের টাকা ঠিকাদারদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতেন। যেসব ঠিকাদার কমিশনের টাকা দিতেন, তারাই সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ পেতেন। এই হিসাবে গত এক বছরে এই কর্মকর্তা অন্তত ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। যদিও ভিডিওটি প্রকাশ হওয়ার পর বেলাল হোসেন সরকারের ‘কালেক্টর’ হিসাবে পরিচিত শরিফুল ইসলামকে রোববার ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। তবে অদৃশ্য কারণে সিসিএস বেলাল হোসেন সরকার রয়েছেন বহাল তবিয়তে। কমিশনের টাকা বেলাল হোসেনের নামে আদায় হলেও রেলের ঊর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট অসাধু কর্মকর্তারাও এই টাকার ভাগ পান বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, রেলওয়ের কারখানাগুলোর মেরামত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক উৎসের যন্ত্রাংশ, লোকোমোটিভ যন্ত্রাংশ, ডেমু যন্ত্রাংশ, রোলিং স্টক বিয়ারিং, ক্যারেজ ও ওয়াগনের যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য বিশেষায়িত পণ্য তালিকাভুক্তকরণের মাধ্যমে ক্রয় ও সংগ্রহের কাজ করে সিসিএস দপ্তর। প্রতি অর্থবছরে সিসিএস দপ্তরে কমপক্ষে ২০০ কোটি টাকার কেনাকাটা হয়। আর এই কেনাকাটা নিয়ে রমরমা কমিশন বাণিজ্য চলে আসছে। সিসিএস হিসাবে বেলাল হোসেন সরকার কমিশন বাণিজ্য করছেন। তবে তার আগে যারা এই দায়িত্বে ছিলেন, তাদের মধ্যে অসাধু কর্মকর্তারাও এমন বাণিজ্য করে এসেছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর সিসিএস হিসাবে যোগদান করেন তিনি। যোগদান করেই যারা নির্ধারিত পাঁচ শতাংশ হারে কমিশন দিয়েছিলেন, তারাই ওই বছরের বিল হাতে পেয়েছেন সঠিক সময়ে। এরপর শুরু হয় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সরবরাহ। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পরও এলটিএম (সীমিত দরপত্র পদ্ধতি) টেন্ডারের মাধ্যমে আরও অন্তত ১০০ কোটি টাকার কাজ করিয়েছেন বেলাল হোসেন সরকার। তবে সেসব কাজ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তারিখে দেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও যারা ৫ শতাংশ হারে কমিশন দিয়েছেন তারাই কাজ পেয়েছে। এই দুই অর্থবছরের কাজ এবং এলটিএম টেন্ডারের মাধ্যমে অন্তত ৪০০ কোটি টাকার কাজ করেছেন বেলাল হোসেন। আর এই পরিমাণ কাজের মাধ্যমে ৫ শতাংশ হারে হাতিয়ে নিয়েছেন ২০ কোটি টাকা!
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট ‘দ্য জায়ান্ট ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে Wick ASSY নামের রেলের একটি যন্ত্রাংশ বা আইটেম সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতিটির দাম ১৮ হাজার ৯৫০ টাকা করে ৪৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এ টাকা পেতে ৫ শতাংশ হারে ২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা কমিশন নিয়েছেন বেলাল হোসেন। একই সময়ে দ্য জায়ান্ট ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে আরও একটি কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি Wick Lubricator ASM নামে অন্য একটি আইটেম সরবরাহ করেছে। যার প্রতিটি ২৯ হাজার ২১০ টাকা করে ১৭০ পিসের দাম নেয় ৪৯ লাখ ৬৫ হাজার ৭০০ টাকা। পরের মাস অর্থাৎ সেপ্টেম্বরেও একই প্রতিষ্ঠান থেকে আরও ১২০ পিস Wick Lubricator ASM সরবরাহ করা হয়। এহসান এন্টারপ্রাইজ সরবরাহ করেছে Sleve Screw With cross slot নামে পৃথক একটি আইটেম। ১১৫ পিস আইটেমের দাম পড়েছে ৪৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। সোনালী ট্রেডার্স সরবরাহ করেছে Speed time distance recorder। তিনটি আইটেমের দাম পড়েছে ৪৮ লাখ টাকা। এ ধরনের বিদেশি আইটেমের ক্ষেত্রে অনেক ঠিকাদার সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে দেশীয় আইটেম সরবরাহ করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন স্টেশনের মালপত্র কেনাকাটায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিওএস) বেলাল হোসেন সরকার। ২০২০ সালে করোনা শুরু হলে পূর্বাঞ্চলের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া ছাড়াই কোভিড-১৯ প্রতিরোধমূলক সুরক্ষা সরঞ্জাম কেনা এবং সেগুলো নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি মূল্যে কেনা নিয়ে অভিযোগ ওঠে। এরপর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে রেলপথ মন্ত্রণালয়। বেলাল হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে নিজের পছন্দমতো কয়েকজন ঠিকাদারের মাধ্যমে পণ্য ক্রয়ে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। সেসময় ওই কেনাকাটার সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের ২১ জন কর্মকর্তা জড়িত বলে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি। পরে ২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বাংলাদেশ রেলওয়ের সচিব সেলিম রেজা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন সরকারকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এরপর তিনি বেশ কিছুদিন আত্মগোপনে চলে যান।
সম্প্রতি প্রকাশ হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (ক্রয়-২) মো. শরিফুল ইসলাম এক ঠিকাদারকে বলেন, ‘সিসিএস স্যার ফাইভ পার্সেন্ট করেই নেয়। আপনার আগে যারা কাজ করেছে সবাই দিয়েছে। আপনাকেও দিতে হবে। না দিলে বিল-টেন্ডার দুটোই আটকে যাবে। ফাইভ পার্সেন্ট না দিলে কাজ পাবেন না।’
পাঁচ শতাংশ কমিশন নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মোবাইল ফোনে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (পাহাড়তলী) প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন সরকার বলেন, ‘এগুলো সব মিথ্যা ও বানোয়াট। ঠিক আছে ভাই রাখি।’ এরপর তিনি সংযোগ কেটে দেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ শতাংশ কমিশন পেলেই কাজ দেওয়া হয় ঠিকাদারকে

এক বছরেই ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন রেল কর্মকর্তা

আপডেট সময় ০৩:০৪:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক তথা চিফ কন্ট্রোলার অব স্টোরস (সিসিএস) প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের জিম্মি করে ৫ শতাংশ হারে কমিশন আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি প্রকাশ হওয়া একটি ভিডিওতে এমন তথ্য দিয়েছেন একই দপ্তরের সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (ক্রয়-২) মো. শরিফুল ইসলাম। তিনি বেলাল হোসেন সরকারের কমিশনের টাকা ঠিকাদারদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতেন। যেসব ঠিকাদার কমিশনের টাকা দিতেন, তারাই সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ পেতেন। এই হিসাবে গত এক বছরে এই কর্মকর্তা অন্তত ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। যদিও ভিডিওটি প্রকাশ হওয়ার পর বেলাল হোসেন সরকারের ‘কালেক্টর’ হিসাবে পরিচিত শরিফুল ইসলামকে রোববার ঢাকায় বদলি করা হয়েছে। তবে অদৃশ্য কারণে সিসিএস বেলাল হোসেন সরকার রয়েছেন বহাল তবিয়তে। কমিশনের টাকা বেলাল হোসেনের নামে আদায় হলেও রেলের ঊর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট অসাধু কর্মকর্তারাও এই টাকার ভাগ পান বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, রেলওয়ের কারখানাগুলোর মেরামত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক উৎসের যন্ত্রাংশ, লোকোমোটিভ যন্ত্রাংশ, ডেমু যন্ত্রাংশ, রোলিং স্টক বিয়ারিং, ক্যারেজ ও ওয়াগনের যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য বিশেষায়িত পণ্য তালিকাভুক্তকরণের মাধ্যমে ক্রয় ও সংগ্রহের কাজ করে সিসিএস দপ্তর। প্রতি অর্থবছরে সিসিএস দপ্তরে কমপক্ষে ২০০ কোটি টাকার কেনাকাটা হয়। আর এই কেনাকাটা নিয়ে রমরমা কমিশন বাণিজ্য চলে আসছে। সিসিএস হিসাবে বেলাল হোসেন সরকার কমিশন বাণিজ্য করছেন। তবে তার আগে যারা এই দায়িত্বে ছিলেন, তাদের মধ্যে অসাধু কর্মকর্তারাও এমন বাণিজ্য করে এসেছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর সিসিএস হিসাবে যোগদান করেন তিনি। যোগদান করেই যারা নির্ধারিত পাঁচ শতাংশ হারে কমিশন দিয়েছিলেন, তারাই ওই বছরের বিল হাতে পেয়েছেন সঠিক সময়ে। এরপর শুরু হয় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সরবরাহ। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পরও এলটিএম (সীমিত দরপত্র পদ্ধতি) টেন্ডারের মাধ্যমে আরও অন্তত ১০০ কোটি টাকার কাজ করিয়েছেন বেলাল হোসেন সরকার। তবে সেসব কাজ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তারিখে দেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও যারা ৫ শতাংশ হারে কমিশন দিয়েছেন তারাই কাজ পেয়েছে। এই দুই অর্থবছরের কাজ এবং এলটিএম টেন্ডারের মাধ্যমে অন্তত ৪০০ কোটি টাকার কাজ করেছেন বেলাল হোসেন। আর এই পরিমাণ কাজের মাধ্যমে ৫ শতাংশ হারে হাতিয়ে নিয়েছেন ২০ কোটি টাকা!
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট ‘দ্য জায়ান্ট ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে Wick ASSY নামের রেলের একটি যন্ত্রাংশ বা আইটেম সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতিটির দাম ১৮ হাজার ৯৫০ টাকা করে ৪৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এ টাকা পেতে ৫ শতাংশ হারে ২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা কমিশন নিয়েছেন বেলাল হোসেন। একই সময়ে দ্য জায়ান্ট ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে আরও একটি কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি Wick Lubricator ASM নামে অন্য একটি আইটেম সরবরাহ করেছে। যার প্রতিটি ২৯ হাজার ২১০ টাকা করে ১৭০ পিসের দাম নেয় ৪৯ লাখ ৬৫ হাজার ৭০০ টাকা। পরের মাস অর্থাৎ সেপ্টেম্বরেও একই প্রতিষ্ঠান থেকে আরও ১২০ পিস Wick Lubricator ASM সরবরাহ করা হয়। এহসান এন্টারপ্রাইজ সরবরাহ করেছে Sleve Screw With cross slot নামে পৃথক একটি আইটেম। ১১৫ পিস আইটেমের দাম পড়েছে ৪৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। সোনালী ট্রেডার্স সরবরাহ করেছে Speed time distance recorder। তিনটি আইটেমের দাম পড়েছে ৪৮ লাখ টাকা। এ ধরনের বিদেশি আইটেমের ক্ষেত্রে অনেক ঠিকাদার সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে দেশীয় আইটেম সরবরাহ করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন স্টেশনের মালপত্র কেনাকাটায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিওএস) বেলাল হোসেন সরকার। ২০২০ সালে করোনা শুরু হলে পূর্বাঞ্চলের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া ছাড়াই কোভিড-১৯ প্রতিরোধমূলক সুরক্ষা সরঞ্জাম কেনা এবং সেগুলো নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি মূল্যে কেনা নিয়ে অভিযোগ ওঠে। এরপর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে রেলপথ মন্ত্রণালয়। বেলাল হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে নিজের পছন্দমতো কয়েকজন ঠিকাদারের মাধ্যমে পণ্য ক্রয়ে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। সেসময় ওই কেনাকাটার সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের ২১ জন কর্মকর্তা জড়িত বলে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি। পরে ২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বাংলাদেশ রেলওয়ের সচিব সেলিম রেজা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন সরকারকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এরপর তিনি বেশ কিছুদিন আত্মগোপনে চলে যান।
সম্প্রতি প্রকাশ হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (ক্রয়-২) মো. শরিফুল ইসলাম এক ঠিকাদারকে বলেন, ‘সিসিএস স্যার ফাইভ পার্সেন্ট করেই নেয়। আপনার আগে যারা কাজ করেছে সবাই দিয়েছে। আপনাকেও দিতে হবে। না দিলে বিল-টেন্ডার দুটোই আটকে যাবে। ফাইভ পার্সেন্ট না দিলে কাজ পাবেন না।’
পাঁচ শতাংশ কমিশন নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মোবাইল ফোনে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (পাহাড়তলী) প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন সরকার বলেন, ‘এগুলো সব মিথ্যা ও বানোয়াট। ঠিক আছে ভাই রাখি।’ এরপর তিনি সংযোগ কেটে দেন।