ঢাকা ০৫:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৩ টন সমপরিমাণ যৌন উত্তেজক ওষুধ জব্দ, এআই দিয়ে কণ্ঠ নকল করে প্রতারণা লালপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ এর উদ্বোধন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে ‘তুরাপ’ প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়িয়েছে মালয়েশিয়া মেয়ের স্বামীর সঙ্গে শাশুড়ী ওমরায় যেতে পারবেন? রামপালে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে অপপ্রচার: সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবাদ ৯৯৯-এ ফোন, ঘরের দরজা ভেঙে শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান আবারও প্রমাণ করেছে, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ’ জামায়াত এমপির ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ৯ যুদ্ধের ডামাডোল পেরিয়ে হজে যাচ্ছেন ৩০ হাজার ইরানি ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে বিসিএস ক্যাডার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা

মুহাম্মদ মহিউদ্দিন। বাবার নাম মোঃ আমানত উল্লাহ। তার বাড়ি ভৈবর উপজেলার আকবরনগর গ্রামে। তার বাবা একজন সনদধারী মুক্তিযোদ্ধা হলেও এলাকাবাসীর অভিযোগ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করেই জালিয়াতি করে সনদ নিয়ে সরকারের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে আর্থিক সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন তার বাবা। সেই সূত্রে মহিউদ্দিন তার বাবার সনদ নিয়ে বিশেষ কোটায় চাকরি পান ৩১ তম বিসিএসে। বর্তমানে তিনি কাস্টমস এক্সাইজ ভ্যাট কমিশনারেট, রংপুরে কর্মরত।

জানা যায়, অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মহসিন হলে ছাত্রলীগ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মহিউদ্দিন। এছাড়া তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতিও ছিলেন। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহাগ ও সিদ্দিকী নাজমুল আলমের আমলে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসিন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

তিনি তার রাজনৈতিক পদ-পদবি ও বাবার মুক্তিযোদ্ধা উপাধি ব্যবহার করে বিভিন্ন লবিংয়ের মাধ্যমে তার বাবার নামে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ বানান এবং এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সার্ভিস কাস্টমস কর্মকর্তা (বিসিএস) হতে সক্ষম হন। আলাউদ্দীনের চেরাগ হাতে পাওয়ার মতো এরপরই বদলে যায় তার জীবন।

কাস্টমসে চাকরির সুবাদে বা তার চাকরির পদ ব্যবহার করে তিনি নিজ এলাকায় প্রায় ১ কোটি টাকা খরচ করে দৃষ্টিনন্দন বাড়ি নির্মাণ, রাজধানীর ধানমন্ডিতে প্রায় ৬-৮ কোটি টাকা দিয়ে একটি অভিজাত একটি ফ্ল্যাট। তার ঢাকার আবাসিক ফ্লাটের ডিপিডিসি আইডি নম্বর ০৯০১১৮৭৯৩৭ বলে জানা যায়। এছাড়া গাজীপুরে ৯.২ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন। রয়েছে এক্স-করলা গাড়ি, যার নাম্বার ঢাকা মেট্রো- গ- ৪৭১৩০২। তার ডাচ বাংলা, অগ্রণী ও বিকাশ নম্বরে অবৈধ লেনদেনের খোঁজ পাওয়া গেছে। এছাড়াও নামে-বেনামে তার অনেক সম্পদের খোঁজ মিলেছে, যা এই স্বল্প সময়ে একজন ক্যাডার কর্মকর্তার ন্যায্য আয় দিয়ে অর্জন করা সম্ভব নয়।

এখানেই শেষ নয়, মুহাম্মদ মহিউদ্দিন তার রাজনৈতিক প্রভাব ও বাবার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে তার ছোট ভাই নুরুদ্দীনকেও বাংলাদেশ রেলওয়েতে চাকরি পাইয়ে দেন।

তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কাজকর্মে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ করেন কাস্টমসের কর্মকর্তাদের একটি অংশ। তাদের ভাষ্য, এই কর্মকর্তা আওয়ামী সরকারের শাসন আমলে কাস্টমস দপ্তরের ভেতরে তিনি ক্ষমতাধর নেতা পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে দাপটের সঙ্গে চলেছেন। কাস্টমসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সব অভিযোগ যাচাই সাপেক্ষে প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাস্টমস কর্মকর্তা মুহাম্মদ মহিউদ্দিনের বাবার মুক্তিযোদ্ধা সনদ ভুয়া-এ অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার সব কাগজপত্র সঠিক রয়েছে। আমার চাকরির তেরো-চৌদ্দ বছর পর হঠাৎ এই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে কেন তা বোধগম্য নয়। যথাযথ কর্তৃপক্ষের যাচাই বাছাই শেষ করেই আমি চাকরিতে যোগদান করেছি। এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার অভিযোগ রয়েছে এ প্রশ্ন শুনেই তিনি কোনো বক্তব্য না দিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৩ টন সমপরিমাণ যৌন উত্তেজক ওষুধ জব্দ, এআই দিয়ে কণ্ঠ নকল করে প্রতারণা

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে বিসিএস ক্যাডার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা

আপডেট সময় ০১:০৮:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

মুহাম্মদ মহিউদ্দিন। বাবার নাম মোঃ আমানত উল্লাহ। তার বাড়ি ভৈবর উপজেলার আকবরনগর গ্রামে। তার বাবা একজন সনদধারী মুক্তিযোদ্ধা হলেও এলাকাবাসীর অভিযোগ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করেই জালিয়াতি করে সনদ নিয়ে সরকারের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে আর্থিক সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন তার বাবা। সেই সূত্রে মহিউদ্দিন তার বাবার সনদ নিয়ে বিশেষ কোটায় চাকরি পান ৩১ তম বিসিএসে। বর্তমানে তিনি কাস্টমস এক্সাইজ ভ্যাট কমিশনারেট, রংপুরে কর্মরত।

জানা যায়, অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহাম্মদ মহসিন হলে ছাত্রলীগ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মহিউদ্দিন। এছাড়া তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতিও ছিলেন। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহাগ ও সিদ্দিকী নাজমুল আলমের আমলে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসিন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

তিনি তার রাজনৈতিক পদ-পদবি ও বাবার মুক্তিযোদ্ধা উপাধি ব্যবহার করে বিভিন্ন লবিংয়ের মাধ্যমে তার বাবার নামে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ বানান এবং এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সার্ভিস কাস্টমস কর্মকর্তা (বিসিএস) হতে সক্ষম হন। আলাউদ্দীনের চেরাগ হাতে পাওয়ার মতো এরপরই বদলে যায় তার জীবন।

কাস্টমসে চাকরির সুবাদে বা তার চাকরির পদ ব্যবহার করে তিনি নিজ এলাকায় প্রায় ১ কোটি টাকা খরচ করে দৃষ্টিনন্দন বাড়ি নির্মাণ, রাজধানীর ধানমন্ডিতে প্রায় ৬-৮ কোটি টাকা দিয়ে একটি অভিজাত একটি ফ্ল্যাট। তার ঢাকার আবাসিক ফ্লাটের ডিপিডিসি আইডি নম্বর ০৯০১১৮৭৯৩৭ বলে জানা যায়। এছাড়া গাজীপুরে ৯.২ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন। রয়েছে এক্স-করলা গাড়ি, যার নাম্বার ঢাকা মেট্রো- গ- ৪৭১৩০২। তার ডাচ বাংলা, অগ্রণী ও বিকাশ নম্বরে অবৈধ লেনদেনের খোঁজ পাওয়া গেছে। এছাড়াও নামে-বেনামে তার অনেক সম্পদের খোঁজ মিলেছে, যা এই স্বল্প সময়ে একজন ক্যাডার কর্মকর্তার ন্যায্য আয় দিয়ে অর্জন করা সম্ভব নয়।

এখানেই শেষ নয়, মুহাম্মদ মহিউদ্দিন তার রাজনৈতিক প্রভাব ও বাবার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে তার ছোট ভাই নুরুদ্দীনকেও বাংলাদেশ রেলওয়েতে চাকরি পাইয়ে দেন।

তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কাজকর্মে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ করেন কাস্টমসের কর্মকর্তাদের একটি অংশ। তাদের ভাষ্য, এই কর্মকর্তা আওয়ামী সরকারের শাসন আমলে কাস্টমস দপ্তরের ভেতরে তিনি ক্ষমতাধর নেতা পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে দাপটের সঙ্গে চলেছেন। কাস্টমসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সব অভিযোগ যাচাই সাপেক্ষে প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাস্টমস কর্মকর্তা মুহাম্মদ মহিউদ্দিনের বাবার মুক্তিযোদ্ধা সনদ ভুয়া-এ অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার সব কাগজপত্র সঠিক রয়েছে। আমার চাকরির তেরো-চৌদ্দ বছর পর হঠাৎ এই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে কেন তা বোধগম্য নয়। যথাযথ কর্তৃপক্ষের যাচাই বাছাই শেষ করেই আমি চাকরিতে যোগদান করেছি। এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার অভিযোগ রয়েছে এ প্রশ্ন শুনেই তিনি কোনো বক্তব্য না দিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।