ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটে লড়তে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে ১১জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। এ মধ্যে মূল আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আবদুল মান্নান ও একই দলের মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন। আবদুল মান্নান মনোনয়ন পাওয়ার পর কাজী নাজমুলের অনুসারীরা প্রার্থিতা পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করেন। এই দুই প্রার্থীর হলফনামা ঘেঁটে দেখা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজমুল হোসেন তুলনামূলক ধনী।
রয়েছে বাড়ি, গাড়ি ও নগদ টাকা। নিজের ব্যবসার আয় থেকেই এবারের ভোটে ৪০ লাখ টাকা ব্যয় করবেন তিনি। অন্যদিকে আয় ও সম্পদে পিছিয়ে থাকা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবদুল মান্নান শ্যালক, ভাগিনাসহ স্বজনদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নির্বাচনী ব্যয় মেটাবেন। অবশ্য তিনিও ৪০ টাকা ব্যয় করবেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
আইনজীবী বিএনপি প্রার্থীর চেয়ে একই পেশায় থাকা জামায়াত প্রার্থীর বাৎসরিক আয় অনেক বেশি।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, পেশায় আইনজীবী নাজমুল হোসেনের কাছে রয়েছে সাত কোটি ৯৮ লাখ ৯৮ লাখ ৩২ হাজার ৫৩৫ টাকা। ব্যাংকে রয়েছে মাত্র ছয় হাজার ১১৫ টাকা। সঞ্চয়পত্র রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ টাকার।
তাঁর স্ত্রী আনিসা আকবরের নামে ব্যাংকে রয়েছে ২৩ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭৬ টাকা। স্ত্রীর চেয়ে কাজী নাজমুলের স্বর্ণ বেশি। তাঁর স্বর্ণ রয়েছে ৫৩ ভরি এবং স্ত্রীর ৩২ ভরি। কাজী নাজমুল ৩৩ লাখ টাকা দামের গাড়ি হাঁকান। তিনি এবারের নির্বাচনে নিজ আয় থেকে ৪০ লাখ টাকা ব্যয় করবেন।
ঢাকায় সাড়ে পাঁচ কাঠার ওপর ছয়তলার যৌথ ভবন রয়েছে, যার ৪৩ ভাগের মালিক তিনি। এছাড়া নিজ এলাকা নবীনগরে যৌথ মালিকানায় কৃষিজমি রয়েছে। এসব সম্পদের মূল্য ৮৪ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তিনি ১১ কোটি টাকা ও তাঁর স্ত্রী এক কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক।
এদিকে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবদুল মান্নান তাঁর হলফনামায় পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন আইনজীবী। নিজ পেশা থেকে বছরে এক লাখ ৮৫ হাজার টাকা আয় হয় বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তিনি বিভিন্ন ভাড়া বাবদ বছরে আয় করেন দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা। তাঁর চাকরিজীবী ছেলে রেজা ই রাব্বির বছরে আয় ছয় লাখ ৬৬ হাজার টাকা। আবদুল মান্নানের হাতে নগদ টাকা রয়েছে ৩১ লাখ ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা। তিনি ৩০ ভরি সোনা এবং পৃথক ১০ শতক ও তিন কাঠা অকৃষি জমি এবং ১০ শতক বাড়ির মালিক। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তিনি ৪২ লাখ টাকা সম্পদের মালিক। তাঁর স্ত্রী প্রয়াত হয়েছেন। আবদুল মান্নান নিজের আয়ের পাশাপাশি শ্যালক মোতাসির আহমদ থেকে ১০ লাখ ধার, ভাগিনা মো. মহসিন থেকে তিন লাখ টাকা স্বেচ্ছাপ্রণোদিত অর্থ এবং আবদুল মজিদ থেকে দুই লাখ টাকা ধার, আলাউদ্দিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা স্বেচ্ছাপ্রণোদিত অর্থ, মদিনা গ্লাস থেকে এক লাখ টাকা নিয়ে ভোটে খরচ করবেন।
এ আসনে জামায়ত মনোনীত প্রার্থী আবদুল বাতেন পেশায় আইনজীবী। নিজ পেশা থেকে তিনি বছরে ছয় লাখ ৭০ হাজার টাকা আয় করেন। এছাড়া বিভিন্ন ভাড়া হিসেবে দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা পান। তাঁর শিক্ষক স্ত্রী নাছিমা ইয়াসমিনের আয় বছরে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। তিনি ১১ লাখ টাকা দামের গাড়ি হাঁকান। তাঁর কাছে নগদ এক লাখ ২০ হাজার টাকা রয়েছে। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তিনি প্রায় ৩৩ লাখ টাকা সম্পদের মালিক। তিনি জামায়াতে ইসলামী থেকে ১০ লাখ, ডা. হানিফের কাছ থেকে পাঁচ লাখ ও নিজের আয় থেকে পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় করবেন।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম ব্যবসা থেকে বছরে আয় করেন চার লাখ টাকা। তাঁর কাছে রয়েছে নগদ দুই লাখ ৮৪ হাজার টাকা। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৫ লাখ টাকা। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম কৃষিখাত থেকে বছরে দুই লাখ ৩০ হাজার ও ব্যবসা থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা আয় করেন। দুই কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে তাঁর। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তিনি চার কোটি ১৫ লাখ টাকা সম্পদের মালিক। খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আমজাদ হোসাইন পেশায় ইসলামিক বক্তা। তাঁর রয়েছে নগদ ২৯ লাখ টাকা ও গাড়ি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি 



















