ঢাকা ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীমঙ্গলে পুলিশের সঙ্গে হাসনাত-নাসীরুদ্দীনের ধাক্কাধাক্কি সংবাদেই মিলল বিমলার আশ্রয়ের আশা, সহায়তা নিয়ে হাজির প্রশাসন কালুখালীতে ট্রাক-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে পাংশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সহ ৬ জন আহত ব্রাহ্মণপাড়ায় নিখোঁজের পরদিন ডোবায় মিলল সাবেক মেম্বারের ছেলের লাশ, হত্যার অভিযোগ হোসেনপুরে ৩৬ জুলাই উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত  কোটালীপাড়ায় কৃষক কার্ড হালনাগাদ কাযক্রম পরিদর্শনে কৃষি বিভাগের উপপরিচালক রামগতিতে মাটির নিচে মিলল ৩টি মর্টারশেল, পুলিশি হেফাজতে পাঁচবিবির ইউএনও মহিলা এমপি আন্নাকে উপহার দিলেন গাছের চারা বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগে আলোচনায় সাবেক বনমন্ত্রী ও তাঁর ছেলে

নাটোরে মরদেহের সঙ্গে পাওয়া অতিরিক্ত পা তাহলে কার?

  • নাটোর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৮:০৭:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৫৬ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর কলাহাটে ট্রাক উল্টে নিহত নাটোরের সেন্টুর মরদেহের সঙ্গে পাওয়া গেছে অতিরিক্ত একটি পা। নিহতের নিজের দুটি পায়ের পাশাপাশি থাকা অতিরিক্ত পা কার- তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অতিরিক্ত এই পা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে তার পরিবার।

সেন্টুর পরিবারের সদস্যরা জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করে বুঝে নেন। পরে বাড়িতে এনে গোসল করানোর সময় দেখা যায়- মরদেহের সঙ্গে দুটির বদলে তিনটি পা রয়েছে। বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রায়হান ইসলামের (৪০) একটি বিচ্ছিন্ন পা ভুলবশত সেন্টুর মরদেহের সঙ্গে থাকতে পারে।

পরে আহত রায়হানের স্বজনরা নাটোরে এসে অতিরিক্ত পা দেখে সেটি রায়হানের নয় বলে নিশ্চিত করেন। রায়হান রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার খুঁটিপাড়া এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে। দুর্ঘটনায় তার এক হাতের কব্জি ও দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিকেল ৫টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত রায়হান ইসলামের মৃত্যু হয়েছে।

রায়হানের ভাতিজা অনিক বলেন, আমাদের রোগীর দুটি পা কোমরের নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। একটি পা নাটোরে আছে শুনে আমরা এখানে এসেছি। কিন্তু এখানে থাকা তিনটি পায়ের একটিও আমাদের রোগীর নয়। আমাদের রোগীর জন্মগতভাবে পায়ের আঙুলের মাঝে বেশি ফাঁকা ছিল, কিন্তু এই পা গুলোর কোনোটাতেই সেই বৈশিষ্ট্য নেই।

এ ঘটনায় নিহত সেন্টুর চাচাতো ভাই কামরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ আমাদের জানিয়েছিল অতিরিক্ত পা আহত রায়হানের। কিন্তু তার স্বজনরা এসে বলছে পা তাদের নয়। এখন এই পা নিয়ে আমরা কী করব, বুঝতে পারছি না।

এদিকে মরদেহের সঙ্গে অতিরিক্ত পা কীভাবে এলো- এমন প্রশ্নে পুঠিয়া ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর সরোয়ার হোসাইন ঢাকা পোস্টকে জানান, দুর্ঘটনায় একজন গুরুতর আহত ছিলেন, যার দুই পা বিচ্ছিন্ন ছিল। তাকে হাসপাতালে পাঠানো সবচেয়ে জরুরি ছিল। এছাড়া ঘটনাস্থলে তীব্র দুর্গন্ধ থাকায় দ্রুত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় ভুলবশত কোনো মরদেহের সঙ্গে অতিরিক্ত পা চলে যেতে পারে।

রাজশাহীর পুঠিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের পরিবার এখন শোকাহত। আমরা আপাতত নিহত সেন্টুর পরিবারকে অতিরিক্ত পা রেখে দিতে বলেছি। ওখানে আরও দুইজন মারা গেছে যদি উনাদের হয় তাহলে উনারা পরে নিয়ে আসবেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর কলাহাটে ট্রাক উল্টে চারজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে আহত হন চারঘাটের রায়হান। পরে বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন- নাটোর সদরের কাফুরিয়া এলাকার শাহিনের ছেলে সিয়াম (১৫), সদরের পাইকপাড়ার আক্কেল প্রামানিকের ছেলে মুনকের (৩৫) বাগাতিপাড়া সালাইনগরের সৈয়দ উদ্দিনের ছেলে সেন্টু (৪০) ও চারঘাটের অস্কারপুরের মৃত মাহাতাবের ছেলে ইসলাম উদ্দিন (৬০)।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নাটোরে মরদেহের সঙ্গে পাওয়া অতিরিক্ত পা তাহলে কার?

আপডেট সময় ০৮:০৭:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর কলাহাটে ট্রাক উল্টে নিহত নাটোরের সেন্টুর মরদেহের সঙ্গে পাওয়া গেছে অতিরিক্ত একটি পা। নিহতের নিজের দুটি পায়ের পাশাপাশি থাকা অতিরিক্ত পা কার- তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অতিরিক্ত এই পা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে তার পরিবার।

সেন্টুর পরিবারের সদস্যরা জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করে বুঝে নেন। পরে বাড়িতে এনে গোসল করানোর সময় দেখা যায়- মরদেহের সঙ্গে দুটির বদলে তিনটি পা রয়েছে। বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রায়হান ইসলামের (৪০) একটি বিচ্ছিন্ন পা ভুলবশত সেন্টুর মরদেহের সঙ্গে থাকতে পারে।

পরে আহত রায়হানের স্বজনরা নাটোরে এসে অতিরিক্ত পা দেখে সেটি রায়হানের নয় বলে নিশ্চিত করেন। রায়হান রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার খুঁটিপাড়া এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে। দুর্ঘটনায় তার এক হাতের কব্জি ও দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিকেল ৫টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত রায়হান ইসলামের মৃত্যু হয়েছে।

রায়হানের ভাতিজা অনিক বলেন, আমাদের রোগীর দুটি পা কোমরের নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। একটি পা নাটোরে আছে শুনে আমরা এখানে এসেছি। কিন্তু এখানে থাকা তিনটি পায়ের একটিও আমাদের রোগীর নয়। আমাদের রোগীর জন্মগতভাবে পায়ের আঙুলের মাঝে বেশি ফাঁকা ছিল, কিন্তু এই পা গুলোর কোনোটাতেই সেই বৈশিষ্ট্য নেই।

এ ঘটনায় নিহত সেন্টুর চাচাতো ভাই কামরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ আমাদের জানিয়েছিল অতিরিক্ত পা আহত রায়হানের। কিন্তু তার স্বজনরা এসে বলছে পা তাদের নয়। এখন এই পা নিয়ে আমরা কী করব, বুঝতে পারছি না।

এদিকে মরদেহের সঙ্গে অতিরিক্ত পা কীভাবে এলো- এমন প্রশ্নে পুঠিয়া ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর সরোয়ার হোসাইন ঢাকা পোস্টকে জানান, দুর্ঘটনায় একজন গুরুতর আহত ছিলেন, যার দুই পা বিচ্ছিন্ন ছিল। তাকে হাসপাতালে পাঠানো সবচেয়ে জরুরি ছিল। এছাড়া ঘটনাস্থলে তীব্র দুর্গন্ধ থাকায় দ্রুত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় ভুলবশত কোনো মরদেহের সঙ্গে অতিরিক্ত পা চলে যেতে পারে।

রাজশাহীর পুঠিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের পরিবার এখন শোকাহত। আমরা আপাতত নিহত সেন্টুর পরিবারকে অতিরিক্ত পা রেখে দিতে বলেছি। ওখানে আরও দুইজন মারা গেছে যদি উনাদের হয় তাহলে উনারা পরে নিয়ে আসবেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর কলাহাটে ট্রাক উল্টে চারজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে আহত হন চারঘাটের রায়হান। পরে বিকেলে তার মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন- নাটোর সদরের কাফুরিয়া এলাকার শাহিনের ছেলে সিয়াম (১৫), সদরের পাইকপাড়ার আক্কেল প্রামানিকের ছেলে মুনকের (৩৫) বাগাতিপাড়া সালাইনগরের সৈয়দ উদ্দিনের ছেলে সেন্টু (৪০) ও চারঘাটের অস্কারপুরের মৃত মাহাতাবের ছেলে ইসলাম উদ্দিন (৬০)।