“মনোহরপুর প্রগতি যুব মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সদস্য ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের পক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাধীন নাসিরনগর উপজেলার বিল কোপা ফিসারী জলমহালে ১৪৩৩-১৪৩৮ বাংলা মেয়াদে উন্নয়ন প্রকল্পের আবেদনকে কেন্দ্র করে জড়িত সভাপতি/সম্পাদক/ সমবায় কর্মকর্তাগণের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগর উপজেলাধীন মনোহরপুর প্রগতি যুব মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লি: এর ইজারা প্রাপ্ত ও ফিসিংকে কেন্দ্র করে একাধিক সদস্য অভিযোগ করেছেন যে- তাদের সমিতির সভাপতি সমীর দাস ও সেক্রেটারি বিসম্বর দাস দীর্ঘ ১৫ বছর যাবত প্রতারণা করে তাদের নাম, ছবি, আইডি কার্ড, জেলে কার্ড ব্যবহার করে বিল কোপা, খরাতি নদী ও পুকুর ইজারা নিয়া স্থানীয় মহাজনদের নিকট সাবলিজ তথা বিক্রি করে দিয়ে আসছে।
সমিতির সদস্যরা কেহই মাছ আহরণের মৌসুমে জলমহালে ধারে কাছে যেতে পারে না।
তারা মাছ ধরতে গেলে সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক স্থানীয় মহাজনদের নিয়া বাধা ও হুমকী দিয়ে আসছে।
স্থানীয় মহাজনরা সমিতির সদস্যদের জানিয়ে আসছে আমরা সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকের নিকট জলমহালগুলি কিনে নিয়েছি। তারা আরো বলে তোমাদের কোনো দেনা-পাওনা থাকলে সভাপতি সমীর দাস ও সেক্রেটারী বিশ্বম্ভর দাসের নিকট কথা বল।
অনুসন্ধানকালে-
সমিতির সদস্যদের অনুরোধে স্থানীয় মহাজনদের মধ্যে মোঃ রেজাউল আলম ও সমীরদাস গং এর সাথে কথা বললে তারা এর সত্যতা স্বীকার করে জানান যে, বহু বছর ধরে মনোহরপুর প্রগতি যুব মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি সমীর দাস এবং সেক্রেটারী বিম্বর দাস বহু বছর ধরে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিল কোপা ফিসারী তাদের নিকট বিক্রি তথা সাবলিজ দিয়ে আসছে।
তারা আরো জানান, এবার বিল কোপা ফিসারীর সারলিজের বিষয়ে আমরা নিজেরাই ডিসি, টি,এন,ও, এসিল্যান্ড অফিসে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশন এর নিকট অভিযোগ দায়ের করেছি। সমিতির সদস্যরা জলমহালটিতে মাছ ধরার কোন সুযোগ নাই।
এবার মনোহরপুর প্রগতি খুব মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে ১৪৩৩-১৪৩৮ বাংলা মেয়াদে বিল কোপা ফিসারী জলমহাল উন্নয়ন প্রকল্পে আবেদনকে কেন্দ্র করে সদস্যদের পক্ষে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে সদস্যরা জানায়, তারা সমিতির সভাপতি সমীর দাস ও সেক্রেটারী বিশ্বম্বর দাসের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), জেলা প্রশাসক ও ভূমি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। আবেদনে বলা হয়েছে যে, তাদের না জানিয়ে সভাপতি ও সেক্রেটারী জালিয়াতি ও প্রতারণা করে তাদের নাম, ছবি, আইডি কার্ড, জেলে কার্ড ব্যবহার করে বিল কোপা ফিসারীতে উন্নয়ন প্রকল্পে আবেদন করেছেন। এজন্য তারা উক্ত আবেদনের উপর অনাস্থা ও আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের দাবী তারা উন্নয়ন প্রকল্পে প্রতারক সভাপতি ও সেক্রেটারীকে জলমহাল ইজারা আনতে দিবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে বিচার দাবী করছেন।
স্থানীয় অনুসন্ধানকালে-
সমিতির সদস্যরা আরো জানান যে, তাদের সমিতির ২২ জন সদস্যের মধ্যে ০৮ জন সদস্য (রুই দাস, প্রদীপ দাস, নারায়ন দাস, সুজন দাস, দিলীপ দাস, বিনয় দাস, টুটুল দাস, নিরাঞ্জন দাস) বিদেশ চলে গিয়াছে। তাদের মধ্যে দিলীপ দাস, বিনয় দাস, টুটল দাস স-পরিবারে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে গিয়াছে। তারা কেহই বিল কোপা ফিসারী জলমহালের আবেদন বিষয়ে কিছুই জানে না। এসব লোকের ছবি, নাম, আইডিকার্ড, জেলে কার্ড ব্যবহার করে সমিতির সভাপতি ও সেক্রেটারী প্রতারণা করেছেন। অশিক্ষিত এবং নিতান্তই সাধারণ লোক হওযার কারণে এই বিষয় নিয়ে এত বছর কোন বাড়াবাড়ি করতে পারেনি। এর একটা বিশেষ কারণও ছিল তারা আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটাতো।
আরো গুরুতর অভিযোগ–
সমিতির সদস্যরা সম্পাদকের নিকট জানতে পেরে আরো জানান যে, জেলা সমবায় অফিসের একজন কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন, পরিদর্শক মোঃ বেলালকে নিয়ে আমাদের সমিতির ১৪৩৩-১৪৩৮ বাংলা মেয়াদে বিল কোপা ফিসারীর উন্নয়ন প্রকল্পের ফাইল তৈরী করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। সমবায় অফিসের এসব কর্মকর্তারা অনৈতিকভাবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে জলমহাল পরিচালনার সাথে জড়িত। তারা ও গং কর্মকর্তারা ঘুষ উৎকোচ নিয়ে তাদেরকে বহাল রেখেছেন দীর্ঘ এত বছর যাবত এবং অনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন সমিতির ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করে আসছেন।
তাই আজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট সমাজের সর্বস্তরে দাবী উঠেছে
সভাপতি ও সেক্রেটারীর প্রতারনা ও জালিয়াতির কারণে মনোহরপুর প্রগতি যুব মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির বিল কোপা ফিসারী জলমহালের ইজারার আবেদন এবং সমিতির লাইসেন্স বাতিল করতে, সমিতির সকল সম্পদ তথা জলমহালের টাকা পয়সা লোটপাটের জন্য সমিতির সভাপতি ও সেক্রেটারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। আরো উল্লেখ্য যে, উপসহকারী নিবন্ধক মোঃ আলমগীরসহ যে সকল সমবায় কর্মকর্তা এসব সমিতির পিছনে সুবিধাভোগী হয়ে কাজ করছেন তাদের বিরুদ্ধে ও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জোর দাবী উঠেছে।
মো মানিক মিয়া 



















