ঢাকা ১১:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডিসেম্বরের ২০ দিনেই এলো ২১৭ কোটি ডলার

বছরের শেষ মাসে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। চলতি ডিসেম্বরের প্রথম ২০ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২১৭ কোটি ২১ লাখ মার্কিন ডলার। দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২৫ টাকা হিসেবে) যার পরিমাণ প্রায় ২৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। রেমিট্যান্সের এই জোয়ারে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তি ফেরার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে।

রোববার (২১ ডিসেম্বর ২০২৫) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, গত বছরের একই সময়ে (১-২০ ডিসেম্বর) রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সেই হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে এই ২০ দিনে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ। ধারাটি অব্যাহত থাকলে মাস শেষে মোট রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

প্রবাসীদের পাঠানো বিপুল পরিমাণ অর্থের কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। জোগান ও চাহিদার ভারসাম্য রক্ষা এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার ক্রয় করছে।

রবিবার মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে ৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে প্রায় ৬ কোটি ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এদিন প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। এর মাধ্যমে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন (২ হাজার ৯৪২ মিলিয়ন) ডলারে।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে (জুলাই) ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৫২১ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১ হাজার ৩১২ কোটি ডলার। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহ প্রদান এবং প্রণোদনার কারণেই বৈধ পথে আয় আসা বাড়ছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমে অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরছে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিসেম্বরের ২০ দিনেই এলো ২১৭ কোটি ডলার

আপডেট সময় ০৭:৩৫:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

বছরের শেষ মাসে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। চলতি ডিসেম্বরের প্রথম ২০ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২১৭ কোটি ২১ লাখ মার্কিন ডলার। দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২৫ টাকা হিসেবে) যার পরিমাণ প্রায় ২৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। রেমিট্যান্সের এই জোয়ারে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তি ফেরার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে।

রোববার (২১ ডিসেম্বর ২০২৫) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, গত বছরের একই সময়ে (১-২০ ডিসেম্বর) রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। সেই হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে এই ২০ দিনে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ। ধারাটি অব্যাহত থাকলে মাস শেষে মোট রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

প্রবাসীদের পাঠানো বিপুল পরিমাণ অর্থের কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। জোগান ও চাহিদার ভারসাম্য রক্ষা এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার ক্রয় করছে।

রবিবার মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে ৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে প্রায় ৬ কোটি ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এদিন প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। এর মাধ্যমে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন (২ হাজার ৯৪২ মিলিয়ন) ডলারে।

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে (জুলাই) ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৫২১ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১ হাজার ৩১২ কোটি ডলার। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থান, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহ প্রদান এবং প্রণোদনার কারণেই বৈধ পথে আয় আসা বাড়ছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমে অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরছে।