সিলেটের গোয়াইনঘাটে এক অসাধারণ নৃশংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা পুরো এলাকায় ভীতির ছায়া ফেলেছে। স্থানীয় গৃহিনী আরজিনা বেগমের অভিযোগ, তার স্বামী শাহজাহান মিয়াকে দীর্ঘদিন ধরে পাশ্ববর্তী কিছু স্থানীয় সাকিন এবং তাদের সহযোগীরা ভয়, হুমকি এবং জোরপূর্বক হামলার মাধ্যমে জীবননাশের চেষ্টা করেছে। ঘটনাটি ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে সংঘটিত হয়। আরজিনা বেগম জানান, তার স্বামী শাহজাহান মিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিজিবি ক্যাম্পের সংলগ্ন পূর্বদিকে মাঠে দোকান বসিয়ে শীতের কাপড় বিক্রি করতেন। জীবিকার জন্য এই ব্যবসা করলেও পাশ্ববর্তী সাকিনদের পক্ষ থেকে প্রায় এক মাস যাবত তাকে বারবার হুমকি, গালাগাল এবং শারীরিক হামলার চেষ্টা করা হচ্ছিল। আরজিনা বেগম বলেন, তাদের পরিবারের সদস্যরা এসব বিষয়ে বারবার সতর্ক করেছেন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক আয়োজন করেছেন। সালিশ বৈঠকে বিবাদীদেরকে শান্ত থাকার জন্য বলা হলেও তারা তা উপেক্ষা করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় দেলোয়ার হোসেন, শামীম আহমদ, আমির হোসেন, খোকন মিয়া, লিটন মিয়া, সিহাব আহমদ এবং আরও ৪-৫ অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র, বাঁশের লাঠি, কাঠের বাট, স্টিলের পাইপ, লোহার রড এবং ধারালো দা নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা সরাসরি শাহজাহান মিয়ার দোকানের সামনে এসে তার উপর হামলা চালান। দেলোয়ার হোসেন তার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে শাহজাহান মিয়ার মাথার মধ্যখানে আঘাত করলে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। শামীম আহমদ তার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে মাথার বাম পাশে কোপ মারেন এবং আমির হোসেন একইভাবে গলা বরাবর আঘাত করেন, ফলে বাম চোখের ভুড়িতে গুরুতর ক্ষত হয়। হামলাকারীরা এলোপাথাড়ি আঘাত করতে থাকে এবং আহতকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে।
ঘটনার সময় স্থানীয় মানুষ ও অন্যান্য উপস্থিত লোকজন চিৎকার করলে অভিযুক্তরা আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যায়। তবে শাহজাহান মিয়া গুরুতর আহত অবস্থায় পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক উল্লেখ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। আরজিনা বেগম জানান, তার স্বামী বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং তার জীবন বিপন্ন। তিনি বলেন, “আমরা এখন আতঙ্কের মধ্যে জীবনযাপন করছি। বিবাদীরা প্রভাবশালী, তাদের সঙ্গে সংঘর্ষের যে কোনো সময় পুনরায় হতে পারে।”
ঘটনার পরপরই আরজিনা বেগম গোয়াইনঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩০৭, ৩২৬, ৫০৬ ধারায় প্রযোজ্য গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছেন। থানার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আহতের চিকিৎসা সম্পন্ন হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ স্থান হিসেবে পরিচিত। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি এই শান্তি নষ্ট করছে। আরজিনা বেগম বলেন, “আমরা সালিশ বৈঠকেও সমস্যার সমাধান করতে পারিনি। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটতে পারে।”
শাহজাহান মিয়ার আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকার মানুষ আতঙ্কিত। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করলে হয়তো এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি রোধ করা যেত। তিনি ও তার পরিবারকে নিরাপত্তা দিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয়রা আরও জানিয়েছেন, হামলাকারীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হাজির হয়েছিল এবং তাদের লক্ষ্য ছিল সরাসরি হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করা।
সাক্ষীদের মধ্যে রয়েছেন শাহজাহান মিয়া, রহিমা বেগম, জহির উদ্দিন, সোহান আহমদ, শামীম আহমদ, আজিজ উদ্দিন, মছর উদ্দিন, মুসলিহ উদ্দিন, মধু বাদশা এবং আব্দুল কাদির। তারা প্রত্যেকেই হামলার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা সরাসরি লক্ষ্যভিত্তিকভাবে হামলা চালিয়েছিল। উপস্থিত অন্যান্য লোকজন চিৎকার করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলার ফলে শাহজাহান মিয়া শারীরিক এবং মানসিকভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তার পরিবারের সদস্যরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আরজিনা বেগম বলেন, “আমরা ভয়ে দিন কাটাচ্ছি। পুলিশ যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আবারও হামলার শিকার হতে পারি।”
স্থানীয়রা জানান, বিস্তীর্ণ এলাকায় এই ঘটনা এক ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। প্রশাসন এবং পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে, ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সংঘর্ষ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সাধারণ মানুষকে সন্ত্রাসী…
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















