ঢাকা ০৭:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সমাজকে আলোকিত করতে যুব সমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল লেখাপড়ার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তুরাগে ৮০০ পিস ইয়াবাসহ তারার টেকের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হৃদয় গ্রেপ্তার ফেনীতে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, হামলায় নারীসহ আহত ২; মামলা না নেওয়ার অভিযোগ লালদিয়া টার্মিনাল বন্দরের সক্ষমতা ২৩% বাড়ানোর পরিকল্পনা এপিএম টার্মিনালসের আজ গার্লফ্রেন্ড দিবস, শেষ মুহূর্তেও চমকে দিন এই ৬ উপহারে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের দুর্নীতি যেন মরনঘাতি ভাইরাসে পরিণত হয়েছে প্যান্টের নিচে কোটি টাকার সোনাসহ ভারতীয় নাগরিক আটক কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর আগামী বছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই খাল খনন কর্মসূচি শেষ হবে: কৃষিমন্ত্রী

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সানাউল হকের শুভেচ্ছা

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ১২:১৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬৯০ বার পড়া হয়েছে

১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসী শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের অ্যাডভোকেট ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. সানাউল হক।
শুক্ষচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন- ১৬ই ডিসেম্বর-বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয়, গৌরবোজ্জ্বল ও অহংকারের দিন। এই দিনটি আমাদের জাতীয় জীবনে শুধু একটি তারিখ নয়, বরং এটি স্বাধীনতা, আত্মমর্যাদা, ত্যাগ ও সংগ্রামের এক চিরন্তন প্রতীক। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে পরাজিত হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদকে, যাঁরা নিজের জীবন উৎসর্গ করে আমাদের জন্য রেখে গেছেন একটি স্বাধীন দেশ। একই সঙ্গে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই সেইসব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাঁদের সাহস, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের প্রিয় স্বাধীন বাংলাদেশ। তাঁদের আত্মত্যাগ ও বীরত্ব চিরকাল বাঙালি জাতির প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল শুধু ভূখণ্ডের স্বাধীনতার লড়াই নয়; এটি ছিল ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক মুক্তি ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। লাখো শহীদের রক্ত, অসংখ্য মা-বোনের ত্যাগ ও অগণিত মানুষের কষ্টের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি লাল-সবুজের পতাকা। এই বিজয় আমাদের শিখিয়েছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে, অধিকার আদায়ে দৃঢ় থাকতে এবং স্বাধীনতার মূল্য রক্ষা করতে।
আজ বিজয়ের এত বছর পরেও আমাদের দায়িত্ব এখানেই শেষ নয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ে তোলাই হোক আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, গণতন্ত্র সুসংহতকরণ এবং মানবাধিকার রক্ষার মধ্য দিয়েই আমরা শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে পারি।
একজন আইনজীবী ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন প্রতিটি নাগরিক আইনের চোখে সমান মর্যাদা পায় এবং বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার লাভ করে। দুর্নীতি, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে একটি সুশাসিত রাষ্ট্র গড়ে তোলাই হোক মহান বিজয় দিবসের অঙ্গীকার।
আমাদের তরুণ প্রজন্মের প্রতি বিশেষ আহ্বান-মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানো, শহীদদের আত্মত্যাগ হৃদয়ে ধারণ করো এবং দেশ গড়ার কাজে নিজেদের সর্বোচ্চ মেধা ও শ্রম উৎসর্গ করো। শিক্ষা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়েই গড়ে উঠবে একটি শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ।
মহান বিজয় দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়-এই দেশ কারও দয়া বা অনুগ্রহে পাওয়া নয়; এটি অর্জিত হয়েছে অসীম ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে। তাই স্বাধীনতার এই অর্জনকে রক্ষা করা আমাদের সকলের পবিত্র দায়িত্ব। ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক জীবনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে পারি একটি সুখী-সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশের পথে।
মহান বিজয়ের এই মাহেন্দ্রক্ষণে আসুন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। হানাহানি, বিদ্বেষ ও বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার করি। একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে মহান বিজয় দিবস হোক আমাদের প্রেরণার চিরন্তন উৎস।
পরিশেষে, মহান বিজয় দিবসে দেশবাসীর প্রতি রইল আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। মহান আল্লাহ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নেয়ার তৌফিক দান করুন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সমাজকে আলোকিত করতে যুব সমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সানাউল হকের শুভেচ্ছা

আপডেট সময় ১২:১৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশবাসী শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের অ্যাডভোকেট ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. সানাউল হক।
শুক্ষচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন- ১৬ই ডিসেম্বর-বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয়, গৌরবোজ্জ্বল ও অহংকারের দিন। এই দিনটি আমাদের জাতীয় জীবনে শুধু একটি তারিখ নয়, বরং এটি স্বাধীনতা, আত্মমর্যাদা, ত্যাগ ও সংগ্রামের এক চিরন্তন প্রতীক। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে পরাজিত হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদকে, যাঁরা নিজের জীবন উৎসর্গ করে আমাদের জন্য রেখে গেছেন একটি স্বাধীন দেশ। একই সঙ্গে বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই সেইসব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাঁদের সাহস, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের প্রিয় স্বাধীন বাংলাদেশ। তাঁদের আত্মত্যাগ ও বীরত্ব চিরকাল বাঙালি জাতির প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল শুধু ভূখণ্ডের স্বাধীনতার লড়াই নয়; এটি ছিল ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক মুক্তি ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। লাখো শহীদের রক্ত, অসংখ্য মা-বোনের ত্যাগ ও অগণিত মানুষের কষ্টের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি লাল-সবুজের পতাকা। এই বিজয় আমাদের শিখিয়েছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে, অধিকার আদায়ে দৃঢ় থাকতে এবং স্বাধীনতার মূল্য রক্ষা করতে।
আজ বিজয়ের এত বছর পরেও আমাদের দায়িত্ব এখানেই শেষ নয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ে তোলাই হোক আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, গণতন্ত্র সুসংহতকরণ এবং মানবাধিকার রক্ষার মধ্য দিয়েই আমরা শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে পারি।
একজন আইনজীবী ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন প্রতিটি নাগরিক আইনের চোখে সমান মর্যাদা পায় এবং বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার লাভ করে। দুর্নীতি, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে একটি সুশাসিত রাষ্ট্র গড়ে তোলাই হোক মহান বিজয় দিবসের অঙ্গীকার।
আমাদের তরুণ প্রজন্মের প্রতি বিশেষ আহ্বান-মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানো, শহীদদের আত্মত্যাগ হৃদয়ে ধারণ করো এবং দেশ গড়ার কাজে নিজেদের সর্বোচ্চ মেধা ও শ্রম উৎসর্গ করো। শিক্ষা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়েই গড়ে উঠবে একটি শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ।
মহান বিজয় দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়-এই দেশ কারও দয়া বা অনুগ্রহে পাওয়া নয়; এটি অর্জিত হয়েছে অসীম ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে। তাই স্বাধীনতার এই অর্জনকে রক্ষা করা আমাদের সকলের পবিত্র দায়িত্ব। ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক জীবনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে পারি একটি সুখী-সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশের পথে।
মহান বিজয়ের এই মাহেন্দ্রক্ষণে আসুন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। হানাহানি, বিদ্বেষ ও বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার করি। একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে মহান বিজয় দিবস হোক আমাদের প্রেরণার চিরন্তন উৎস।
পরিশেষে, মহান বিজয় দিবসে দেশবাসীর প্রতি রইল আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। মহান আল্লাহ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নেয়ার তৌফিক দান করুন।