ঢাকা ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্দেশনা থাকলেও নেই বাস্তবায়ন – অবাধে চলছে জাটকা নিধন ও পাচার

  • রিয়াজ ফরাজী (ভোলা)
  • আপডেট সময় ০৬:৪১:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৭৫ বার পড়া হয়েছে

বোরহানউদ্দিন উপজেলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে চলছে সরকার ঘোষিত জাটকা সংরক্ষণ অভিযান। নির্দেশনা থাকলেও নেই বাস্তবায়ন – অবাধে চলছে জাটকা নিধন ও পাচার। মাঝে মধ্যে নদীতে টহল দিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন, নৌ–পুলিশ ও কোস্টগার্ডের যৌথ দল। কিন্তু অসাধু জেলে ও দালালরা থেমে নেই জাটকা নিধনের অপতৎপরতায়। রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে এখনও নদীর গহীন চর ও নির্জন খালগুলোতে নিষিদ্ধ কারেন্টজাল ফেলে ধরা হচ্ছে জাটকা ইলিশ।

স্থানীয় জেলেরা বলছেন, জাটকা ধরা বন্ধ করতে হলে প্রশাসনের নজরদারির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। তাদের মতে, “আজ জাটকা রক্ষা করতে পারলে আগামী দিনে নদীতে ফিরবে ইলিশের প্রাচুর্য, আর সেই সুফল ভোগ করবে দেশের সব জেলে পরিবার।”

অভিযান সত্ত্বেও নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে এখনও ঝুঁকি রয়ে গেছে। তবে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তর দৃঢ়ভাবে বলছে—জাটকা রক্ষায় অভিযান অব্যাহত থাকবে, প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মেঘনা–তেতুলিয়ার এই জলরেখায় ইলিশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

হাকিমুদ্দিন ঘাটের জেলে নুরেআলম মাঝি (৪৫) বলেন, জাটকা ইলিশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ আমরা জানি, আমরা এখন কি করতাম, সরকার একবার অভিযান দেয় ২২ দিনের আবার দেয় ২ মাসের এরপর চিরুনি অভিযান, এক হিসেবে বারো মাসই অভিযান। আমরা জাটকা ধরি লোন আছি, ঋণ আছি ,আমাদের ফ্যামিলির খরচ আছে । সরকার অভিযানের সময় চাল দেয় ৩০ কেজি, এতে আমাদের কি হয়, আমরা মন চাইলে কিছু করতে পারিনা, মন চাইলে কিছু খেতে পারিনা। আমরা বিপদে পরে নদীতে মাছ শিকার করতে যেতে হয়। ব্যাংক, এনজিওর কিস্তির টাকা সময় মতো পরিশোধ করতে না পারলে অফিসারেরা বাড়িতে এসে গালিগালাজ করে ।অনেক সময় নিষেধাজ্ঞার সময় আমরা বিপদে পড়ে নদীতে মাছ শিকার করতে গেলে প্রশাসন আমাদের নৌকা জাল এগুলো সব নষ্ট করে দেয়,পরে ধার দেনা, বউয়ের গয়না ঘাটি, ঘর ভিটা বিক্রি করে আবার জাল, নৌকা এগুলো তৈরি করে নদীতে মাছ শিকার করতে হয়। সরকার যদি আমাদের সুযোগ সুবিধা বাড়িয়ে দিতে তাহলে আমরা জাটকা ইলিশ শিকার করতে যেতাম না, আপনার বলেন মানুষের পেটে ক্ষুধা নিয়ে কতদিন চলতে পারে।

ভোলা জেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জাটকা রক্ষায় প্রতিদিনই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “জাটকা রক্ষা না হলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে। তাই অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।” গত কয়েকদিনের অভিযানে বিপুল পরিমাণ কারেন্টজাল, বেহুন্দিজালসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ জাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জাটকা ইলিশও।

উল্লেখ্য, গত ১ লা নভেম্বর ২০২৫ থেকে আগামী ১ লা জুন ২০২৬ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে জাটকা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ঘোষণা করা হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্দেশনা থাকলেও নেই বাস্তবায়ন – অবাধে চলছে জাটকা নিধন ও পাচার

আপডেট সময় ০৬:৪১:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

বোরহানউদ্দিন উপজেলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে চলছে সরকার ঘোষিত জাটকা সংরক্ষণ অভিযান। নির্দেশনা থাকলেও নেই বাস্তবায়ন – অবাধে চলছে জাটকা নিধন ও পাচার। মাঝে মধ্যে নদীতে টহল দিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন, নৌ–পুলিশ ও কোস্টগার্ডের যৌথ দল। কিন্তু অসাধু জেলে ও দালালরা থেমে নেই জাটকা নিধনের অপতৎপরতায়। রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে এখনও নদীর গহীন চর ও নির্জন খালগুলোতে নিষিদ্ধ কারেন্টজাল ফেলে ধরা হচ্ছে জাটকা ইলিশ।

স্থানীয় জেলেরা বলছেন, জাটকা ধরা বন্ধ করতে হলে প্রশাসনের নজরদারির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। তাদের মতে, “আজ জাটকা রক্ষা করতে পারলে আগামী দিনে নদীতে ফিরবে ইলিশের প্রাচুর্য, আর সেই সুফল ভোগ করবে দেশের সব জেলে পরিবার।”

অভিযান সত্ত্বেও নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে এখনও ঝুঁকি রয়ে গেছে। তবে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তর দৃঢ়ভাবে বলছে—জাটকা রক্ষায় অভিযান অব্যাহত থাকবে, প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মেঘনা–তেতুলিয়ার এই জলরেখায় ইলিশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

হাকিমুদ্দিন ঘাটের জেলে নুরেআলম মাঝি (৪৫) বলেন, জাটকা ইলিশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ আমরা জানি, আমরা এখন কি করতাম, সরকার একবার অভিযান দেয় ২২ দিনের আবার দেয় ২ মাসের এরপর চিরুনি অভিযান, এক হিসেবে বারো মাসই অভিযান। আমরা জাটকা ধরি লোন আছি, ঋণ আছি ,আমাদের ফ্যামিলির খরচ আছে । সরকার অভিযানের সময় চাল দেয় ৩০ কেজি, এতে আমাদের কি হয়, আমরা মন চাইলে কিছু করতে পারিনা, মন চাইলে কিছু খেতে পারিনা। আমরা বিপদে পরে নদীতে মাছ শিকার করতে যেতে হয়। ব্যাংক, এনজিওর কিস্তির টাকা সময় মতো পরিশোধ করতে না পারলে অফিসারেরা বাড়িতে এসে গালিগালাজ করে ।অনেক সময় নিষেধাজ্ঞার সময় আমরা বিপদে পড়ে নদীতে মাছ শিকার করতে গেলে প্রশাসন আমাদের নৌকা জাল এগুলো সব নষ্ট করে দেয়,পরে ধার দেনা, বউয়ের গয়না ঘাটি, ঘর ভিটা বিক্রি করে আবার জাল, নৌকা এগুলো তৈরি করে নদীতে মাছ শিকার করতে হয়। সরকার যদি আমাদের সুযোগ সুবিধা বাড়িয়ে দিতে তাহলে আমরা জাটকা ইলিশ শিকার করতে যেতাম না, আপনার বলেন মানুষের পেটে ক্ষুধা নিয়ে কতদিন চলতে পারে।

ভোলা জেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জাটকা রক্ষায় প্রতিদিনই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “জাটকা রক্ষা না হলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে। তাই অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।” গত কয়েকদিনের অভিযানে বিপুল পরিমাণ কারেন্টজাল, বেহুন্দিজালসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ জাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জাটকা ইলিশও।

উল্লেখ্য, গত ১ লা নভেম্বর ২০২৫ থেকে আগামী ১ লা জুন ২০২৬ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে জাটকা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ঘোষণা করা হয়েছে।