কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাতামুহুরী ব্রিজের পশ্চিম পাশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের বাংলোর দেয়াল সংলগ্ন প্রায় ১”শ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করে মার্কেট তৈরির কাজ চলছে। জনৈক মোহাম্মদ এহছান (দুবাই এহছান নামে পরিচিত) এবং সোলতান আহমদ সিরাজী এই অবৈধ নির্মাণকাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জমির ইতিহাস ও দখল প্রক্রিয়া:
সওজের নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং তথ্য থেকে জানা যায়, ১৯৫৭-৫৮ সালে মাতামুহুরী ব্রিজের এপ্রোচ, স্টেক ইয়ার্ড এবং ডাক বাংলোর জন্য চিরিংগা মৌজার আরএস ১৪১ খতিয়ানের ৫৬৫ দাগের ১.৬০ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল তৎকালীন সড়ক বিভাগ। তবে পরবর্তীতে বিএস রেকর্ডের সময় এই অধিগ্রহণকৃত জমির কিছু অংশ ভুলে বিএস ৩৩ খতিয়ানের বিএস ৭৩৬ ও ৭৫৪ দাগের জমি হিসেবে স্থানীয় আমিনুল ইসলাম ও মফিজা খাতুনসহ অন্যদের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়।
এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভূমিদস্যু চক্রের অংশ হিসেবে দুবাই এহছান ও সোলতান আহমদ সিরাজী কথিত বিএস মালিকদের কাছ থেকে যোগসাজশের মাধ্যমে জাল দলিল সৃষ্টি করে সওজের এই সরকারি জমি দখল করে নেয়। দুবাই এহছান ভুয়া নামজারি খতিয়ান তৈরি করলেও সোলতান সিরাজী কোনো খতিয়ান সৃজন করতে পারেননি।
অবৈধভাবে সরকারি অর্থ লোপাটের চেষ্টা:
জমির মূল্য বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার পর, মাতামুহুরী ব্রিজের ছয় লেইন প্রকল্পের অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হলে এই চক্রটি অধিগ্রহণের সাথে সংশ্লিষ্টদের অবৈধ ঘুষ দিয়ে সওজের নিজস্ব জমি ৭৩৬ দাগ থেকে ১৫ শতক এবং ৭৫৪ দাগ থেকে ৯ শতক পুনরায় অধিগ্রহণের আওতায় আনে।
এভাবে দুবাই এহছান এল.এ কেইস নং ১০-১৭-১৮ এর মাধ্যমে প্রায় ৪.৯১ কোটি টাকা এবং সোলতান আহমদ সিরাজী প্রায় ৩.৬২ কোটি টাকা, অর্থাৎ মোট ৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকার বেশি সরকারি অর্থ লোপাটের সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন করে।
আইনি জটিলতা ও স্থিতাবস্থা:
এই অর্থ উত্তোলনের বিরুদ্ধে জমজম হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গোলাম কবির হাইকোর্টে রিট মামলা (৮৮৭৮-১৯) দায়ের করেন। রিটের কারণে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকসহ দুবাই এহছান গং-এর টাকা উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তারা অর্থ লোপাট করতে পারেনি।
এছাড়া, সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী বাদী হয়ে কক্সবাজার ২য় যুগ্ম জজ আদালতে দুবাই এহছান গং-এর বিরুদ্ধে অপর ৩৬/২০০৮ নং মামলা দায়ের করেন, যেখানে সওজের পক্ষে ডিক্রি বহাল আছে।
প্রশ্ন ও দাবি:
বিএস ৭৩৬ ও ৭৫৪ দাগের জমির সম্পূর্ণ মালিকানা সওজের হওয়া সত্ত্বেও দিনের আলোয় সওজ বাংলো সংলগ্ন জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণকাজ চলমান থাকা রহস্যজনক বলে স্থানীয়রা মন্তব্য করেছেন।
জমজম হাসপাতালের এমডি মো. গোলাম কবির জানান, সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিসে বারবার অভিযোগ করার পরও নির্মাণকাজ অব্যাহত থাকায় তিনি ঊর্ধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্থানীয় শফিউল্লাহ এবং সাহাবুদ্দিন ওসমানী অভিযোগ করেন, ছয় লেনের কাজ শুরুর সময় তাদের বৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হলেও দুবাই এহছান ও সোলতান সিরাজী টাকা দিয়ে সওজকে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে পুনরায় মার্কেট নির্মাণ করছেন। সওজ কক্সবাজারের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কুতুবউদ্দিন বলেন, এই বিষয়ে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সব জানে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























