ঢাকা ১০:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পবিপ্রবি’র পিজিএস কমিটির ৭৩ তম সভা অনুষ্ঠিত প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা নারায়ণগঞ্জ এলজিইডিতে ‘৩% দুলাল’ খ্যাত আহসানুজ্জামানের দুর্নীতি বসুন্দিয়া ভূমি অফিস এখন ঘুষের অভায়রণ্য! টাকা না দিলে ফাইল গায়েব চার বছরেও থেমে আছে বিচার-ভোলায় নূরে আলমকে স্মরণে বিএনপি-ছাত্রদলের শ্রদ্ধা ও বিচার দাবি ভারত থেকে ২ হাজার ৯০০ টন কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি ববিসাস’র আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান আলোকচিত্র প্রদর্শনী পাবনায় ‘মদ্যপ অবস্থায়’ ২ রাশিয়ান নাগরিকের মারামারি, নিহত ১ সব মোটরযানের জন্য সতর্কবার্তা আত্রাইয়ে ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

ভোলা-বরিশাল সেতু সহ পাঁচ দফা দাবিতে তেঁতুলিয়া নদী পেরিয়ে  ছাত্র যুবকের ঢাকার পথে লংমার্চ

ভোলা-বরিশাল সেতুসহ পাঁচ দফা দাবিতে ২০ ছাত্র–যুবকের ভোলা থেকে ঢাকা সেতু অফিস পায়ে হেঁটে ও তেঁতুলিয়া নদী সাঁতরে লংমার্চ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে প্রথম ধাপে অংশগ্রহণকারীরা পায়ে হেঁটে ভোলার  ব্যাংকের হাট তেঁতুলিয়া নদীর ঘাটে পৌঁছান। এরপর তেঁতুলিয়া নদীর প্রবল স্রোত ও শীতের ঠান্ডা পানি সহ ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ উপেক্ষা করে তারা সাতার কেটে ভোলার ভূখণ্ড থেকে বরিশালের ভূমিতে ওঠেন। এ সময় নদী সাঁতরে পার হতে গিয়ে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা জানান,গ্যাস ও প্রকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত ভোলা জেলা একটি সেতুর অভাবে দেশের মুলভূখণ্ড থেকে বিছিন্ন রয়েছে। ফলে শিক্ষা স্বাস্থ্য সহ বিভিন্ন সেবা খাতে পিছিয়ে থাকায় বঞ্চিত হচ্ছেন এখানকার বাসিন্দারা। পিছিয়ে পড়া জনপদকে সড়ক পথে সংযুক্ত করতে ভোলা- বরিশাল সেতুর কাজ শুরু করা সহ পাঁচ দফা দাবিতে ভোলার সর্বদক্ষিণের উপজেলা চরফ্যাসন থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বেলা ১১টায়  পায়ে হেটে রাজধানী লং র্মাচ শুরু করেন।
দুইদিনে প্রায় ১শ’ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শুক্রবার দুপুরে তারা ভোলার সদর উপজেলার ভেদুরিয়া এলাকা দিয়ে সাঁতরে তেঁতুলিয়া নদী পাড়ি দিয়ে বরিশালের লাহার হাট যান। চরফ্যাসন থেকে ঢাকা পর্যন্ত প্রায় ৩শ’ কিলোমিটার পথ তারা পায়ে হেটে যাবেন তারা। কোন যানবাহন ব্যবহার করবেন না এমন সিদ্ধান্ত থেকে তারা নদী পাড় হতেও কোন নৌযান ব্যবহার করেন নি।
লংমার্চ চলাকালে চরফ্যাসন, লালমোহন, বোরহানউদ্দিন উপজেলা সদর ও বিভিন্ন হাট বাজারে  দাবির স্বপক্ষে জনসাধারণের সমর্থন আদায় পথে পথে সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন। এদিকে ভোলা থেকে নদী পার হওয়াই তাদের যাত্রার সবচেয়ে  চ্যালেঞ্জিং অংশ ছিল। বর্তমানে তারা বরিশালের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হচ্ছেন। বরিশাল হয়ে সড়কপথে পায়ে হেঁটে ঢাকার দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখবেন। তাদের গন্তব্য ঢাকা সেতু ভবন।  যেখানে পৌঁছে তারা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরবেন। তাদের পাঁচ দফা দাবি গুলো হচ্ছে ১. ভোলা–বরিশাল সেতু নির্মাণ ২. ভোলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন ৩. গ্যাসভিত্তিক শিল্পায়ন ৪. পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ৫. স্থায়ী বেরিবাঁধ ও মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ। এ দিকে তেঁতুলিয়া নদী সাতরে পার হওয়ার সময় রামিম নামের এক আন্দোলনকারী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন তাদের যাত্রাসঙ্গী পর্যবেক্ষণ ট্রলারে থাকা মীর মশারেফ অমি ও মেহেদী হাসান। এখন সে মোটামুটি সুস্থ আছে এবং তারা পথযাত্রা আবার শুরু করেছে । লংমার্চে অংশ নেয়া মেহেদী হাসান বলেন,আমরা দীর্ঘদিন ধরে ৫দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। সরকারের উচ্চপদস্থ দায়িত্বশীলরা আমাদের কথা দিয়েছিল,আগামী ডিসেম্বরে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দৃশ্যমান কাজ শুরু করবে। কিন্তু তাদের কথা অনুযায়ী সেতু নির্মাণের দৃশ্যমান কোনো কাজ আমরা দেখছি না। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের অন্যান্য দাবি পূরনের বিষয়ে কোনো অগ্রগতিও দেখছি না। তারই প্রতিবাদে মঙ্গলবার চরফ্যাশন টাওয়ারের সামনে থেকে পায়ে হেঁটে ভোলা টু ঢাকা সেতু ভবন অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেছি। আজ শুক্রবার তেতুলিয়া নদী সাতরে পাড় হয়ে বরিলাশ সদরের দিকে এগুচ্ছি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পবিপ্রবি’র পিজিএস কমিটির ৭৩ তম সভা অনুষ্ঠিত

ভোলা-বরিশাল সেতু সহ পাঁচ দফা দাবিতে তেঁতুলিয়া নদী পেরিয়ে  ছাত্র যুবকের ঢাকার পথে লংমার্চ

আপডেট সময় ০৮:১৪:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

ভোলা-বরিশাল সেতুসহ পাঁচ দফা দাবিতে ২০ ছাত্র–যুবকের ভোলা থেকে ঢাকা সেতু অফিস পায়ে হেঁটে ও তেঁতুলিয়া নদী সাঁতরে লংমার্চ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে প্রথম ধাপে অংশগ্রহণকারীরা পায়ে হেঁটে ভোলার  ব্যাংকের হাট তেঁতুলিয়া নদীর ঘাটে পৌঁছান। এরপর তেঁতুলিয়া নদীর প্রবল স্রোত ও শীতের ঠান্ডা পানি সহ ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ উপেক্ষা করে তারা সাতার কেটে ভোলার ভূখণ্ড থেকে বরিশালের ভূমিতে ওঠেন। এ সময় নদী সাঁতরে পার হতে গিয়ে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা জানান,গ্যাস ও প্রকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত ভোলা জেলা একটি সেতুর অভাবে দেশের মুলভূখণ্ড থেকে বিছিন্ন রয়েছে। ফলে শিক্ষা স্বাস্থ্য সহ বিভিন্ন সেবা খাতে পিছিয়ে থাকায় বঞ্চিত হচ্ছেন এখানকার বাসিন্দারা। পিছিয়ে পড়া জনপদকে সড়ক পথে সংযুক্ত করতে ভোলা- বরিশাল সেতুর কাজ শুরু করা সহ পাঁচ দফা দাবিতে ভোলার সর্বদক্ষিণের উপজেলা চরফ্যাসন থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বেলা ১১টায়  পায়ে হেটে রাজধানী লং র্মাচ শুরু করেন।
দুইদিনে প্রায় ১শ’ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শুক্রবার দুপুরে তারা ভোলার সদর উপজেলার ভেদুরিয়া এলাকা দিয়ে সাঁতরে তেঁতুলিয়া নদী পাড়ি দিয়ে বরিশালের লাহার হাট যান। চরফ্যাসন থেকে ঢাকা পর্যন্ত প্রায় ৩শ’ কিলোমিটার পথ তারা পায়ে হেটে যাবেন তারা। কোন যানবাহন ব্যবহার করবেন না এমন সিদ্ধান্ত থেকে তারা নদী পাড় হতেও কোন নৌযান ব্যবহার করেন নি।
লংমার্চ চলাকালে চরফ্যাসন, লালমোহন, বোরহানউদ্দিন উপজেলা সদর ও বিভিন্ন হাট বাজারে  দাবির স্বপক্ষে জনসাধারণের সমর্থন আদায় পথে পথে সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন। এদিকে ভোলা থেকে নদী পার হওয়াই তাদের যাত্রার সবচেয়ে  চ্যালেঞ্জিং অংশ ছিল। বর্তমানে তারা বরিশালের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হচ্ছেন। বরিশাল হয়ে সড়কপথে পায়ে হেঁটে ঢাকার দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখবেন। তাদের গন্তব্য ঢাকা সেতু ভবন।  যেখানে পৌঁছে তারা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরবেন। তাদের পাঁচ দফা দাবি গুলো হচ্ছে ১. ভোলা–বরিশাল সেতু নির্মাণ ২. ভোলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন ৩. গ্যাসভিত্তিক শিল্পায়ন ৪. পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ৫. স্থায়ী বেরিবাঁধ ও মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ। এ দিকে তেঁতুলিয়া নদী সাতরে পার হওয়ার সময় রামিম নামের এক আন্দোলনকারী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন তাদের যাত্রাসঙ্গী পর্যবেক্ষণ ট্রলারে থাকা মীর মশারেফ অমি ও মেহেদী হাসান। এখন সে মোটামুটি সুস্থ আছে এবং তারা পথযাত্রা আবার শুরু করেছে । লংমার্চে অংশ নেয়া মেহেদী হাসান বলেন,আমরা দীর্ঘদিন ধরে ৫দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। সরকারের উচ্চপদস্থ দায়িত্বশীলরা আমাদের কথা দিয়েছিল,আগামী ডিসেম্বরে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দৃশ্যমান কাজ শুরু করবে। কিন্তু তাদের কথা অনুযায়ী সেতু নির্মাণের দৃশ্যমান কোনো কাজ আমরা দেখছি না। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের অন্যান্য দাবি পূরনের বিষয়ে কোনো অগ্রগতিও দেখছি না। তারই প্রতিবাদে মঙ্গলবার চরফ্যাশন টাওয়ারের সামনে থেকে পায়ে হেঁটে ভোলা টু ঢাকা সেতু ভবন অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেছি। আজ শুক্রবার তেতুলিয়া নদী সাতরে পাড় হয়ে বরিলাশ সদরের দিকে এগুচ্ছি।