দুর্নীতির অভিযোগে সাময়িক বহিষ্কৃত চট্টগ্রামের মিরসরাই বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন ভুঁইয়া ঠিকানা পরিবর্তন করে গা ঢাকা দিয়েছেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রেরিত নোটিশ অনুযায়ী, তিনি ৫ কর্মদিবসের মধ্যে আত্মসাতকৃত বিদ্যালয়ের ৩৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ফেরত দেননি। গোপন স্থান থেকে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রদান করছেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি (এডহক)র সভাপতি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী স্বাক্ষরিত গত ২৬ অক্টোবর দুর্নীতির টাকা ফেরত চেয়ে প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন ভুঁইয়ার এনআইডিতে উল্লেখিত ঠিকানায় রেজিস্ট্রি যোগে একটি নোটিশ পাঠানো হয় এবং একই নোটিশ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়। কিন্তু আজিম উদ্দিন ভুঁইয়া উক্ত নোটিশ গ্রহণ না করে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্যের আশ্রয় নিয়ে উত্তর প্রদান করেছেন। তিনি অজ্ঞাত স্থান থেকে মোবাইলে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বলেন, অডিট কমিটি তার বিরুদ্ধে যে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনেছেন তা একতরফা। তার মতামত ছাড়া অডিট প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে তিনি ওই অর্থ ফেরত না দিয়ে আইনগত লড়াই চালাবেন।
বিদ্যালয়ের আর্থিক আয়-ব্যয় পর্যালোচনার কাজে নিয়োজিত সরকার নিবন্ধিত অডিট ফার্ম “মাহমুদ সবুজ এন্ড কোং” এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন ভুঁইয়া মিরসরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে ১০ বছরে বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল ও বাউচারের মাধ্যমে ৩৬ লাখ ৭৭ হাজার ৫১০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তিনি চাইলে অডিট প্রতিবেদন চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন। তিনি বিদ্যালয়ে এসে তদন্ত প্রতিবেদনে যে সকল অসঙ্গতি নির্ধারণ করা হয়েছে সেগুলোর উত্তর ও উপযুক্ত ব্যাখ্যা দিতে পারেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির প্রধান অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী জানান, প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন ভুঁইয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রয়েছে। ইচ্ছা করলে যে কোনো সময় বিদ্যালয়ে এসে তদন্ত প্রতিবেদন নিজে দেখে উপযুক্ত ব্যাখ্যা দিতে পারেন। দুর্নীতি ও দূশ্চরিত্রের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের মুখে ৪ জুন ২০২৫ তারিখে তিনি সাময়িক বহিষ্কৃত হন। বহিষ্কৃত থাকা অবস্থায়ও তিনি বিদ্যালয় থেকে নিয়মিত খরচপত্র গ্রহণ করছেন। তবে বহিষ্কারের পর থেকে ঠিকানা পরিবর্তন করে অজ্ঞাত স্থানে গা ঢাকা দিয়েছেন। সাময়িক বহিষ্কারের পর ২৬ অক্টোবর সরকার অনুমোদিত অডিট প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে ৩৬ লাখ ৭৭ হাজার ৫১০ টাকা ৫ কর্মদিবসের মধ্যে বিদ্যালয়ের তহবিলে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি যথাসময়ে অর্থ জমা না দেওয়ায় ৫ নভেম্বর বিদ্যালয় অফিস পিয়ন মারফত, রেজিস্ট্রি যোগে এবং তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপে পুনরায় নোটিশ প্রেরণ করা হয়।
নোটিশে লেখা হয়, বিদ্যালয়ের আর্থিক ক্ষতিসাধন, চরম অসদাচরণ, মারাত্মক শৃঙ্খলাভঙ্গ, চরম নৈতিক শৃঙ্খলন এবং সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রযোজ্য বিধি ও আইন অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নোটিশ প্রাপ্তির ৭ (সাত) দিনের মধ্যে বিদ্যালয়ে আত্মসাতকৃত টাকা ফেরত দিয়ে এডহক কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ে অর্থ আত্মসাৎসহ গুরুতর বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে জানতে সাময়িক বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষক আজিম উদ্দিন ভুঁইয়ার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্টাফ রিপোর্টার 























