ঢাকা ০৬:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাসিক বেতন ১০ হাজার, ৪ কোটির প্রাসাদে বসবাস কর্মচারীর! হত্যা মামলার আসামি ও সাময়িক বরখাস্ত মহিউদ্দীন ববি সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজে বাস-মাহিন্দ্র সংঘর্ষে প্রাণহানি ১, আহত ৪ স্ত্রী পালিয়ে যাওয়ায় ৪০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করলেন স্বামী আমাদের নেতা মানবিক, কোনো বৈষম্য হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দল দুর্ভাগ্যবশত হাসিনার ভাষায় কথা বলছে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ভারতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ পরিবারের সঞ্জিতের ধর্মান্তর, বিয়ে, ২০ লাখ টাকা ও পিতৃপরিচয়ের জটিলতা ও প্রতারণা সালমান শাহ হত্যা মামলা : খলনায়ক ডনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন বালিয়াডাঙ্গীতে স্কুলের ৪৭ শতক জমি নিয়ে বিরোধ, উদ্ধারে মানববন্ধন

রাজধানী ঢাকার মিরপুরের ট্র্যাজেডিতে মৃত্যু সাব্বিরের বরগুনায় দাফন সম্পন্ন

রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়ীতে পোশাক কারখানা ও রাসায়নিক গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের তিন দিন পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া বরগুনার যুবক খালিদ হাসান সাব্বির (৩০ ) দাফন সম্পন্ন হয়েছে । বরগুনা ছেড়ে চাকরিতে যোগদানের মাত্র দেড় মাসের মধ্যে আগুনে পুড়ে নিভে গেলো পরিবারের একমাত্র সন্তান খালিদ। পুরো গ্রাম শোকাহত সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল সমাজসেবক খালিদের মৃত্যুতে।

সোমবার (২০ অক্টোবর) ভোর ৫টায় খালিদের মরদেহ বরগুনা নিয়ে আসা হয়। বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের ইসলামপুর বান্দরগাছিয়া মাদ্রাসা মাঠ সকাল ১১টায় তার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

খালিদ ছিলেন এলাকায় সকলের প্রিয়মূখ। সে বরগুনায় থাকাকালে শিশু-কিশোর সংগঠন ‘খেলাঘর’-এর একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি, খালিদ বিডিক্লিন বরগুনা জেলা টিমের সদস্য হিসেবে শহরের পরিচ্ছন্ন রাখা ও জনসচেতনতামূলক অসংখ্য সামাজিক কাজে নিয়মিত অংশ নিতেন। এলাকার ও পরিচিতদের মধ্যে একজন সংস্কৃতিমনা, মিশুক এবং সমাজসেবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না খালিদের বাবা সাবেক সেনাসদস্য মনিরুল ইসলাম জমাদ্দার। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেটা মাত্র মাসখানেক আগে বরগুনা থেকে ঢাকায় গেল।’

‘গত মঙ্গলবার অগ্নিকাণ্ডের খবরের পর খালিদের কোনো খবর না পেয়ে সন্তানের খোঁজে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গ, ফায়ার সার্ভিস কার্যালয় এবং রূপনগর থানা এলাকায় পাগলের মতো ঘুরেছি। হাসপাতালের মর্গে গিয়ে দেখি, মরদেহগুলো এতটাই বিকৃত যে, নিজের সন্তানকেও চেনার উপায় নেই। শুধু ডিএনএ পরীক্ষার ভরসায় ছিলাম। এমন মৃত্যু যেন আর কারও ভাগ্যে না জোটে।’

খালিদের স্ত্রী বলেন, ‘ওই দিন আমার সাথে তেমন কোনো কথা না হলেও মেসেজ আদান-প্রদান হয়। দুপুরের দিকে আমাদের পরিচিত এক লোক ফোন করে জানান, খালিদের পাশের ভবনে আগুন লেগেছে। তারপর থেকে ফোন দিলে খালিদকে আর পাওয়া যায় না। তারপরেই আমরা সাথে সাথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিই।’

খালিদের ফুপা বলেন, ‘আগুন লাগার সময় খালিদ অফিসের তিনতলায় ছিল। আগুন লাগার খবর পেয়ে নিচে আসলেও সে বের হতে পারেনি। কারণ প্রধান ফটকে তালা লাগানো ছিল। তিনি আরও দাবি করেন, আমাদের দাবি, কে বা কারা তালা লাগাল তা তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনা হোক। যারা এভাবে তালা দিয়ে কর্মীদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিল, তাদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।’

খালিদের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বরগুনার রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, খালিদের মৃত্যুতে সামাজিক অঙ্গনে এক গভীর শূন্যতা সৃষ্টি হলো।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাসিক বেতন ১০ হাজার, ৪ কোটির প্রাসাদে বসবাস কর্মচারীর!

রাজধানী ঢাকার মিরপুরের ট্র্যাজেডিতে মৃত্যু সাব্বিরের বরগুনায় দাফন সম্পন্ন

আপডেট সময় ০৬:৫৯:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়ীতে পোশাক কারখানা ও রাসায়নিক গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের তিন দিন পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া বরগুনার যুবক খালিদ হাসান সাব্বির (৩০ ) দাফন সম্পন্ন হয়েছে । বরগুনা ছেড়ে চাকরিতে যোগদানের মাত্র দেড় মাসের মধ্যে আগুনে পুড়ে নিভে গেলো পরিবারের একমাত্র সন্তান খালিদ। পুরো গ্রাম শোকাহত সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল সমাজসেবক খালিদের মৃত্যুতে।

সোমবার (২০ অক্টোবর) ভোর ৫টায় খালিদের মরদেহ বরগুনা নিয়ে আসা হয়। বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের ইসলামপুর বান্দরগাছিয়া মাদ্রাসা মাঠ সকাল ১১টায় তার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

খালিদ ছিলেন এলাকায় সকলের প্রিয়মূখ। সে বরগুনায় থাকাকালে শিশু-কিশোর সংগঠন ‘খেলাঘর’-এর একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি, খালিদ বিডিক্লিন বরগুনা জেলা টিমের সদস্য হিসেবে শহরের পরিচ্ছন্ন রাখা ও জনসচেতনতামূলক অসংখ্য সামাজিক কাজে নিয়মিত অংশ নিতেন। এলাকার ও পরিচিতদের মধ্যে একজন সংস্কৃতিমনা, মিশুক এবং সমাজসেবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

একমাত্র ছেলের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না খালিদের বাবা সাবেক সেনাসদস্য মনিরুল ইসলাম জমাদ্দার। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেটা মাত্র মাসখানেক আগে বরগুনা থেকে ঢাকায় গেল।’

‘গত মঙ্গলবার অগ্নিকাণ্ডের খবরের পর খালিদের কোনো খবর না পেয়ে সন্তানের খোঁজে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গ, ফায়ার সার্ভিস কার্যালয় এবং রূপনগর থানা এলাকায় পাগলের মতো ঘুরেছি। হাসপাতালের মর্গে গিয়ে দেখি, মরদেহগুলো এতটাই বিকৃত যে, নিজের সন্তানকেও চেনার উপায় নেই। শুধু ডিএনএ পরীক্ষার ভরসায় ছিলাম। এমন মৃত্যু যেন আর কারও ভাগ্যে না জোটে।’

খালিদের স্ত্রী বলেন, ‘ওই দিন আমার সাথে তেমন কোনো কথা না হলেও মেসেজ আদান-প্রদান হয়। দুপুরের দিকে আমাদের পরিচিত এক লোক ফোন করে জানান, খালিদের পাশের ভবনে আগুন লেগেছে। তারপর থেকে ফোন দিলে খালিদকে আর পাওয়া যায় না। তারপরেই আমরা সাথে সাথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিই।’

খালিদের ফুপা বলেন, ‘আগুন লাগার সময় খালিদ অফিসের তিনতলায় ছিল। আগুন লাগার খবর পেয়ে নিচে আসলেও সে বের হতে পারেনি। কারণ প্রধান ফটকে তালা লাগানো ছিল। তিনি আরও দাবি করেন, আমাদের দাবি, কে বা কারা তালা লাগাল তা তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনা হোক। যারা এভাবে তালা দিয়ে কর্মীদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিল, তাদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।’

খালিদের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বরগুনার রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, খালিদের মৃত্যুতে সামাজিক অঙ্গনে এক গভীর শূন্যতা সৃষ্টি হলো।