ঢাকা ০৭:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাসিক বেতন ১০ হাজার, ৪ কোটির প্রাসাদে বসবাস কর্মচারীর! হত্যা মামলার আসামি ও সাময়িক বরখাস্ত মহিউদ্দীন ববি সংলগ্ন দপদপিয়া ব্রিজে বাস-মাহিন্দ্র সংঘর্ষে প্রাণহানি ১, আহত ৪ স্ত্রী পালিয়ে যাওয়ায় ৪০ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করলেন স্বামী আমাদের নেতা মানবিক, কোনো বৈষম্য হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দল দুর্ভাগ্যবশত হাসিনার ভাষায় কথা বলছে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ভারতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ পরিবারের সঞ্জিতের ধর্মান্তর, বিয়ে, ২০ লাখ টাকা ও পিতৃপরিচয়ের জটিলতা ও প্রতারণা সালমান শাহ হত্যা মামলা : খলনায়ক ডনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন বালিয়াডাঙ্গীতে স্কুলের ৪৭ শতক জমি নিয়ে বিরোধ, উদ্ধারে মানববন্ধন

শেরপুর পোস্ট অফিসের জাল নোট চক্রের ২ জন গ্রেপ্তার

শেরপুরে পোস্ট অফিস থেকে উত্তোলিত টাকা জমা দিতে গিয়ে দুইটি ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ জাল নোট শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- মানিক মিয়া (গ্রেপ্তার: ১৬ অক্টোবর) ও হাফিজুর রহমান (গ্রেপ্তার: শনিবার, ১৮ অক্টোবর)।

জানা গেছে, গত ১৩ অক্টোবর শেরপুর সদর উপজেলার গণইমামমিনাকান্দা গ্রামের ষাটোর্ধ্ব নিরক্ষর নারী শাহিনা বেগম শেরপুর উত্তরা ব্যাংকে ২ লাখ ৬৯ হাজার টাকা জমা দিতে যান। টাকা গোনার সময় ব্যাংকের ক্যাশিয়ার দেখতে পান, ওই টাকার মধ্যে ৫৩টি এক হাজার টাকার নোট জাল। এর আগে, ৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুরে শেরপুর সোনালী ব্যাংকে নুহু নামের এক ব্যক্তি সরকারি চালানের ২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা জমা দিতে যান। ব্যাংকের ক্যাশিয়ার টাকা গোনার সময় ২৫টি এক হাজার টাকার নোট জাল বলে শনাক্ত করেন।

উভয় ভুক্তভোগী গ্রাহকই ওই টাকা উত্তোলন করেছিলেন শেরপুর প্রধান ডাকঘর (পোস্ট অফিস) থেকে। পরপর দুটি ঘটনায় বড় অঙ্কের জাল নোট ধরা পড়ায় প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। ইতোমধ্যে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম, নোট হস্তান্তর প্রক্রিয়া এবং জাল নোট চক্রের উৎস শনাক্তে সরকারের অন্তত তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে।

কোর্ট ইন্সপেক্টর জিয়া জানান, মানিক মিয়া ও হাফিজুর রহমান- দুজনকেই আজ আদালতে হাজির করা হয়েছে। হাফিজুর রহমান আদালতে ১৬৪ ধারায় জাল টাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আগামী ২৩ অক্টোবর তার রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

শেরপুর সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জোবাইদুল আলম বলেন, বিষয়টি আমরা খুব গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। এখন পর্যন্ত দুজনকে আটক করা হয়েছে। আরও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, এবং যাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাবে, ধাপে ধাপে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, একই উৎস থেকে জাল নোট ডাকঘরের মাধ্যমে ব্যাংকিং লেনদেনে প্রবেশ করানো হয়ে থাকতে পারে। তাই জাল নোটের উৎস, সরবরাহকারী এবং সম্পৃক্ত সিন্ডিকেটের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাসিক বেতন ১০ হাজার, ৪ কোটির প্রাসাদে বসবাস কর্মচারীর!

শেরপুর পোস্ট অফিসের জাল নোট চক্রের ২ জন গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ১০:০১:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

শেরপুরে পোস্ট অফিস থেকে উত্তোলিত টাকা জমা দিতে গিয়ে দুইটি ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ জাল নোট শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- মানিক মিয়া (গ্রেপ্তার: ১৬ অক্টোবর) ও হাফিজুর রহমান (গ্রেপ্তার: শনিবার, ১৮ অক্টোবর)।

জানা গেছে, গত ১৩ অক্টোবর শেরপুর সদর উপজেলার গণইমামমিনাকান্দা গ্রামের ষাটোর্ধ্ব নিরক্ষর নারী শাহিনা বেগম শেরপুর উত্তরা ব্যাংকে ২ লাখ ৬৯ হাজার টাকা জমা দিতে যান। টাকা গোনার সময় ব্যাংকের ক্যাশিয়ার দেখতে পান, ওই টাকার মধ্যে ৫৩টি এক হাজার টাকার নোট জাল। এর আগে, ৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুরে শেরপুর সোনালী ব্যাংকে নুহু নামের এক ব্যক্তি সরকারি চালানের ২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা জমা দিতে যান। ব্যাংকের ক্যাশিয়ার টাকা গোনার সময় ২৫টি এক হাজার টাকার নোট জাল বলে শনাক্ত করেন।

উভয় ভুক্তভোগী গ্রাহকই ওই টাকা উত্তোলন করেছিলেন শেরপুর প্রধান ডাকঘর (পোস্ট অফিস) থেকে। পরপর দুটি ঘটনায় বড় অঙ্কের জাল নোট ধরা পড়ায় প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। ইতোমধ্যে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম, নোট হস্তান্তর প্রক্রিয়া এবং জাল নোট চক্রের উৎস শনাক্তে সরকারের অন্তত তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে।

কোর্ট ইন্সপেক্টর জিয়া জানান, মানিক মিয়া ও হাফিজুর রহমান- দুজনকেই আজ আদালতে হাজির করা হয়েছে। হাফিজুর রহমান আদালতে ১৬৪ ধারায় জাল টাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আগামী ২৩ অক্টোবর তার রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

শেরপুর সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জোবাইদুল আলম বলেন, বিষয়টি আমরা খুব গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। এখন পর্যন্ত দুজনকে আটক করা হয়েছে। আরও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, এবং যাদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাবে, ধাপে ধাপে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, একই উৎস থেকে জাল নোট ডাকঘরের মাধ্যমে ব্যাংকিং লেনদেনে প্রবেশ করানো হয়ে থাকতে পারে। তাই জাল নোটের উৎস, সরবরাহকারী এবং সম্পৃক্ত সিন্ডিকেটের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।