চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলের (সিইপিজেড) অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড ও জিহং মেডিকেল প্রোডাক্টস (বিডি) কোম্পানি লিমিটেডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর গত ১৭ অক্টোবর এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত একটি কমিটি গঠন করে।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয় ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ারকে।
তবে তিন দিন পার হলেও কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘অধিদপ্তর থেকে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান ঢাকায় অবস্থান করছেন। সেখান থেকে পরবর্তী নির্দেশনা পেলেই তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে। তদন্তে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কিনা এবং আগুন লাগার মূল কারণ কী—তা বেরিয়ে আসবে।’
অগ্নিকাণ্ডের পরদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুড়ে যাওয়া ভবনটির অগ্নি নিরাপত্তার কার্যকারিতা সনদ ছিল না। ভবন নির্মাণেও বিল্ডিং কোডের নিয়ম মানা হয়নি বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘ভবনের কর্তৃপক্ষ অগ্নি নিরাপত্তা সনদের জন্য আবেদন করলেও পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম সম্পন্ন করেনি। আবেদন করলে ডিজাইন জমা দিতে হয়, আমাদের পরিদর্শন কমিটি তা যাচাই-বাছাই করে। এরপর এনওসি দেওয়া হয় এবং পরে কার্যকারিতা সনদ দেওয়া হয়। এই ভবনের আবেদন করা হলেও পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।’
ভবনটি বিল্ডিং কোড অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই নির্মিত হয়েছিল বলে জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘দুই দিক খোলা থাকলেও বাকি দুই দিকে কোনো সেফ গার্ড ছিল না, ফলে ফায়ার ফাইটাররা সেখানে পজিশন নিতে পারেননি।’
গত বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে সিইপিজেডের ১ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর সড়কের আটতলা ভবনের সাততলায় আগুন লাগে। ভবনটিতে দুটি কারখানা ছিল-অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল, যেখানে টাওয়েল ও ক্যাপ তৈরি হতো এবং জিহং মেডিকেল প্রোডাক্টস (বিডি) কোম্পানি লিমিটেডে, যেখানে সার্জিক্যাল গাউনসহ চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন করা হতো।
ওই দিন দুপুর ২টার দিকে লাগা আগুন পরদিন শুক্রবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটের দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে অগ্নিকাণ্ডে কেউ হতাহত হননি। এ ঘটনায় গঠিত কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ১৫ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্ত শুরু না হওয়ায় প্রতিবেদন জমা দিতেও বিলম্ব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম ব্যুরো 





















