ঢাকা ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আইইউবিতে মঞ্চস্থ হলো ইবসেনের কালজয়ী নাটকের আধুনিক রূপ নির্বাচনের পর পদত্যাগ করতে চান রাষ্ট্রপতি : রয়টার্স স্থানীয় সরকারে আদিলুর, তথ্যে রিজওয়ানা, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় পেলেন আসিফ নজরুল ঢাকা-২০ আসনে এনসিপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ নিয়ম ভাঙলেই এক্রিডিটেশন বাতিল, হুঁশিয়ারি বিসিবির ৩২ ঘণ্টায়ও সন্ধান মেলেনি শিশু সাজিদের, হাল ছাড়ছে না ফায়ার সার্ভিস দাফনের সময় কবরে পড়ে যায় মোবাইল, এক রাত পর মাটি সরিয়ে উদ্ধার তারাগঞ্জে গোপন নিয়োগ ও সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগে মানববন্ধন মেসির সঙ্গে নিজ থেকেই দেখা করবেন শাহরুখ সংবর্ধনা পাচ্ছেন হকি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা আমিরুল

একটি রক্ত পরীক্ষায় শনাক্ত করা যাবে ৫০টিরও বেশি ধরনের ক্যান্সার

একটি রক্ত পরীক্ষায় শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে ৫০টিরও বেশি ধরনের ক্যান্সার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য।

উত্তর আমেরিকায় প্রায় এক বছর ধরে পরিচালিত একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই রক্ত পরীক্ষা ক্যান্সারের বহু ধরন সঠিকভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এগুলোর তিন-চতুর্থাংশ ধরনের জন্য বর্তমানে কোনো স্ক্রিনিং কর্মসূচিই নেই।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শনাক্ত হওয়া ক্যান্সারের অর্ধেকেরও বেশি ছিল প্রাথমিক পর্যায়ে। এতে করে এই সংক্রমণের চিকিৎসা তুলনামূলকভাবে সহজ এবং রোগ সারিয়ে তোলার সম্ভাবনাও বেশি।

‘গ্যালেরি টেস্ট’ নামের এই পরীক্ষাটি তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গ্রেইল। টেস্টটি বর্তমানে যুক্তরাজ্যের এনএইচএস-এর উদ্যোগে পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হচ্ছে।

গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ২৫ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১ শতাংশের পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ আসে। এর মধ্যে ৬২ শতাংশ ক্ষেত্রেই পরে ক্যান্সার ধরা পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির বিকিরণ চিকিৎসা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও গবেষণার প্রধান নিমা নবাভিজাদেহ বলেন, ‘এই রক্ত পরীক্ষা আমাদের ক্যান্সার শনাক্ত করার পদ্ধতিতেই মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ক্যান্সারবিহীন ছিলেন, তাদের মধ্যে ৯৯ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে পরীক্ষা সঠিকভাবে ‘নেগেটিভ’ ফল দেখিয়েছে।
ব্রেস্ট, অন্ত্র ও সার্ভিক্যাল স্ক্রিনিংয়ের সঙ্গে এই রক্ত পরীক্ষা যুক্ত করলে সামগ্রিকভাবে শনাক্ত হওয়া ক্যান্সারের সংখ্যা সাতগুণ বেড়েছে।
সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো, ডিম্বাশয়, লিভার, পাকস্থলী, মূত্রথলি ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের মতো শনাক্ত হওয়া তিন-চতুর্থাংশ ক্যান্সারের কোনো স্ক্রিনিং পদ্ধতি বর্তমানে নেই।
এ ছাড়া, পরীক্ষাটি ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই ক্যান্সার কোথা থেকে উৎপত্তি হয়েছে তা সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পেরেছে।

তবে, সব বিজ্ঞানী এখনও পুরোপুরি আশ্বস্ত নন। তাদের মতে, এই পরীক্ষায় মৃত্যুহার কমে কিনা, তা নিশ্চিত করতে আরও দীর্ঘমেয়াদি ও বৃহৎ পরিসরের গবেষণা প্রয়োজন।
এখন যুক্তরাজ্যের তিন বছরব্যাপী ১ লাখ ৪০ হাজার রোগীকে নিয়ে করা এনএইচএস ট্রায়ালকে ঘিরে সবচেয়ে বড় আশা দেখছেন গবেষকরা। এর ফল প্রকাশিত হবে আগামী বছর। যদি ফল ইতিবাচক হয়, এনএইচএস আরও ১০ লাখ মানুষের ওপর এই পরীক্ষা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে।

গ্রেইলের বায়োফার্মা বিভাগের প্রেসিডেন্ট স্যার হারপাল কুমার বলেন, ‘অধিকাংশ ক্যান্সার রোগী মারা যান দেরিতে শনাক্ত হওয়ার কারণে। আমাদের লক্ষ্য হলো, যতটা সম্ভব আগে রোগ শনাক্ত করে সফল চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো।’

তবে সতর্কতার সুরও আছে। ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে–এর নাসের তুরাবি বলেন, ‘এই ধরনের পরীক্ষায় এমন ক্যান্সারও শনাক্ত হতে পারে যা হয়তো কখনোই ক্ষতিকর হতো না। তাই অতিরিক্ত রোগ নির্ণয়ের ঝুঁকি বিবেচনা করাও জরুরি।’

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আইইউবিতে মঞ্চস্থ হলো ইবসেনের কালজয়ী নাটকের আধুনিক রূপ

একটি রক্ত পরীক্ষায় শনাক্ত করা যাবে ৫০টিরও বেশি ধরনের ক্যান্সার

আপডেট সময় ০২:২৭:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

একটি রক্ত পরীক্ষায় শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে ৫০টিরও বেশি ধরনের ক্যান্সার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য।

উত্তর আমেরিকায় প্রায় এক বছর ধরে পরিচালিত একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই রক্ত পরীক্ষা ক্যান্সারের বহু ধরন সঠিকভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এগুলোর তিন-চতুর্থাংশ ধরনের জন্য বর্তমানে কোনো স্ক্রিনিং কর্মসূচিই নেই।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শনাক্ত হওয়া ক্যান্সারের অর্ধেকেরও বেশি ছিল প্রাথমিক পর্যায়ে। এতে করে এই সংক্রমণের চিকিৎসা তুলনামূলকভাবে সহজ এবং রোগ সারিয়ে তোলার সম্ভাবনাও বেশি।

‘গ্যালেরি টেস্ট’ নামের এই পরীক্ষাটি তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গ্রেইল। টেস্টটি বর্তমানে যুক্তরাজ্যের এনএইচএস-এর উদ্যোগে পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হচ্ছে।

গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ২৫ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১ শতাংশের পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ আসে। এর মধ্যে ৬২ শতাংশ ক্ষেত্রেই পরে ক্যান্সার ধরা পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির বিকিরণ চিকিৎসা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও গবেষণার প্রধান নিমা নবাভিজাদেহ বলেন, ‘এই রক্ত পরীক্ষা আমাদের ক্যান্সার শনাক্ত করার পদ্ধতিতেই মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ক্যান্সারবিহীন ছিলেন, তাদের মধ্যে ৯৯ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে পরীক্ষা সঠিকভাবে ‘নেগেটিভ’ ফল দেখিয়েছে।
ব্রেস্ট, অন্ত্র ও সার্ভিক্যাল স্ক্রিনিংয়ের সঙ্গে এই রক্ত পরীক্ষা যুক্ত করলে সামগ্রিকভাবে শনাক্ত হওয়া ক্যান্সারের সংখ্যা সাতগুণ বেড়েছে।
সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো, ডিম্বাশয়, লিভার, পাকস্থলী, মূত্রথলি ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের মতো শনাক্ত হওয়া তিন-চতুর্থাংশ ক্যান্সারের কোনো স্ক্রিনিং পদ্ধতি বর্তমানে নেই।
এ ছাড়া, পরীক্ষাটি ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই ক্যান্সার কোথা থেকে উৎপত্তি হয়েছে তা সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পেরেছে।

তবে, সব বিজ্ঞানী এখনও পুরোপুরি আশ্বস্ত নন। তাদের মতে, এই পরীক্ষায় মৃত্যুহার কমে কিনা, তা নিশ্চিত করতে আরও দীর্ঘমেয়াদি ও বৃহৎ পরিসরের গবেষণা প্রয়োজন।
এখন যুক্তরাজ্যের তিন বছরব্যাপী ১ লাখ ৪০ হাজার রোগীকে নিয়ে করা এনএইচএস ট্রায়ালকে ঘিরে সবচেয়ে বড় আশা দেখছেন গবেষকরা। এর ফল প্রকাশিত হবে আগামী বছর। যদি ফল ইতিবাচক হয়, এনএইচএস আরও ১০ লাখ মানুষের ওপর এই পরীক্ষা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে।

গ্রেইলের বায়োফার্মা বিভাগের প্রেসিডেন্ট স্যার হারপাল কুমার বলেন, ‘অধিকাংশ ক্যান্সার রোগী মারা যান দেরিতে শনাক্ত হওয়ার কারণে। আমাদের লক্ষ্য হলো, যতটা সম্ভব আগে রোগ শনাক্ত করে সফল চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো।’

তবে সতর্কতার সুরও আছে। ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে–এর নাসের তুরাবি বলেন, ‘এই ধরনের পরীক্ষায় এমন ক্যান্সারও শনাক্ত হতে পারে যা হয়তো কখনোই ক্ষতিকর হতো না। তাই অতিরিক্ত রোগ নির্ণয়ের ঝুঁকি বিবেচনা করাও জরুরি।’