মিঠাপুকুর, রংপুর: রংপুরের মিঠাপুকুরে এক নিরীহ ব্যক্তিকে ধর্ষণ ও মারপিটের মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। গত ৬ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে মোছাঃ মেরিনা বেগম নামে এক নারী মিঠাপুকুর থানায় তার প্রতিবেশী মোতালেব মিয়া ও তার স্ত্রী তাজমিন বেগমের বিরুদ্ধে একটি এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে তিনি মোতালেব মিয়ার বিরুদ্ধে তাকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ আনেন। একই সাথে, তিনি অভিযোগ করেন যে মোতালেব ও তার স্ত্রী বিকেলে তাকে ও তার স্বামীকে মারপিট করে গুরুতর জখম করেছেন।
তবে স্থানীয় সাংবাদিকরা এ ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন। এলাকার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী জানিয়েছেন, মামলার এজাহারে বর্ণিত ঘটনার সময় অভিযুক্ত মোতালেব মিয়া তার কর্মস্থলে ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন মিয়া সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন যে, ঘটনার দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মোতালেব মিয়া তার সঙ্গেই কাজ করেছেন।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, মামলার এজাহারে উল্লেখিত একজন প্রধান সাক্ষী, মোস্তাফিজার রহমান মন্ডল, সাংবাদিকদের কাছে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তিনি এই ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং ঘটনার দিন তিনি এলাকায় ছিলেন না। এমনকি তাকে মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে, সে ব্যাপারেও তিনি অবগত নন।
এসব তথ্যের ভিত্তিতে, এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে প্রশ্ন উঠেছে যে, এটি কি শুধুই একটি সাজানো ও মিথ্যা মামলা? যদি তাই হয়, তবে কেন একজন নিরীহ ব্যক্তিকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, তার পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী?
অভিযুক্ত মোতালেব মিয়া বলেন,
“আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ঘটনার দিন আমি সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাজের জায়গায় ছিলাম—এ বিষয়ে অনেকেই সাক্ষ্য দিতে পারবেন। আমাকে ফাঁসানোর জন্যই এই নাটক সাজানো হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, যাতে প্রকৃত সত্য সবার সামনে আসে এবং আমি ও আমার পরিবার এই মিথ্যা হয়রানি থেকে মুক্তি পাই।”
এই মিথ্যা অভিযোগের কারণে অভিযুক্ত মোতালেব মিয়া ও তার পরিবার চরম হয়রানি ও মানসিক যন্ত্রণার শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়রা দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এবিষয়ে মামলা তদন্তকারী এস আই শাহীনুর জানান মামলা রেকর্ড হয়েছে এখন তদন্ত চলছে।
আশিকুর রহমান, মিঠাপুকুর উপজেলা প্রতিনিধি,রংপুর, 





















