সংবাদ শিরোনাম ::
ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৮ দুর্বল ব্যাংকের মালিকানায় আগের মালিকরা ফিরতে পারবেন না : অর্থমন্ত্রী তিন মামলায় জামিন পেলেন কণ্ঠশিল্পী মমতাজ পরিপূর্ণ সুস্থতার দিকে মির্জা আব্বাস, চলছে পায়ের থেরাপি অর্থবিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস দাদির ভিডিও বার্তা দেখে কাঁদলেন ভিনিসিয়ুস গঙ্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে জসীমউদ্দীন বাবুলের পথচলায় দোয়া ও সমর্থন–জনগণের সেবায় সফলতা কামনা লক্ষ্মীপুরের সেরা ১০ উচ্চ বিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ: শীর্ষে প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগে ভয়ংকর জালিয়াতির অভিযোগ ভোলাহাটে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি ২০২৬ শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত! 

রানী রাসমণি ঘাটে অবৈধ ইলিশ নিধন বন্ধে ব্যর্থতা প্রশাসনের অভিযানেও থামছে না পাচারচক্র

চট্টগ্রামের উত্তর কাট্টলী এলাকার রানী রাসমণি ঘাটে অবৈধভাবে ইলিশ মাছ ধরার প্রবণতা কোনভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের টানা অভিযান, কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর টহল সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত এই ঘাট থেকে শত শত মেট্রিক টন ইলিশ পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রানী রাসমণি ঘাটের প্রভাবশালী দুই ব্যক্তি—ক্যালন মাঝি ও মন্নান—দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ইলিশ নিধন ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়েও তাদের নেতৃত্বে জেলেরা রাতে ইলিশ আহরণ করছে এবং পাইকারি ও খুচরা বাজারে সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম একাধিকবার এ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছেন। তাছাড়া কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনও যৌথভাবে অভিযান চালিয়েছে। তবে ধারাবাহিক অভিযানের পরও কার্যকর ফলাফল না পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এই অবৈধ ব্যবসা টিকে আছে। পূর্বে ক্ষমতাসীন দলের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ঘনিষ্ঠতা ব্যবহার করে তারা এই ব্যবসা পরিচালনা করত বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও তারা নতুন পরিচয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় জেলে সম্প্রদায়ের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, প্রশাসনের নজরদারি বাড়লেও রাতের অন্ধকারে ঘাট থেকে ইলিশ পাচার অব্যাহত রয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, “মা ইলিশ রক্ষায় আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। নৌ-পুলিশ, কোস্ট গার্ড, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসন সবাই মাঠে তৎপর রয়েছেন। সেনাবাহিনীও আমাদের সহযোগিতা করছে। প্রতিদিন মাছ ধরা ও পাচারের ঘটনায় জেলেদের জরিমানা করা হচ্ছে এবং আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় সহযোগিতা ছাড়া এই সিন্ডিকেট ভাঙা স্থায়ীভাবে কঠিন।”

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে হলে স্থানীয় প্রশাসন, জেলেদের সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যথায় এমন সিন্ডিকেটগুলো আইনকে ফাঁকি দিয়ে দেশের মৎস্যসম্পদ ধ্বংস করবে এবং মা ইলিশ নিধনের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক মৎস্য উৎপাদন হুমকির মুখে পড়বে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৮

রানী রাসমণি ঘাটে অবৈধ ইলিশ নিধন বন্ধে ব্যর্থতা প্রশাসনের অভিযানেও থামছে না পাচারচক্র

আপডেট সময় ০৭:৪৪:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

চট্টগ্রামের উত্তর কাট্টলী এলাকার রানী রাসমণি ঘাটে অবৈধভাবে ইলিশ মাছ ধরার প্রবণতা কোনভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের টানা অভিযান, কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর টহল সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত এই ঘাট থেকে শত শত মেট্রিক টন ইলিশ পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রানী রাসমণি ঘাটের প্রভাবশালী দুই ব্যক্তি—ক্যালন মাঝি ও মন্নান—দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ইলিশ নিধন ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়েও তাদের নেতৃত্বে জেলেরা রাতে ইলিশ আহরণ করছে এবং পাইকারি ও খুচরা বাজারে সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম একাধিকবার এ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছেন। তাছাড়া কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনও যৌথভাবে অভিযান চালিয়েছে। তবে ধারাবাহিক অভিযানের পরও কার্যকর ফলাফল না পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এই অবৈধ ব্যবসা টিকে আছে। পূর্বে ক্ষমতাসীন দলের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ঘনিষ্ঠতা ব্যবহার করে তারা এই ব্যবসা পরিচালনা করত বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও তারা নতুন পরিচয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় জেলে সম্প্রদায়ের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, প্রশাসনের নজরদারি বাড়লেও রাতের অন্ধকারে ঘাট থেকে ইলিশ পাচার অব্যাহত রয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, “মা ইলিশ রক্ষায় আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। নৌ-পুলিশ, কোস্ট গার্ড, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসন সবাই মাঠে তৎপর রয়েছেন। সেনাবাহিনীও আমাদের সহযোগিতা করছে। প্রতিদিন মাছ ধরা ও পাচারের ঘটনায় জেলেদের জরিমানা করা হচ্ছে এবং আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় সহযোগিতা ছাড়া এই সিন্ডিকেট ভাঙা স্থায়ীভাবে কঠিন।”

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে হলে স্থানীয় প্রশাসন, জেলেদের সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যথায় এমন সিন্ডিকেটগুলো আইনকে ফাঁকি দিয়ে দেশের মৎস্যসম্পদ ধ্বংস করবে এবং মা ইলিশ নিধনের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক মৎস্য উৎপাদন হুমকির মুখে পড়বে।