ঢাকা ০২:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
উল্টো পথে আসা পিকআপে অটোরিকশায় ধাক্কা, অন্তঃসত্ত্বাসহ আহত ৭ এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’ সদস্য হলেন ২ এমপি গুম-নির্যাতের পেছনে দায়ী শেখ হাসিনা : জেরায় সাক্ষী পটুয়াখালীতে এসএসসি-সমমান পরীক্ষায় ৫৩৩ জন অনুপস্থিত বাংলাদেশি জাহাজকে কেন হরমুজ প্রণালি পার হতে দিচ্ছে না ইরান? অপতথ্যের বিস্তার রোধে ইউনেস্কোর সহযোগিতা চাইলেন তথ্যমন্ত্রী ঢাকায় মা‌র্কিন রাষ্ট্রদূ‌তের ১০০ দিন : বাণিজ্য চুক্তিকে বললেন ‘ঐতিহাসিক’ নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে অনীহা, সিরাজগঞ্জে প্রভাষক সাময়িক বরখাস্ত ১৪ জেলায় বইছে তাপপ্রবাহ, অব্যাহত থাকার আভাস সাভারে খাদ্য অধিদপ্তরের ৩৬১ বস্তা চাল জব্দ, আটক ৩

রাজধানীতে অপরাধের নিরাপদ জায়গা আবাসিক হোটেল

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০৮:৫০:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৮০২ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশপথ মিরপুর, গাবতলী এবং সাভার অঞ্চলের আবাসিক হোটেলগুলো সাধারণ মানুষের চোখে কেবল রাতযাপনের একটি সাধারণ ঠিকানা। কিন্তু অনুসন্ধান বলছে, এইসব হোটেল কেবল আবাসিক নয়, বরং ভয়ঙ্কর এক অন্ধকার জগতের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। দেহব্যবসা, মাদক কারবার, জিম্মি বানিয়ে অর্থ আদায়, প্রতারণা—সব মিলিয়ে এই হোটেলগুলো এখন অপরাধের নিরাপদ আস্তানা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে মাঝে মধ্যে অভিযান চালানো হলেও মূল সিন্ডিকেট অক্ষত থেকে যায়। প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী এবং কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার যোগসাজশে এ ব্যবসা বছরের পর বছর ধরে অব্যাহত।
চিহ্নিত হোটেল ও মালিক : স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, একাধিক হোটেল সরাসরি এ অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত। সেগুলো হলো-
হোটেল আল মামুন, মিরপুর-১, মালিক: মামুন
হোটেল গোল্ডেন, মিরপুর-১ মাজার রোড, মালিক: সোহেল, জুলহাস
হোটেল প্রজাপতি, মিরপুর-১ মালিক: বাদশা, হারুন, জুলহাস, সোহেল
হোটেল নিউ লন্ডন প্যালেস আবাসিক, মিরপুর-১, মালিক: মারুফ
হোটেল গার্ডেন ভিউ, মিরপুর-১, মালিক: আজাদ,
হোটেল পপুলার আবাসিক, গাবতলী মাজার রোড, মালিক: জসিম, জুলহাস, হারুন
হোটেল আল-বারাকা, গাবতলী মাজার রোড, নিয়ন্ত্রণে একই সিন্ডিকেট
হোটেল সিটি মহল, গাবতলী মাজার রোড, মালিক: বাদশা, জসিম, মুরাদ, জুলহাস
হোটেল জম জম, গাবতলী মাজার রোড, মালিক:সোহাগ, বকুল
আকাশ ছোঁয়া গেষ্ট হাউজ, সাভার, মালিক মো. জুলহাস, সবুজ মাহমুদ, আল-আমিন (বাদল)
রাজমহল গেস্ট হাউজ, সাভার, নিয়ন্ত্রণে একই সিন্ডিকেট
প্রতিটি হোটেলের আড়ালে চলে একই ধরনের কারবার। দিনের বেলা কিছুটা আড়াল থাকলেও রাত নামলেই এখানে শুরু হয় অবৈধ লেনদেনের উৎসব।
অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিটি হোটেলের জন্য নির্দিষ্ট দালাল চক্র কাজ করে। তারা গাবতলী বাস টার্মিনাল, মিরপুরের প্রধান সড়ক, সাভারের বাজার এলাকা থেকে ক্রেতা সংগ্রহ করে হোটেলে নিয়ে আসে।
রুম ভাড়া ও সময়ভিত্তিক ব্যবসা : ঘণ্টাপ্রতি রুম ভাড়া ৫০০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করে। এর বাইরেও গোপনে বাড়তি অর্থ নেওয়া হয়।
নারীদের অবস্থা : অধিকাংশ নারী গ্রামের অসহায় পরিবার থেকে প্রলোভনে এনে জোরপূর্বক নামানো হয় এই ব্যবসায়। কেউ কেউ দারিদ্র্যের কারণে স্বেচ্ছায় যুক্ত হলেও তাদেরও সিন্ডিকেটের নির্দিষ্ট ভাগ দিতে হয়।
অপ্রাপ্তবয়স্ক ভিকটিম : ভয়াবহভাবে উঠে এসেছে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী ব্যবহার করার ঘটনা। তাদের অনেককে কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঢাকায় এনে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় ঠেলে দেওয়া হয়।
মাদক ব্যবসার গোপন আস্তানা : হোটেলের প্রতিটি রুম কেবল যৌন বাণিজ্যের কেন্দ্র নয়, বরং মাদক সেবন ও বিক্রির আড্ডায়ও পরিণত হয়েছে।
পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা: ইয়াবা, আইস, ফেনসিডিল, গাঁজা সবকিছুই এখানে সহজলভ্য।
সাপ্লাই চেইন: স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা হোটেল মালিকদের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক কাজ করে। প্রতিদিনের হিসাব মিলিয়ে মালিকরা মোটা অঙ্কের কমিশন নেয়।
মাদকের ক্রেতা : স্থানীয় বেকার তরুণ, ট্রাক চালক, শ্রমিক থেকে শুরু করে বাইরের আগত লোকজন পর্যন্ত সবাই এই মাদকের ক্রেতা।
জিম্মি বানিয়ে অর্থ আদায় : এই হোটেলগুলোর অন্যতম ভয়ঙ্কর দিক হলো-অতিথিদের জিম্মি বানানো।
প্রথমে দালালরা প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে হোটেলে নিয়ে গিয়ে কৌশলে মেয়েদের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ঢুকিয়ে দিয়ে হঠাৎই কয়েকজন “স্টাফ” ঢুকে পড়ে।
এরপর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ টাকা, মোবাইল, ব্যাংক কার্ড কেড়ে নেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীকে আটকে রেখে আত্মীয়স্বজনকে ফোন দিয়ে টাকা আদায় করা হয়।
একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও মামলা নেওয়া হয়নি; বরং পুলিশ সমঝোতার চেষ্টা করেছে।
হোটেল মালিকরা প্রতি মাসে নিয়মিত মোটা অঙ্কের টাকা এলাকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ সদস্য ও দালাল চক্রকে দেয়। মালিকদের অনেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
মাঝে মাঝে ছোটখাটো অভিযান চালানো হলেও মূল হোতারা ধরা পড়ে না। আটক হয় কেবল নারী বা দালাল। বারবার অভিযোগ সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে টেকসই পদক্ষেপ দেখা যায় না।
মাদকাসক্তি ও দেহব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে ভবিষ্যৎ ধ্বংস হচ্ছে। আশেপাশের এলাকায় রাতে নারীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অনেক শ্রমিক, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। দেহব্যবসা ও মাদক থেকে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে অস্ত্র কেনা ও অন্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগ হচ্ছে।
একজন ভুক্তভোগী চাকরিজীবী জানান “গাবতলীতে নামার পর এক লোক খুব ভালোভাবে আমার সঙ্গে কথা বলে হোটেলে নিয়ে যায়। হঠাৎ কয়েকজন ঢুকে পড়ে ছবি তোলে। পরে আমাকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা দিতে হয়। না দিলে নাকি ছবি ভাইরাল করে দেবে।”
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন- “আমাদের বাচ্চাদের নিয়ে এই এলাকায় বের হতে ভয় লাগে। হোটেলের ভেতর থেকে সবসময় অশ্লীল শব্দ, ঝগড়াঝাঁটি আর মাদকাসক্তদের চিৎকার শোনা যায়। পুলিশ জানে, তবু কিছু করে না।”
পুলিশের এক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, হোটেলগুলোতে দেহব্যবসা ও মাদক চলে। তবে তিনি দাবি করেন, নিয়মিত অভিযান চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—যদি অভিযান চলে, তবে কেন এতদিনেও মূল হোতারা ধরা পড়ছে না?
মিরপুর, গাবতলী ও সাভারের আবাসিক হোটেলগুলোর এই ভয়ঙ্কর চক্র কেবল একটি এলাকার সমস্যা নয়, বরং দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি। দেহব্যবসা, মাদক ও জিম্মি বানিয়ে অর্থ আদায়ের মতো অপরাধ থামাতে না পারলে অল্প দিনের মধ্যেই এ অঞ্চলগুলো নিয়ন্ত্রণহীন অপরাধের রাজধানীতে পরিণত হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের আন্তরিক পদক্ষেপ, রাজনৈতিক আশ্রয়দাতাদের আইনের আওতায় আনা এবং সামাজিক আন্দোলন ছাড়া এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উল্টো পথে আসা পিকআপে অটোরিকশায় ধাক্কা, অন্তঃসত্ত্বাসহ আহত ৭

রাজধানীতে অপরাধের নিরাপদ জায়গা আবাসিক হোটেল

আপডেট সময় ০৮:৫০:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ঢাকার উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশপথ মিরপুর, গাবতলী এবং সাভার অঞ্চলের আবাসিক হোটেলগুলো সাধারণ মানুষের চোখে কেবল রাতযাপনের একটি সাধারণ ঠিকানা। কিন্তু অনুসন্ধান বলছে, এইসব হোটেল কেবল আবাসিক নয়, বরং ভয়ঙ্কর এক অন্ধকার জগতের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। দেহব্যবসা, মাদক কারবার, জিম্মি বানিয়ে অর্থ আদায়, প্রতারণা—সব মিলিয়ে এই হোটেলগুলো এখন অপরাধের নিরাপদ আস্তানা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নামে মাঝে মধ্যে অভিযান চালানো হলেও মূল সিন্ডিকেট অক্ষত থেকে যায়। প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী এবং কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার যোগসাজশে এ ব্যবসা বছরের পর বছর ধরে অব্যাহত।
চিহ্নিত হোটেল ও মালিক : স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, একাধিক হোটেল সরাসরি এ অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত। সেগুলো হলো-
হোটেল আল মামুন, মিরপুর-১, মালিক: মামুন
হোটেল গোল্ডেন, মিরপুর-১ মাজার রোড, মালিক: সোহেল, জুলহাস
হোটেল প্রজাপতি, মিরপুর-১ মালিক: বাদশা, হারুন, জুলহাস, সোহেল
হোটেল নিউ লন্ডন প্যালেস আবাসিক, মিরপুর-১, মালিক: মারুফ
হোটেল গার্ডেন ভিউ, মিরপুর-১, মালিক: আজাদ,
হোটেল পপুলার আবাসিক, গাবতলী মাজার রোড, মালিক: জসিম, জুলহাস, হারুন
হোটেল আল-বারাকা, গাবতলী মাজার রোড, নিয়ন্ত্রণে একই সিন্ডিকেট
হোটেল সিটি মহল, গাবতলী মাজার রোড, মালিক: বাদশা, জসিম, মুরাদ, জুলহাস
হোটেল জম জম, গাবতলী মাজার রোড, মালিক:সোহাগ, বকুল
আকাশ ছোঁয়া গেষ্ট হাউজ, সাভার, মালিক মো. জুলহাস, সবুজ মাহমুদ, আল-আমিন (বাদল)
রাজমহল গেস্ট হাউজ, সাভার, নিয়ন্ত্রণে একই সিন্ডিকেট
প্রতিটি হোটেলের আড়ালে চলে একই ধরনের কারবার। দিনের বেলা কিছুটা আড়াল থাকলেও রাত নামলেই এখানে শুরু হয় অবৈধ লেনদেনের উৎসব।
অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিটি হোটেলের জন্য নির্দিষ্ট দালাল চক্র কাজ করে। তারা গাবতলী বাস টার্মিনাল, মিরপুরের প্রধান সড়ক, সাভারের বাজার এলাকা থেকে ক্রেতা সংগ্রহ করে হোটেলে নিয়ে আসে।
রুম ভাড়া ও সময়ভিত্তিক ব্যবসা : ঘণ্টাপ্রতি রুম ভাড়া ৫০০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করে। এর বাইরেও গোপনে বাড়তি অর্থ নেওয়া হয়।
নারীদের অবস্থা : অধিকাংশ নারী গ্রামের অসহায় পরিবার থেকে প্রলোভনে এনে জোরপূর্বক নামানো হয় এই ব্যবসায়। কেউ কেউ দারিদ্র্যের কারণে স্বেচ্ছায় যুক্ত হলেও তাদেরও সিন্ডিকেটের নির্দিষ্ট ভাগ দিতে হয়।
অপ্রাপ্তবয়স্ক ভিকটিম : ভয়াবহভাবে উঠে এসেছে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী ব্যবহার করার ঘটনা। তাদের অনেককে কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঢাকায় এনে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় ঠেলে দেওয়া হয়।
মাদক ব্যবসার গোপন আস্তানা : হোটেলের প্রতিটি রুম কেবল যৌন বাণিজ্যের কেন্দ্র নয়, বরং মাদক সেবন ও বিক্রির আড্ডায়ও পরিণত হয়েছে।
পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা: ইয়াবা, আইস, ফেনসিডিল, গাঁজা সবকিছুই এখানে সহজলভ্য।
সাপ্লাই চেইন: স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা হোটেল মালিকদের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক কাজ করে। প্রতিদিনের হিসাব মিলিয়ে মালিকরা মোটা অঙ্কের কমিশন নেয়।
মাদকের ক্রেতা : স্থানীয় বেকার তরুণ, ট্রাক চালক, শ্রমিক থেকে শুরু করে বাইরের আগত লোকজন পর্যন্ত সবাই এই মাদকের ক্রেতা।
জিম্মি বানিয়ে অর্থ আদায় : এই হোটেলগুলোর অন্যতম ভয়ঙ্কর দিক হলো-অতিথিদের জিম্মি বানানো।
প্রথমে দালালরা প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে হোটেলে নিয়ে গিয়ে কৌশলে মেয়েদের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ঢুকিয়ে দিয়ে হঠাৎই কয়েকজন “স্টাফ” ঢুকে পড়ে।
এরপর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ টাকা, মোবাইল, ব্যাংক কার্ড কেড়ে নেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীকে আটকে রেখে আত্মীয়স্বজনকে ফোন দিয়ে টাকা আদায় করা হয়।
একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও মামলা নেওয়া হয়নি; বরং পুলিশ সমঝোতার চেষ্টা করেছে।
হোটেল মালিকরা প্রতি মাসে নিয়মিত মোটা অঙ্কের টাকা এলাকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ সদস্য ও দালাল চক্রকে দেয়। মালিকদের অনেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
মাঝে মাঝে ছোটখাটো অভিযান চালানো হলেও মূল হোতারা ধরা পড়ে না। আটক হয় কেবল নারী বা দালাল। বারবার অভিযোগ সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে টেকসই পদক্ষেপ দেখা যায় না।
মাদকাসক্তি ও দেহব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে ভবিষ্যৎ ধ্বংস হচ্ছে। আশেপাশের এলাকায় রাতে নারীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অনেক শ্রমিক, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। দেহব্যবসা ও মাদক থেকে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে অস্ত্র কেনা ও অন্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগ হচ্ছে।
একজন ভুক্তভোগী চাকরিজীবী জানান “গাবতলীতে নামার পর এক লোক খুব ভালোভাবে আমার সঙ্গে কথা বলে হোটেলে নিয়ে যায়। হঠাৎ কয়েকজন ঢুকে পড়ে ছবি তোলে। পরে আমাকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা দিতে হয়। না দিলে নাকি ছবি ভাইরাল করে দেবে।”
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন- “আমাদের বাচ্চাদের নিয়ে এই এলাকায় বের হতে ভয় লাগে। হোটেলের ভেতর থেকে সবসময় অশ্লীল শব্দ, ঝগড়াঝাঁটি আর মাদকাসক্তদের চিৎকার শোনা যায়। পুলিশ জানে, তবু কিছু করে না।”
পুলিশের এক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, হোটেলগুলোতে দেহব্যবসা ও মাদক চলে। তবে তিনি দাবি করেন, নিয়মিত অভিযান চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—যদি অভিযান চলে, তবে কেন এতদিনেও মূল হোতারা ধরা পড়ছে না?
মিরপুর, গাবতলী ও সাভারের আবাসিক হোটেলগুলোর এই ভয়ঙ্কর চক্র কেবল একটি এলাকার সমস্যা নয়, বরং দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি। দেহব্যবসা, মাদক ও জিম্মি বানিয়ে অর্থ আদায়ের মতো অপরাধ থামাতে না পারলে অল্প দিনের মধ্যেই এ অঞ্চলগুলো নিয়ন্ত্রণহীন অপরাধের রাজধানীতে পরিণত হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের আন্তরিক পদক্ষেপ, রাজনৈতিক আশ্রয়দাতাদের আইনের আওতায় আনা এবং সামাজিক আন্দোলন ছাড়া এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।