সংবাদ শিরোনাম ::
সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী

৫ আগস্টের পর বাজারে সাপ্লাই ঠিক রাখা চ্যালেঞ্জ ছিল : বাণিজ্য উপদেষ্টা

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে পণ্য তৈরির কাঁচামালের অভাব রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে সে অভাব পূরণ করতে পারে। আল্লাহ তায়ালা জ্ঞানার্জনে কাউকে মনোপলি দেননি। যে যত চেষ্টা করবে সে ততটা অর্জন করতে পারবে। এখানে কোনো সিন্ডিকেশন নেই।

শুক্রবার ( ১২ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসা গবেষণা ব্যুরোর উদ্যোগে ‘ব্যবসার ভবিষ্যৎ: উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়’ বিষয়ক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

উপদেষ্টা বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিগত রমজানে সরকারের অর্থ বিভাগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সামগ্রিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রাখায় নিত্যপণ্যের দাম কম ছিল।

৫ আগস্টের পর বাজারকে সঠিক পথে পরিচালিত করা চ্যালেঞ্জ ছিল উল্লেখ করে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আপনারা জানেন তখন তথাকথিত সিন্ডিকেটের অনেক সদস্য দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। তখন সাপ্লাই ঠিক রাখা ছিল খুবই জটিল। সরকারের সামগ্রিক প্রচেষ্টায় সে অবস্থা থেকে আমরা উন্নীত হত সক্ষম হই। এটা সম্ভব হয়েছে ব্যবসায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের ফলে।

উপদেষ্টা আরো বলেন, শেখ হাসিনার পতনের পর আমাদের রিজার্ভ ১০ বিলিয়নের মত ছিল। বিভিন্ন দেশের কাছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে আমাদের দায় ছিল ৬ বিলিয়ন। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আমরা সব দায় পরিশোধ করেছি। বর্তমানে দেশের রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ বিলিয়ন ডলার।

তিনি বলেন, লেবার প্রডাক্টিভিটি, ইউটিলিটি প্রোপরশন, লজিস্টিক এক্সিলেন্স, কস্ট টু ফিন্যান্স, অ্যাকসেস টু ফিন্যান্স এবং অ্যাকসেস টু মার্কেট নিশ্চিত করতে পারলে কাঁচামালের অভাব পূরণ করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। সঠিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে পাঁচ বছরেই বাংলাদেশকে সোনার খনিতে রূপান্তর সম্ভব।

ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সরকারে কাছে প্রত্যাশা কি? এমন এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসকেরা ক্রোনিস তৈরি করেছিল। সম্পদের বণ্টন ছিল মারাত্মকভাবে সামঞ্জস্যহীন। যে ক্রোনিস তারা তৈরি করেছিল দেশের অর্থনীতিতে তাদের ভূমিকা ছিল না বরং তারা বাজার ব্যবস্থাপনাকে অস্থিতিশীল করেছিল। ভবিষ্যতের সরকার যেন সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বাজার পরিচালনা করে এবং নিরপেক্ষ রিফর্ম করে তাহলে বাজার ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে এবং সম্পদের সুষম বন্টণ নিশ্চিত হবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: তৈয়ব চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম এবং সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুসলিম চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত

৫ আগস্টের পর বাজারে সাপ্লাই ঠিক রাখা চ্যালেঞ্জ ছিল : বাণিজ্য উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৮:৩৯:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে পণ্য তৈরির কাঁচামালের অভাব রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে সে অভাব পূরণ করতে পারে। আল্লাহ তায়ালা জ্ঞানার্জনে কাউকে মনোপলি দেননি। যে যত চেষ্টা করবে সে ততটা অর্জন করতে পারবে। এখানে কোনো সিন্ডিকেশন নেই।

শুক্রবার ( ১২ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসা গবেষণা ব্যুরোর উদ্যোগে ‘ব্যবসার ভবিষ্যৎ: উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়’ বিষয়ক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

উপদেষ্টা বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিগত রমজানে সরকারের অর্থ বিভাগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সামগ্রিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রাখায় নিত্যপণ্যের দাম কম ছিল।

৫ আগস্টের পর বাজারকে সঠিক পথে পরিচালিত করা চ্যালেঞ্জ ছিল উল্লেখ করে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আপনারা জানেন তখন তথাকথিত সিন্ডিকেটের অনেক সদস্য দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। তখন সাপ্লাই ঠিক রাখা ছিল খুবই জটিল। সরকারের সামগ্রিক প্রচেষ্টায় সে অবস্থা থেকে আমরা উন্নীত হত সক্ষম হই। এটা সম্ভব হয়েছে ব্যবসায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের ফলে।

উপদেষ্টা আরো বলেন, শেখ হাসিনার পতনের পর আমাদের রিজার্ভ ১০ বিলিয়নের মত ছিল। বিভিন্ন দেশের কাছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে আমাদের দায় ছিল ৬ বিলিয়ন। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আমরা সব দায় পরিশোধ করেছি। বর্তমানে দেশের রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ বিলিয়ন ডলার।

তিনি বলেন, লেবার প্রডাক্টিভিটি, ইউটিলিটি প্রোপরশন, লজিস্টিক এক্সিলেন্স, কস্ট টু ফিন্যান্স, অ্যাকসেস টু ফিন্যান্স এবং অ্যাকসেস টু মার্কেট নিশ্চিত করতে পারলে কাঁচামালের অভাব পূরণ করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। সঠিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে পাঁচ বছরেই বাংলাদেশকে সোনার খনিতে রূপান্তর সম্ভব।

ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সরকারে কাছে প্রত্যাশা কি? এমন এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসকেরা ক্রোনিস তৈরি করেছিল। সম্পদের বণ্টন ছিল মারাত্মকভাবে সামঞ্জস্যহীন। যে ক্রোনিস তারা তৈরি করেছিল দেশের অর্থনীতিতে তাদের ভূমিকা ছিল না বরং তারা বাজার ব্যবস্থাপনাকে অস্থিতিশীল করেছিল। ভবিষ্যতের সরকার যেন সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বাজার পরিচালনা করে এবং নিরপেক্ষ রিফর্ম করে তাহলে বাজার ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে এবং সম্পদের সুষম বন্টণ নিশ্চিত হবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: তৈয়ব চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম এবং সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুসলিম চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।