ঢাকা ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজস্ব কর্মকর্তার দুর্নীতির তথ্য নেওয়ায় সাংবাদিককে হুমকি, থানায় জিডি পবিপ্রবির পরিবহন বহরে যুক্ত হলো বিআরটিসির দোতলা বাস পাঁচ কোটির কাজ, ৫০ লাখের লেনদেন, চাপে মামলা: প্রশ্নের মুখে বিএডিসি গার্মেন্টসে অস্থিরতায় সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বড়লেখার দাসের বাজারে বিএনপির মতবিনিময় সভা, প্রধান অতিথি নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু অটোরিকশা নিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মাইকিং গঙ্গার পানি না এলে ভারতীয় পণ্যও বাংলাদেশে আসবে না: নাহিদ ইসলাম নাটোরের সাবেক এমপি শিমুলের সহযোগী যুবলীগ নেতা আটক তাহসিফের মৃত্যুরহস্য: বারে মদ্যপান থেকে টঙ্গীর মাঠে যাওয়ার বর্ণনা দীপের পিডিবিকে পাত্তা দিচ্ছে না চট্টগ্রাম বিআরটিএ, বকেয়া বিলের কারণে বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ

জমি কেনাবেচার নামে ভয়াবহ প্রতারণা: ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিল চক্র,থানায় ভুক্তভোগীর এজাহার

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জমি কেনাবেচার নামে প্রতারণার ফাঁদ পেতে এক বাসিন্দার কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। ভুয়া দলিল দেখিয়ে টাকা নেওয়ার পর আর জমি বা টাকা ফেরত না দেওয়ায় ভুক্তভোগী অবশেষে থানায় আশ্রয় নিয়েছেন। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোঃ শফিকুল ইসলাম খোকন (পিতা-সিরাজুল ইসলাম, মাতা-রোকেয়া বেম, সাং-বালুরমাঠ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা) গত ২১ এপ্রিল ২০২৫ খ্রিঃ বিকাল ৩টার দিকে চন্দ্রিমা উদ্যান ৬নং রোড এলাকায় আসামী মোঃ জাইদুল হক, মোঃ সাইদুল হক, মোঃ আয়নাল হক, আবাইতুল হক, মোঃ আজিজুল হক ও মোঃ এসানুল হক (সর্বো পিতা-মৃত তমিজ উদ্দিন, মাতা-মৃত আকলিমা, সাং-শ্যামলাসী কলাতিয়াপাড়া, সাভার) এর হাতে জমির দাম বাবদ ১৮ লাখ টাকা প্রদান করেন। আসামিরা জমির দলিলও প্রদান করে। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, দলিলগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া। এরপর থেকে আসামিরা টাকা ফেরত দিচ্ছে না বরং তালবাহানা করছে।

ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন—
“আমার জীবনের সঞ্চিত টাকা তারা প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছে। আইনের আশ্রয় নিয়েই আমি ন্যায়বিচার চাই। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না হলে আমি সর্বস্বান্ত হয়ে যাবো।”

স্থানীয় বাকুর্তা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এই বিষয়টি নিয়ে সমাধনরে জন্য দুই পক্ষকে নিয়ে একটি সালিশি করে যে সালিশতে ভুক্তভোগীকে ১৮ লক্ষ টাকার পরিবর্তে ৯ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে সালিশর সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে ভুক্তভোগী শফিকুল।

ঢাকা বারের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মফিজুল হক এ বিষয়ে বলেন—
“বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা অনুযায়ী প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ একটি গুরুতর অপরাধ। এজাহারে বর্ণিত ঘটনা প্রমাণিত হলে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া সম্ভব। একইসাথে ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ আদায়ের পথও খোলা থাকবে।”

অপরাধ বিশ্লেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আরিফুর রহমান বলেন—
“জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে দলিল জালিয়াতি এখন একটি বড় অপরাধ চক্রে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় এই ধরনের চক্র সক্রিয়, যারা সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এ ধরনের মামলায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এবং জমি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা।”

মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জানান—
“বাদীর এজাহারটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে এবং আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত প্রতারণা নয়; বরং পুরো জমি কেনাবেচা ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জমি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া ও মালিকানা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সরকারকে আরও কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। নইলে প্রতারণার শিকার হয়ে সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হতে থাকবে।

গণমাধ্যম ও প্রশাসনের কাছে দাবি— এ ধরনের প্রতারণা চক্র দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে আর কেউ শফিকুল ইসলামের মতো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজস্ব কর্মকর্তার দুর্নীতির তথ্য নেওয়ায় সাংবাদিককে হুমকি, থানায় জিডি

জমি কেনাবেচার নামে ভয়াবহ প্রতারণা: ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিল চক্র,থানায় ভুক্তভোগীর এজাহার

আপডেট সময় ০৯:৫৬:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জমি কেনাবেচার নামে প্রতারণার ফাঁদ পেতে এক বাসিন্দার কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। ভুয়া দলিল দেখিয়ে টাকা নেওয়ার পর আর জমি বা টাকা ফেরত না দেওয়ায় ভুক্তভোগী অবশেষে থানায় আশ্রয় নিয়েছেন। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোঃ শফিকুল ইসলাম খোকন (পিতা-সিরাজুল ইসলাম, মাতা-রোকেয়া বেম, সাং-বালুরমাঠ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা) গত ২১ এপ্রিল ২০২৫ খ্রিঃ বিকাল ৩টার দিকে চন্দ্রিমা উদ্যান ৬নং রোড এলাকায় আসামী মোঃ জাইদুল হক, মোঃ সাইদুল হক, মোঃ আয়নাল হক, আবাইতুল হক, মোঃ আজিজুল হক ও মোঃ এসানুল হক (সর্বো পিতা-মৃত তমিজ উদ্দিন, মাতা-মৃত আকলিমা, সাং-শ্যামলাসী কলাতিয়াপাড়া, সাভার) এর হাতে জমির দাম বাবদ ১৮ লাখ টাকা প্রদান করেন। আসামিরা জমির দলিলও প্রদান করে। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, দলিলগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া। এরপর থেকে আসামিরা টাকা ফেরত দিচ্ছে না বরং তালবাহানা করছে।

ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন—
“আমার জীবনের সঞ্চিত টাকা তারা প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছে। আইনের আশ্রয় নিয়েই আমি ন্যায়বিচার চাই। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না হলে আমি সর্বস্বান্ত হয়ে যাবো।”

স্থানীয় বাকুর্তা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এই বিষয়টি নিয়ে সমাধনরে জন্য দুই পক্ষকে নিয়ে একটি সালিশি করে যে সালিশতে ভুক্তভোগীকে ১৮ লক্ষ টাকার পরিবর্তে ৯ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে সালিশর সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে ভুক্তভোগী শফিকুল।

ঢাকা বারের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মফিজুল হক এ বিষয়ে বলেন—
“বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা অনুযায়ী প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ একটি গুরুতর অপরাধ। এজাহারে বর্ণিত ঘটনা প্রমাণিত হলে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া সম্ভব। একইসাথে ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ আদায়ের পথও খোলা থাকবে।”

অপরাধ বিশ্লেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আরিফুর রহমান বলেন—
“জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে দলিল জালিয়াতি এখন একটি বড় অপরাধ চক্রে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় এই ধরনের চক্র সক্রিয়, যারা সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এ ধরনের মামলায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এবং জমি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা।”

মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জানান—
“বাদীর এজাহারটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে এবং আসামীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত প্রতারণা নয়; বরং পুরো জমি কেনাবেচা ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জমি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া ও মালিকানা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সরকারকে আরও কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে। নইলে প্রতারণার শিকার হয়ে সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হতে থাকবে।

গণমাধ্যম ও প্রশাসনের কাছে দাবি— এ ধরনের প্রতারণা চক্র দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে আর কেউ শফিকুল ইসলামের মতো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।