ঢাকা ০৫:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জ্বালানি সংকট থেকে বের হতে দুই বছর সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী দুই টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে, ১৯ আগস্ট স্বাভাবিক হওয়ার আশা খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে: আমির খসরু পে-স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নতুন দাবি ৩৪ দিন পর খুলল শাহজালাল মাজারের দানবাক্স, চলছে টাকা গণনা সাত পথে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার রূপরেখা দিলেন মোদি সারাদেশে সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে ফরিদপুরে সাংবাদিক ইউনিয়নের সভা অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারে হাসপাতালে অভিনেত্রী শাকিলা বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ ভাতা দেওয়া শুরু : শিক্ষামন্ত্রী ফ্যামিলিকার্ডের বাইরে নিত্য পণ্য বিক্রির নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে টিসিবি
দুদকের অভিযান

দক্ষিণের নগর ভবন ৪০ দিন বন্ধ, তবুও জ্বালানি তেলের ভাউচার ৫ কোটি টাকা

ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের আন্দোলনে মে-জুন মিলিয়ে ৪০ দিন সেবা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। অথচ ওই সময়ে জ্বালানি তেল বাবদ প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে, এমন অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অভিযান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে ডিএসসিসির কার্যালয়ে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের উপপরিচলক মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, নগর ভবন ৪০ দিন বন্ধ, তবু কোটি টাকার তেল খরচ, এই তেল গেল কোথায়? ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়ির জ্বালানি তেলের ভুয়া খরচ দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আজ দুদকের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সিটি করপোরেশনের কিছু কর্মচারীর আন্দোলনের কারণে চলতি বছরের ১৪ মে থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত ৪০ দিন নগর ভবনের সেবা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। সংস্থাটিতে প্রতি মাসে জ্বালানি খাতে খরচ হয় প্রায় ৫ কোটি টাকা। এপ্রিল, মে ও জুন মাসের খরচ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মে ও জুন মাসে নগর ভবন ৪০ দিন বন্ধ থাকলেও খরচ হয়েছে স্বাভাবিক সময়ের সমান তেল। অথচ এই সময়ে কার্যত কোনো অফিস কার্যক্রম ছিল না। এ ধরনের কার্যকলাপ সরাসরি দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বতর্মানে সংস্থাটিতে কর্মকর্তারা ৯১টি গাড়ি ব্যবহার করছেন। মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন ১০১টি। এ ছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত যানবাহনসহ বাকি কাজে ব্যবহৃত মোট গাড়ি ৪১৮টি। সংস্থাটিতে বর্তমানে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বর্জ্য-উচ্ছেদ অভিযানে ব্যবহারের গাড়ি মোট ৬১০টি। প্রতি মাসে জ্বালানি বাবদ সংস্থাটির খরচ হয় প্রায় ৫ কোটি টাকা। এসব যানবাহনের পেছনে শুধু জ্বালানি বাবদই বছরে ৬০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে। জ্বালানির ওই ব্যবহার অনেকটাই কাগজে–কলমে বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি সংকট থেকে বের হতে দুই বছর সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

দুদকের অভিযান

দক্ষিণের নগর ভবন ৪০ দিন বন্ধ, তবুও জ্বালানি তেলের ভাউচার ৫ কোটি টাকা

আপডেট সময় ১২:০৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের আন্দোলনে মে-জুন মিলিয়ে ৪০ দিন সেবা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। অথচ ওই সময়ে জ্বালানি তেল বাবদ প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে, এমন অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অভিযান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে ডিএসসিসির কার্যালয়ে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের উপপরিচলক মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, নগর ভবন ৪০ দিন বন্ধ, তবু কোটি টাকার তেল খরচ, এই তেল গেল কোথায়? ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়ির জ্বালানি তেলের ভুয়া খরচ দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আজ দুদকের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সিটি করপোরেশনের কিছু কর্মচারীর আন্দোলনের কারণে চলতি বছরের ১৪ মে থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত ৪০ দিন নগর ভবনের সেবা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। সংস্থাটিতে প্রতি মাসে জ্বালানি খাতে খরচ হয় প্রায় ৫ কোটি টাকা। এপ্রিল, মে ও জুন মাসের খরচ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মে ও জুন মাসে নগর ভবন ৪০ দিন বন্ধ থাকলেও খরচ হয়েছে স্বাভাবিক সময়ের সমান তেল। অথচ এই সময়ে কার্যত কোনো অফিস কার্যক্রম ছিল না। এ ধরনের কার্যকলাপ সরাসরি দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বতর্মানে সংস্থাটিতে কর্মকর্তারা ৯১টি গাড়ি ব্যবহার করছেন। মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন ১০১টি। এ ছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত যানবাহনসহ বাকি কাজে ব্যবহৃত মোট গাড়ি ৪১৮টি। সংস্থাটিতে বর্তমানে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বর্জ্য-উচ্ছেদ অভিযানে ব্যবহারের গাড়ি মোট ৬১০টি। প্রতি মাসে জ্বালানি বাবদ সংস্থাটির খরচ হয় প্রায় ৫ কোটি টাকা। এসব যানবাহনের পেছনে শুধু জ্বালানি বাবদই বছরে ৬০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে। জ্বালানির ওই ব্যবহার অনেকটাই কাগজে–কলমে বলে অভিযোগ উঠেছে।