ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের পাইলট প্রকল্প শুরুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দেশে পোস্টগ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী তেজগাঁও থানায় আকস্মিক পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ নিউজ নেটওয়ার্ক নীলফামারীর আহ্বায়ক কমিটি গঠন অল্প সময়ে জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয় : পানিসম্পদমন্ত্রী জাজিরায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা মঠবাড়িয়ায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কীর্তি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিলেন তাকওয়া ফাউন্ডেশন মৌলভীবাজারের বড়লেখায় প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার রাজনীতি নিষিদ্ধ ববিতে জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের কাউন্সিল, পূর্ণাঙ্গ কমিটির আত্মপ্রকাশ   পোষা বিড়ালের আঁচড়ের পর থেকে ‘মিউ মিউ’ করছে শিশু আদ্রিতা

বিষণ্নতায় ভুগছেন জুলাই আহতদের ৮২ শতাংশ

জুলাই আন্দোলনে আহতদের ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ তরুণ বিষণ্নতায় ভুগছেন। আহতদের মধ্যে ৬৪ দশমিক ১ শতাংশ তরুণ আঘাতজনিত মানসিক ব্যাধিতে (পিটিএসডি) আক্রান্ত। সম্প্রতি পিয়ার রিভিউড মেডিকেল জার্নাল কিউরিয়াসে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শামসুল আহসানের নেতৃত্বে এ গবেষণা পরিচালিত হয়।

গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১৭ জন আহতের ওপর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ), ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও পাবনা মানসিক হাসপাতালে একদল চিকিৎসক গবেষণাটি পরিচালনা করেন। গবেষণায় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ৭৫, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) ৬৫ এবং বিএমইউতে চিকিৎসাধীন ৭৭ জনের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। যাদের বেশিরভাগের বয়স ২০ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে।

গবেষণায় অংশ নেওয়া ২১৭ জনের মধ্যে ৯৭ দশমিক ২ শতাংশ ছিলেন পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। তাদের ১ দশমিক ৪ শতাংশ মানসিক সেবার অধীনে ছিলেন। এ ছাড়া ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশই গুলিবিদ্ধ ছিলেন। ৮১ দশমিক ১ শতাংশ দ্রুত চিকিৎসা পেলেও ১০ শতাংশের চিকিৎসা শুরু হতে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিষণ্নতা ও আঘাতজনিত মানসিক রোগে আক্রান্তের হার বিপজ্জনকভাবে বেশি, যথাক্রমে ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ ও ৬৪ দশমিক ১ শতাংশ। যেখানে অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী-সহিংসতার গবেষণায় বিষণ্নতার হার ৪৯ শতাংশ এবং পিটিএসডির হার ৪ শতাংশ থেকে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত ছিল।

এ ছাড়া গ্রামীণ অংশগ্রহণকারীদের মানসিক স্বাস্থ্য শহরের তুলনায় খারাপ। গবেষণাটির সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণে গ্রামবাসীর মধ্যে বিষণ্নতা ও পিটিএসডির আশঙ্কা শহরবাসীর তুলনায় বেশি। পিটিএসডি আক্রান্তদের মধ্যে ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ বিষণ্নতায় আক্রান্ত ছিলেন। এদের মধ্যে ৭৭ দশমিক ১ শতাংশ পিটিএসডিতেও আক্রান্ত। যাদের আঘাত বেশি ছিল, তারা দ্রুত চিকিৎসা নিয়েছেন। এ গুরুতর ট্রমা-অভিজ্ঞতা পিটিএসডি বাড়িয়ে দিতে পারে। পিটিএসডি হওয়ার প্রধান কারণ হলো ট্রমার তীব্রতা, সামাজিক সহায়তার অভাব ও চলমান জীবনের চাপ।

গবেষক দলের প্রধান বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শামসুল আহসান বলেন, ‘বিষণ্নতা এক ধরনের মানসিক অবসাদ। দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় থেকে মন খারাপ থাকে, ভালো লাগে না, খাওয়ার রুচি পায় না, কাজকর্ম করতে পারে না। দীর্ঘ মেয়াদে বিষণ্নতায় আক্রান্তদের আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়ায়। কারণ, তারা বেঁচে থাকা এবং মরে যাওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখে না।

ডা. আহসান বলেন, এরা এমন একটি পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে ভবিষ্যতে যদি এদের মানসিক সমস্যাকে চিহ্নিত না করা হয় এবং সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা না করা হয়, তাহলে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়বে। সম্প্রতি জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটেও আত্মহত্যার প্রচেষ্টা দেখা গেছে। এ ধরনের রোগীদের আত্মহত্যার ঝুঁকি অনেক বেশি।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের পাইলট প্রকল্প শুরুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বিষণ্নতায় ভুগছেন জুলাই আহতদের ৮২ শতাংশ

আপডেট সময় ০৪:১৫:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫

জুলাই আন্দোলনে আহতদের ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ তরুণ বিষণ্নতায় ভুগছেন। আহতদের মধ্যে ৬৪ দশমিক ১ শতাংশ তরুণ আঘাতজনিত মানসিক ব্যাধিতে (পিটিএসডি) আক্রান্ত। সম্প্রতি পিয়ার রিভিউড মেডিকেল জার্নাল কিউরিয়াসে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শামসুল আহসানের নেতৃত্বে এ গবেষণা পরিচালিত হয়।

গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১৭ জন আহতের ওপর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ), ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও পাবনা মানসিক হাসপাতালে একদল চিকিৎসক গবেষণাটি পরিচালনা করেন। গবেষণায় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ৭৫, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) ৬৫ এবং বিএমইউতে চিকিৎসাধীন ৭৭ জনের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। যাদের বেশিরভাগের বয়স ২০ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে।

গবেষণায় অংশ নেওয়া ২১৭ জনের মধ্যে ৯৭ দশমিক ২ শতাংশ ছিলেন পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। তাদের ১ দশমিক ৪ শতাংশ মানসিক সেবার অধীনে ছিলেন। এ ছাড়া ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশই গুলিবিদ্ধ ছিলেন। ৮১ দশমিক ১ শতাংশ দ্রুত চিকিৎসা পেলেও ১০ শতাংশের চিকিৎসা শুরু হতে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিষণ্নতা ও আঘাতজনিত মানসিক রোগে আক্রান্তের হার বিপজ্জনকভাবে বেশি, যথাক্রমে ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ ও ৬৪ দশমিক ১ শতাংশ। যেখানে অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী-সহিংসতার গবেষণায় বিষণ্নতার হার ৪৯ শতাংশ এবং পিটিএসডির হার ৪ শতাংশ থেকে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত ছিল।

এ ছাড়া গ্রামীণ অংশগ্রহণকারীদের মানসিক স্বাস্থ্য শহরের তুলনায় খারাপ। গবেষণাটির সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণে গ্রামবাসীর মধ্যে বিষণ্নতা ও পিটিএসডির আশঙ্কা শহরবাসীর তুলনায় বেশি। পিটিএসডি আক্রান্তদের মধ্যে ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ বিষণ্নতায় আক্রান্ত ছিলেন। এদের মধ্যে ৭৭ দশমিক ১ শতাংশ পিটিএসডিতেও আক্রান্ত। যাদের আঘাত বেশি ছিল, তারা দ্রুত চিকিৎসা নিয়েছেন। এ গুরুতর ট্রমা-অভিজ্ঞতা পিটিএসডি বাড়িয়ে দিতে পারে। পিটিএসডি হওয়ার প্রধান কারণ হলো ট্রমার তীব্রতা, সামাজিক সহায়তার অভাব ও চলমান জীবনের চাপ।

গবেষক দলের প্রধান বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শামসুল আহসান বলেন, ‘বিষণ্নতা এক ধরনের মানসিক অবসাদ। দুই সপ্তাহ বা তার বেশি সময় থেকে মন খারাপ থাকে, ভালো লাগে না, খাওয়ার রুচি পায় না, কাজকর্ম করতে পারে না। দীর্ঘ মেয়াদে বিষণ্নতায় আক্রান্তদের আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়ায়। কারণ, তারা বেঁচে থাকা এবং মরে যাওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখে না।

ডা. আহসান বলেন, এরা এমন একটি পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে ভবিষ্যতে যদি এদের মানসিক সমস্যাকে চিহ্নিত না করা হয় এবং সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা না করা হয়, তাহলে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়বে। সম্প্রতি জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটেও আত্মহত্যার প্রচেষ্টা দেখা গেছে। এ ধরনের রোগীদের আত্মহত্যার ঝুঁকি অনেক বেশি।