চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) সহকারী প্রোক্টরের গায়ে শেখ হাসিনা হলের এক নারী শিক্ষার্থীর হাত তোলার ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে।এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাঞ্চল্যকর অবস্থায় সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, আইন বিভাগের ২৭তম ব্যাচের ২০১৮-১৯ সেশনের এক নারী শিক্ষার্থী আফসানা এনায়েত এমি বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ও সহকারী প্রোক্টর ড. কুরবান আলীকে কথাবার্তার এক পর্যায়ে থাপ্পড় দেয়।
গত ৫ই ফেব্রুয়ারি, বুধবার রাতে চবির শেখ হাসিনা হলের সামনে নৌকা প্রতীক ও শেখ হাসিনার ম্যুরাল ভাঙতে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়। তখন শেখ হাসিনা হলের পালের গোদা নারী শিক্ষার্থীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের গায়ে ইট পাটকেল ছুড়ে মারতে শুরু করলে কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। ঘটনার এক পর্যায়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টোরিয়াল বডি উপস্থিত হলে অধ্যাপক ড. কুরবান আলী নারী শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলতে যান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় নারী শিক্ষার্থী কথাবার্তার এক পর্যায়ে হঠাৎ সহকারী প্রোক্টরের গালে থাপ্পর দেয়। এতে উপস্থিত সকল শিক্ষার্থী তাকে ধরে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক তোলপাড় ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
অধ্যাপক ড. কুরবান আলী সাংবাদিকদের জানান, আমরা সেদিন (৫ই ফেব্রুয়ারি) আমাদের দায়িত্ব পালনে শেখ হাসিনা হলে গিয়েছিলাম। আমরা তো কারো শত্রু না। বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য হলের নারী শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা আমাদের কথা শুনতে রাজি ছিল না। এক পর্যায়ে আফসানা এনায়েত এমি নামের এক নারী শিক্ষার্থী আমার শরীরে আঘাত করে।
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর চবি শাখার ছাত্রদল প্রতিবাদী মিছিলের আয়োজন করে এবং শিক্ষকের প্রতি এমন লাঞ্ছনার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। এছাড়াও চবি শাখার ছাত্রশিবির এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতি দিয়েছে। এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনেও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী বলছেন, আইন বিভাগে অধ্যয়ন করে একজন শিক্ষার্থী নৈতিকতা বহির্ভূত এরকম কাজ কিভাবে করতে পারে। শিক্ষক হচ্ছে পিতৃতুল্য।
এ সময় শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বহিষ্কারের দাবি করেন।
সালাহ উদ্দিন আহমেদ চবি প্রতিনিধি 
























