সংবাদ শিরোনাম ::
আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করলেন আইসিসির তিন বিচারক গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হোটেল রুমে স্বামী, পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের ঘরে বিবাদ ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেবো: হাসনাত  আশুরা মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় : রাষ্ট্রপতি তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী চীন নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে নিক্ষেপ, যুবক আটক ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত আটকা বহু, উদ্ধারে আসছেন না কেউ বরগুনায় সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান (ইউপি সদস্যের) বিরুদ্ধে মামলা

রাঙামাটিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

রাঙামাটি জেলায় সবচেয়ে খারাপের দিকে বাঘাইছড়ির বন্যা পরিস্থিতি। বুধবার সকাল থেকে বাঘাইছড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে, যা ক্রমে বেড়েই চলেছে। এদিকে অব্যাহত বৃষ্টিপাতে সদরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস হচ্ছে। ফলে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কসহ জেলার বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।

অব্যাহত টানা বৃষ্টিপাতে রাঙামাটিতে বন্যার অবনতি ঘটেছে। সদরসহ জেলার বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে বহু গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এসব প্লাবিত গ্রামের অসংখ্য পরিবারের বাড়িঘর ও স্থাপনা।

জানা যায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ইতোমধ্যে ১৫ হাজারেরও অধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রামে বন্যার পানি উঠেছে। এছাড়া উপজেলার বারেবিন্দু ঘাট এলাকার একটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় পানি ঢুকেছে পৌর এলাকায়। পানি ঢুকে পড়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ ভবনে। তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে বন্যাদুর্গতরা। অনেক স্থানে বন্যার পানিতে গবাদি পশু ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। বর্তমানে চরম মানবেতর পরিস্থিতির সম্মুখীন দুর্গত লোকজন। বন্যার্তদের সহায়তায় মাঠে তৎপর রয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যার্ত লোকজনের আশ্রয়ে উপজেলায় মোট ৫৫টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২২টি কেন্দ্রে প্রায় দুই হাজার দুর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্গত লোকজনের মাঝে জরুরি ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানি, খাবার স্যালাইন বিতরণ করা হচ্ছে। এ উপজেলায় দুর্গত লোকজনের ত্রাণ সহায়তা দিতে জেলা প্রশাসন থেকে তাৎক্ষণিক ২৫ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরিন আক্তার জানান, উপজেলা ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছেন। কেন্দ্রে আশ্রিত লোকজনের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মো. মোশারফ হোসেন খান বলেন, জেলায় ছোট-বড় কয়েকটি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটলেও কোথাও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। রাঙামাটি সদরে পাহাড় ধসে ঝুঁকিতে থাকা প্রায় দেড় হাজার মানুষকে নিরাপদে বা আশ্রয় কেন্দ্রে সরে যেতে বলা হয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা লোকজনের জন্য শহরে এবং বিভিন্ন উপজেলায় পর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্র খোলা রয়েছে। ঝুঁকি এড়াতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে। এছাড়া বাঘাইছড়িতে বন্যার পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় প্রায় দুই হাজার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

রাঙামাটিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

আপডেট সময় ১২:২৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৪

রাঙামাটি জেলায় সবচেয়ে খারাপের দিকে বাঘাইছড়ির বন্যা পরিস্থিতি। বুধবার সকাল থেকে বাঘাইছড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে, যা ক্রমে বেড়েই চলেছে। এদিকে অব্যাহত বৃষ্টিপাতে সদরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস হচ্ছে। ফলে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কসহ জেলার বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।

অব্যাহত টানা বৃষ্টিপাতে রাঙামাটিতে বন্যার অবনতি ঘটেছে। সদরসহ জেলার বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে বহু গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এসব প্লাবিত গ্রামের অসংখ্য পরিবারের বাড়িঘর ও স্থাপনা।

জানা যায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ইতোমধ্যে ১৫ হাজারেরও অধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রামে বন্যার পানি উঠেছে। এছাড়া উপজেলার বারেবিন্দু ঘাট এলাকার একটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় পানি ঢুকেছে পৌর এলাকায়। পানি ঢুকে পড়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ ভবনে। তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে বন্যাদুর্গতরা। অনেক স্থানে বন্যার পানিতে গবাদি পশু ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। বর্তমানে চরম মানবেতর পরিস্থিতির সম্মুখীন দুর্গত লোকজন। বন্যার্তদের সহায়তায় মাঠে তৎপর রয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যার্ত লোকজনের আশ্রয়ে উপজেলায় মোট ৫৫টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২২টি কেন্দ্রে প্রায় দুই হাজার দুর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্গত লোকজনের মাঝে জরুরি ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানি, খাবার স্যালাইন বিতরণ করা হচ্ছে। এ উপজেলায় দুর্গত লোকজনের ত্রাণ সহায়তা দিতে জেলা প্রশাসন থেকে তাৎক্ষণিক ২৫ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরিন আক্তার জানান, উপজেলা ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছেন। কেন্দ্রে আশ্রিত লোকজনের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মো. মোশারফ হোসেন খান বলেন, জেলায় ছোট-বড় কয়েকটি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটলেও কোথাও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। রাঙামাটি সদরে পাহাড় ধসে ঝুঁকিতে থাকা প্রায় দেড় হাজার মানুষকে নিরাপদে বা আশ্রয় কেন্দ্রে সরে যেতে বলা হয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা লোকজনের জন্য শহরে এবং বিভিন্ন উপজেলায় পর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্র খোলা রয়েছে। ঝুঁকি এড়াতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে। এছাড়া বাঘাইছড়িতে বন্যার পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় প্রায় দুই হাজার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন।