সংবাদ শিরোনাম ::
আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করলেন আইসিসির তিন বিচারক গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতায় বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হোটেল রুমে স্বামী, পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের ঘরে বিবাদ ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেবো: হাসনাত  আশুরা মানুষকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে শেখায় : রাষ্ট্রপতি তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী চীন নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে নিক্ষেপ, যুবক আটক ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত আটকা বহু, উদ্ধারে আসছেন না কেউ বরগুনায় সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে প্যানেল চেয়ারম্যান (ইউপি সদস্যের) বিরুদ্ধে মামলা

৩ কারণে জামায়াত নিষিদ্ধ নয়, দাবি দলটির নেতার

রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী এখন প্রকাশ্যে৷ সরকারের পতনের কয়েকদিন আগে দলটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে জামায়াত বলছে, হাসিনা সরকারের পতনের পর ওই আদেশের আর বাস্তবে কোনো কার্যকারিতা নেই৷

জানা যায়, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও তার সকারের পতনের পাঁচ দিন আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জামায়াত, শিবির ও অঙ্গসংঠনগুলো নিষিদ্ধ করে৷ সন্ত্রাস বিরোধী আইনের ১৮৯(১) ধারার ক্ষমতা বলে নির্বাহী আদেশে তাদের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়৷

এর আগে আদালতের রায়ে নির্বাচন কমিশন ২০১৩ সালে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে৷ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর জামায়াতের পক্ষের আপিলও খারিজ করে দেয়৷ ফলে দলটির নিবন্ধন ছিল না৷

সর্বশেষ নিষিদ্ধের পর সরকারের অনুষ্ঠানে জামায়াতের উপস্থিতি এবং প্রকাশ্যে আসা সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ বলেন, ‘জামায়াত নিষিদ্ধের ব্যাপারে আগের সরকারের তো একটা গেজেট নোটিফিকেশন হয়েছে৷ আগের সরকারের পতনের পর যারা সরকার পরিচালনা করেন তারা যদি জামায়াতকে প্রয়োজন মনে করেন, কাজ করতে দিতে চান তাহলে ওই গেজেটটি বাতিল করতে পারতেন৷ এটা তো কয়েক ঘণ্টায়ই করা যায়৷ এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ৷ আগের সরকার নাই৷ কিন্তু মন্ত্রণালয় তো আছে৷ একই সময়ে তারা নিষিদ্ধ, আবার তাদের সঙ্গে সরকার বৈঠক করছে, এটা মানুষের চোখে লাগে৷ আইনের শাসন নিয়ে সন্দেহ হয়৷ এখানে সব কাজই তো হচ্ছে৷ এটা কেন তারা করেননি বুঝতে পারছি না৷ ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাহেবকে তো আইনি প্রক্রিয়ায় মামলা থেকে খালাস দেয়া হলো৷’

তবে তিনি এও মনে করেন, ‘অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কোনো সরকার হলে তারা আগের আইন, সংবিধান সবই বদলাতে পারে৷ বিপ্লবী সরকার যেভাবে চায় সেভাবে হতে পারে৷ তবে এমন কিছু করা ঠিক হবে না যাতে আইনের শাসন নিয়ে কথা ওঠে৷’

জামায়াতে ইসলমীর প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘তিনটি কারণে জামায়াত নিষিদ্ধে পতিত সরকারের আদেশ এখন আর কার্যকর নেই৷ প্রথমত, সরকার বলেছিল কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে যে সহিংতা তার দায় জামায়াত-শিবিরের৷ সেই আন্দোলনেই সরকারের পতন হয়েছে৷ শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন৷ দ্বিতীয়ত, সরকার পতনের পর সেনাপ্রধান বৈঠকে জামায়াতের আমিরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন৷ ভাষণে তিনি জামায়াতের আমিরের নাম গুরুত্বের সঙ্গে বলেছেন৷ তৃতীয়ত, বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে জামায়াতের আমিরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে৷ জামায়াতের নাম রেজুলেশনে আছে৷’

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের পর সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে করণীয় নিয়ে বৈঠক করেন৷ তার মধ্যে ছিলেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান৷ এরপর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেনাপ্রধান যেসব রাজনৈতিক নেতা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তাদের মধ্যে সবার আগে জামায়াতের আমিরের কথা বলেন৷

সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদীর নেতৃত্বে ১৯৪১ সালে জামায়াত প্রতিষ্ঠার পর থেকে দলটি এর আগে তিনবার নিষিদ্ধ হয়েছে৷ এর মধ্যে ১৯৫৯ ও ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পাকিস্তানে এবং ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে অন্য তিনটি ধর্মভিত্তিক দলের সঙ্গে জামায়াতও নিষিদ্ধ হয়েছিল৷ পরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৯ সালের ২৫ মে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রকাশ্য রাজনীতির সুযোগ পায় জামায়াত৷ দলটির ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘও নাম পরিবর্তন করে ইসলামী ছাত্রশিবির নামে আত্মপ্রকাশ করে৷

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইজিপির সঙ্গে জাতিসংঘ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

৩ কারণে জামায়াত নিষিদ্ধ নয়, দাবি দলটির নেতার

আপডেট সময় ১০:৩৫:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অগাস্ট ২০২৪

রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী এখন প্রকাশ্যে৷ সরকারের পতনের কয়েকদিন আগে দলটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে জামায়াত বলছে, হাসিনা সরকারের পতনের পর ওই আদেশের আর বাস্তবে কোনো কার্যকারিতা নেই৷

জানা যায়, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও তার সকারের পতনের পাঁচ দিন আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জামায়াত, শিবির ও অঙ্গসংঠনগুলো নিষিদ্ধ করে৷ সন্ত্রাস বিরোধী আইনের ১৮৯(১) ধারার ক্ষমতা বলে নির্বাহী আদেশে তাদের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়৷

এর আগে আদালতের রায়ে নির্বাচন কমিশন ২০১৩ সালে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে৷ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর জামায়াতের পক্ষের আপিলও খারিজ করে দেয়৷ ফলে দলটির নিবন্ধন ছিল না৷

সর্বশেষ নিষিদ্ধের পর সরকারের অনুষ্ঠানে জামায়াতের উপস্থিতি এবং প্রকাশ্যে আসা সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ বলেন, ‘জামায়াত নিষিদ্ধের ব্যাপারে আগের সরকারের তো একটা গেজেট নোটিফিকেশন হয়েছে৷ আগের সরকারের পতনের পর যারা সরকার পরিচালনা করেন তারা যদি জামায়াতকে প্রয়োজন মনে করেন, কাজ করতে দিতে চান তাহলে ওই গেজেটটি বাতিল করতে পারতেন৷ এটা তো কয়েক ঘণ্টায়ই করা যায়৷ এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ৷ আগের সরকার নাই৷ কিন্তু মন্ত্রণালয় তো আছে৷ একই সময়ে তারা নিষিদ্ধ, আবার তাদের সঙ্গে সরকার বৈঠক করছে, এটা মানুষের চোখে লাগে৷ আইনের শাসন নিয়ে সন্দেহ হয়৷ এখানে সব কাজই তো হচ্ছে৷ এটা কেন তারা করেননি বুঝতে পারছি না৷ ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাহেবকে তো আইনি প্রক্রিয়ায় মামলা থেকে খালাস দেয়া হলো৷’

তবে তিনি এও মনে করেন, ‘অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কোনো সরকার হলে তারা আগের আইন, সংবিধান সবই বদলাতে পারে৷ বিপ্লবী সরকার যেভাবে চায় সেভাবে হতে পারে৷ তবে এমন কিছু করা ঠিক হবে না যাতে আইনের শাসন নিয়ে কথা ওঠে৷’

জামায়াতে ইসলমীর প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘তিনটি কারণে জামায়াত নিষিদ্ধে পতিত সরকারের আদেশ এখন আর কার্যকর নেই৷ প্রথমত, সরকার বলেছিল কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে যে সহিংতা তার দায় জামায়াত-শিবিরের৷ সেই আন্দোলনেই সরকারের পতন হয়েছে৷ শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন৷ দ্বিতীয়ত, সরকার পতনের পর সেনাপ্রধান বৈঠকে জামায়াতের আমিরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন৷ ভাষণে তিনি জামায়াতের আমিরের নাম গুরুত্বের সঙ্গে বলেছেন৷ তৃতীয়ত, বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে জামায়াতের আমিরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে৷ জামায়াতের নাম রেজুলেশনে আছে৷’

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের পর সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে করণীয় নিয়ে বৈঠক করেন৷ তার মধ্যে ছিলেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান৷ এরপর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেনাপ্রধান যেসব রাজনৈতিক নেতা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তাদের মধ্যে সবার আগে জামায়াতের আমিরের কথা বলেন৷

সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদীর নেতৃত্বে ১৯৪১ সালে জামায়াত প্রতিষ্ঠার পর থেকে দলটি এর আগে তিনবার নিষিদ্ধ হয়েছে৷ এর মধ্যে ১৯৫৯ ও ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পাকিস্তানে এবং ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে অন্য তিনটি ধর্মভিত্তিক দলের সঙ্গে জামায়াতও নিষিদ্ধ হয়েছিল৷ পরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৯ সালের ২৫ মে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রকাশ্য রাজনীতির সুযোগ পায় জামায়াত৷ দলটির ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘও নাম পরিবর্তন করে ইসলামী ছাত্রশিবির নামে আত্মপ্রকাশ করে৷