ঢাকা ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নিরাপত্তা সুপারভাইজার কামাল থেকে গোল্ডেন কামাল

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নিরাপত্তা সুপারভাইজার (সিভিল এভিয়েশন) কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে আদম ব্যবসা ও স্বর্ণ চোরাচালানসহ অবৈধ সম্পদের অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়ে কামাল হোসেন জ্ঞাত আয় বর্হিভ‚ত উপার্জন দিয়ে রাজধানীর আশকোনার দক্ষিণখান এলাকায় কয়েক কোটি টাকা মূল্যের বাড়ি নির্মাণ করেছেন। কোটি টাকা ব্যয়ে ইটের ভাটা নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগের অনুসন্ধান বিবরণী থেকে জানা যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে দুদকের ঝটিকা অভিযানের ফলে আবারো সামনে এসেছে কামাল হোসেনের নাম। নির্দিষ্ট একটি বেসরকারি বিমান কোম্পানীর সাথে তার সখ্যতার কথা বিমান বন্দরে অনেকেই জানেন।

বেসরকারি কোম্পানীর সেই বিমানগুলোতে বর্তমানে সময়ে রেকর্ড পরিমান স্বর্ণ চোরা-চালান ধরা পড়ে কিন্তু কোম্পানীটি থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। দুর্নীতি দমন কমিশনে কামাল হোসেন ফেঁসে যাওয়ায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তার মদদদাতারা। কামাল হোসেন ঝিনাইদহ জেলার শৈলক‚পা উপজেলার ১০ নং বগুড়া ইউনিয়নের কামান্না গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।

দরিদ্র্যতার কষাঘাতে জর্জরিত কামাল হোসেনের চাকরি হয়ে উঠে আলাদেিনর চেরাগ। অল্প দিনের মধ্যে কামাল হোসেন থেকে পরিচিত হন গোল্ডেন কামাল নামে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে নিজ গ্রাম ও ঢাকা শহরে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন কামাল হোসেন। অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ঢাকার আশকোনায় সিরাজ মিয়া সড়কে ১০ শতক জমির উপড় ৫১৮ নম্বর হোলিডংয়ের বাড়িটির মালিক কামাল।

এছাড়াও মিরপুরে সাগুপ্তা হাউজিংয়ে একটি প্লট রয়েছে। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়,বর্তমান সময়ে বাড়িটির মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। কামাল হোসেনের গোল্ডেন ইন্টারন্যাশনাল নামে আশকোনা প্রধান সড়কে একটি ভিআইপি হোটেল রয়েছে। তিনি কয়েক একর জায়গার উপড় গ্রামে একটি ইট ভাটা করেছেন। যার নাম থ্রি স্টার ইট ভাটা।

ইট ভাটার অধিকাংশ জমি নানা প্রতারণার মাধ্যমে নিয়েছেন বলে জানা যায়। এখানে বিনিয়োগের পরিমান প্রায় ৫ কোটি টাকা। গ্রামে তার ক্রয়কৃত জমির বেশীর ভাগ জমিই ৮৫৭ দাগ নম্বর থেকে ক্রমানুসারে ৮৬৮ নম্বর দাগ পর্যন্ত। নিজ এলাকায় অবৈধ অর্থের দোর্দন্ড প্রভাবে সাধারন মানুষের জমি জবর দখল ও হয়রানি করে থাকেন কামাল হোসেন। বর্তমানে কামান্না গ্রামেও তিনি গোল্ডেন কামাল হিসেবে পরিচিত।

পরিবারের অর্থিক সংকটের কারনে লজিং থেকে লেখা-পড়া করা কামালের বিশাল বিত্ত-বৈভব দেখে তার এলাকার মানুষও হতবাক। পারিবারিক সুত্রে তিনি উল্লেখযোগ্য কোন সম্পদের মালিক হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন এলাকাবাসী। উপার্জিত বেতন থেকে দ্রæত সময়ে এতো আয় সম্ভব নয়।

বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে অর্থ গচ্ছিত রাখার বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। অভিযোগ ও দুদকের তদন্তের বিষয়ে কামাল হোসেনের বক্তব্যের জন্য ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন পরে ফোন দিতে বলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি আর ফোন ধরেন নি।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিরাপত্তা সুপারভাইজার কামাল থেকে গোল্ডেন কামাল

আপডেট সময় ০৪:০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নিরাপত্তা সুপারভাইজার (সিভিল এভিয়েশন) কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে আদম ব্যবসা ও স্বর্ণ চোরাচালানসহ অবৈধ সম্পদের অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়ে কামাল হোসেন জ্ঞাত আয় বর্হিভ‚ত উপার্জন দিয়ে রাজধানীর আশকোনার দক্ষিণখান এলাকায় কয়েক কোটি টাকা মূল্যের বাড়ি নির্মাণ করেছেন। কোটি টাকা ব্যয়ে ইটের ভাটা নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগের অনুসন্ধান বিবরণী থেকে জানা যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে দুদকের ঝটিকা অভিযানের ফলে আবারো সামনে এসেছে কামাল হোসেনের নাম। নির্দিষ্ট একটি বেসরকারি বিমান কোম্পানীর সাথে তার সখ্যতার কথা বিমান বন্দরে অনেকেই জানেন।

বেসরকারি কোম্পানীর সেই বিমানগুলোতে বর্তমানে সময়ে রেকর্ড পরিমান স্বর্ণ চোরা-চালান ধরা পড়ে কিন্তু কোম্পানীটি থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। দুর্নীতি দমন কমিশনে কামাল হোসেন ফেঁসে যাওয়ায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তার মদদদাতারা। কামাল হোসেন ঝিনাইদহ জেলার শৈলক‚পা উপজেলার ১০ নং বগুড়া ইউনিয়নের কামান্না গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা।

দরিদ্র্যতার কষাঘাতে জর্জরিত কামাল হোসেনের চাকরি হয়ে উঠে আলাদেিনর চেরাগ। অল্প দিনের মধ্যে কামাল হোসেন থেকে পরিচিত হন গোল্ডেন কামাল নামে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে নিজ গ্রাম ও ঢাকা শহরে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন কামাল হোসেন। অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ঢাকার আশকোনায় সিরাজ মিয়া সড়কে ১০ শতক জমির উপড় ৫১৮ নম্বর হোলিডংয়ের বাড়িটির মালিক কামাল।

এছাড়াও মিরপুরে সাগুপ্তা হাউজিংয়ে একটি প্লট রয়েছে। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়,বর্তমান সময়ে বাড়িটির মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। কামাল হোসেনের গোল্ডেন ইন্টারন্যাশনাল নামে আশকোনা প্রধান সড়কে একটি ভিআইপি হোটেল রয়েছে। তিনি কয়েক একর জায়গার উপড় গ্রামে একটি ইট ভাটা করেছেন। যার নাম থ্রি স্টার ইট ভাটা।

ইট ভাটার অধিকাংশ জমি নানা প্রতারণার মাধ্যমে নিয়েছেন বলে জানা যায়। এখানে বিনিয়োগের পরিমান প্রায় ৫ কোটি টাকা। গ্রামে তার ক্রয়কৃত জমির বেশীর ভাগ জমিই ৮৫৭ দাগ নম্বর থেকে ক্রমানুসারে ৮৬৮ নম্বর দাগ পর্যন্ত। নিজ এলাকায় অবৈধ অর্থের দোর্দন্ড প্রভাবে সাধারন মানুষের জমি জবর দখল ও হয়রানি করে থাকেন কামাল হোসেন। বর্তমানে কামান্না গ্রামেও তিনি গোল্ডেন কামাল হিসেবে পরিচিত।

পরিবারের অর্থিক সংকটের কারনে লজিং থেকে লেখা-পড়া করা কামালের বিশাল বিত্ত-বৈভব দেখে তার এলাকার মানুষও হতবাক। পারিবারিক সুত্রে তিনি উল্লেখযোগ্য কোন সম্পদের মালিক হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন এলাকাবাসী। উপার্জিত বেতন থেকে দ্রæত সময়ে এতো আয় সম্ভব নয়।

বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে অর্থ গচ্ছিত রাখার বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। অভিযোগ ও দুদকের তদন্তের বিষয়ে কামাল হোসেনের বক্তব্যের জন্য ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন পরে ফোন দিতে বলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি আর ফোন ধরেন নি।