গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ইং তারিখ জনৈক অসুস্থ নারী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগে ডাক্তার দেখাতে আসেন। উক্ত বিভাগে কর্মরত পরিচ্ছন্ন কর্মী মোঃ জালাল আহম্মদ রাকিব (৩২) ভুক্তভোগী নারী রোগীকে দেখে বিশেষ কৌশলে ডাক্তারের সিরিয়াল দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাসপাতালের বর্হিবিভাগের একটি পরিত্যক্ত রুমে অপেক্ষা করতে বলে। পরবর্তীতে সুযোগ নিয়ে পরিচ্ছন্ন কর্মী রাকিব ভুক্তভোগী নারী রোগীকে জোড়পূর্বক ধর্ষণ করে। এসময় ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে ধর্ষক রাবিককে হাতেনাতে আটক করে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করেন।
উপরোক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী ভিকটিম চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-২৭(৯)১৫, জিআর নং-২৬০/১৫, নারী ও শিশু মামলা নং- ৬৮১/১৮, ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(১)। মামলা রুজু হওয়ার পর গ্রেফতারকৃত আসামি রাবিক বিচার প্রক্রিয়া চলাকালে কিছুদিন জেল খেটে জামিনে মুক্তি পেয়ে ছদ্দবেশে আত্মগোপনে চলে যায়। উক্ত মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালত আসামি মোঃ জালাল আহম্মদ রাকিব’কে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায় প্রদান করেন এবং আসামি অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন।
র্যাব-৭, চট্টগ্রাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, বর্ণিত ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোঃ জালাল আহম্মদ রাকিব’ চট্টগ্রামের আনোয়ারা এলাকা থেকে নৌকা যোগে নদীপথে কুতুবদিয়ায় পালানোর উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা থানাধীন রায়পুর এলাকায় অবস্থান করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম এর একটি অভিযানিক দল বর্ণিত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামি মোঃ জালাল আহম্মদ রাকিব (৪১), পিতা-সুলতান আহম্মদ, সাং-চাতুরী, থানা-আনোয়ারা, জেলা-চট্টগ্রাম’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে আটককৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে যে, সে সূত্রে বর্ণিত মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি এবং আইন শৃংখলা বাহিনীর নিকট থেকে গ্রেফতার এড়াতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে আসছিল।
গ্রেফতারকৃত আসামি সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মনির হোসেন,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: 





















