ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ র‍্যাবের নাম বদলে আসছে এসআরবি অফিস টাইমে ক্লিনিকে রোগী দেখছিলেন সরকারি চিকিৎসক, লাইসেন্স বাতিল ও বরখাস্তের নির্দেশ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ১২ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া সংস্কৃতির মাধ্যমে বিদায় করতে হবে : শফিকুর রহমান আ.লীগের কার্যক্রম নিয়ে ভারতকে কড়া বার্তা শামা ওবায়েদের  কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪ গ্রেপ্তার, উদ্ধার এক ভিকটিম ব্রাহ্মণপাড়ায় নবাগত ইউএনওর সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় কালিহাতীতে ২১৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ রাজশাহীর শীর্ষ মাদককারবারি গ্রেপ্তার বড়লেখায় গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

‘ঘরে আগুনের ভেতর থেকে বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শোনা যায়’

‘ঘরে টিনের ফাঁক দিয়ে দেখি ফুপুর ঘরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। বাইরে বের হলে আগুনের ভেতর থেকে অনেক জোরে তার বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শোনা যায়। এ সময় আব্বু ফুপুকে বাঁচাতে ঘরের ভেতরে ঢুকার চেষ্টা করলে তিনিও দগ্ধ হন।’

বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টার দিকে রাজবাড়ীর সদর উপজেলার শহীদওহাবপুর ইউনিয়নের আহলাদিপুর গ্রামে মৃত রাবেয়া বেগম বরুর (৭২) মরদেহ উদ্ধারের পর দগ্ধ ইউনুস শেখের (৬০) মেয়ে চাঁদনী আক্তার এ সব কথা বলেন।

মৃত রাবেয়া বেগম বরু একই এলাকার বাসিন্দা।
চাঁদনী আক্তার বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমার ফুপু ওনার পাটকাঠি ও টিনের ছাপড়াঘরে একা ঘুমিয়ে ছিলেন। আর আমরা আমাদের ঘরে ঘুমিয়েছিলাম। ভোর ৪টার দিকে আমাদের ভেঙে যায়। এ সময় ঘরের টিনের ফাঁক দিয়ে দেখি ফুপুর ঘরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে।

আব্বুকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে আমরা বাইরে বের হলে ফুপুর চিৎকার শুনতে পাই। ফুপু বাঁচাও বাঁচাও বলে জোরে চিৎকার করছিলেন। এ সময় আব্বু ফুপুকে বাঁচাতে ঘরের ভেতরে ঢুকার চেষ্টা করলে তিনি অগ্নিদগ্ধ হন। তখন প্রতিবেশীরা এসে আব্বুকে উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে ফুপুকে আর ঘর থেকে বের করা যায়নি তিনি ঘরের ভেতরে আগুনে পুড়ে মারা যান। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়া হলে তারা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

চিকিৎসক জানান, আমার আব্বুর শরীরের ৪০ শতাংশ অংশ পুড়ে গেছে। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

চাঁদনী আরও বলেন, আমার ফুপু ঘরের মেঝেতে খড় বিছিয়ে তার ওপর বিছানা করে ঘুমাতেন। ঘরে তিনি মশার কয়েল জ্বালাতেন। মাঝে মাঝে চেরাগ বাতি জ্বালিয়েও ঘুমাতেন। আমাদের ধারণা, মশার কয়েল অথবা চেরাগের থেকে ঘরের পাট কাঠিতে আগুন লেগে সারা ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আর খড়ের বিছানায় আগুন লেগে ফুপুর শরীরে দ্রুত আগুন জ্বলে ওঠে।

রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ১০ মিনিটের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। ততক্ষণে বৃদ্ধা রাবেয়া বেগম আগুনে পুড়ে মারা যান। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হলো তা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।

খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেলিম হোসেন বলেন, এ বিষয়ে মৃত রাবেয়া বেগমের পরিবারের সদস্যদের কোনো অভিযোগ নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ

‘ঘরে আগুনের ভেতর থেকে বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শোনা যায়’

আপডেট সময় ০১:১২:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

‘ঘরে টিনের ফাঁক দিয়ে দেখি ফুপুর ঘরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। বাইরে বের হলে আগুনের ভেতর থেকে অনেক জোরে তার বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শোনা যায়। এ সময় আব্বু ফুপুকে বাঁচাতে ঘরের ভেতরে ঢুকার চেষ্টা করলে তিনিও দগ্ধ হন।’

বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টার দিকে রাজবাড়ীর সদর উপজেলার শহীদওহাবপুর ইউনিয়নের আহলাদিপুর গ্রামে মৃত রাবেয়া বেগম বরুর (৭২) মরদেহ উদ্ধারের পর দগ্ধ ইউনুস শেখের (৬০) মেয়ে চাঁদনী আক্তার এ সব কথা বলেন।

মৃত রাবেয়া বেগম বরু একই এলাকার বাসিন্দা।
চাঁদনী আক্তার বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমার ফুপু ওনার পাটকাঠি ও টিনের ছাপড়াঘরে একা ঘুমিয়ে ছিলেন। আর আমরা আমাদের ঘরে ঘুমিয়েছিলাম। ভোর ৪টার দিকে আমাদের ভেঙে যায়। এ সময় ঘরের টিনের ফাঁক দিয়ে দেখি ফুপুর ঘরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে।

আব্বুকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে আমরা বাইরে বের হলে ফুপুর চিৎকার শুনতে পাই। ফুপু বাঁচাও বাঁচাও বলে জোরে চিৎকার করছিলেন। এ সময় আব্বু ফুপুকে বাঁচাতে ঘরের ভেতরে ঢুকার চেষ্টা করলে তিনি অগ্নিদগ্ধ হন। তখন প্রতিবেশীরা এসে আব্বুকে উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে ফুপুকে আর ঘর থেকে বের করা যায়নি তিনি ঘরের ভেতরে আগুনে পুড়ে মারা যান। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়া হলে তারা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

চিকিৎসক জানান, আমার আব্বুর শরীরের ৪০ শতাংশ অংশ পুড়ে গেছে। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

চাঁদনী আরও বলেন, আমার ফুপু ঘরের মেঝেতে খড় বিছিয়ে তার ওপর বিছানা করে ঘুমাতেন। ঘরে তিনি মশার কয়েল জ্বালাতেন। মাঝে মাঝে চেরাগ বাতি জ্বালিয়েও ঘুমাতেন। আমাদের ধারণা, মশার কয়েল অথবা চেরাগের থেকে ঘরের পাট কাঠিতে আগুন লেগে সারা ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আর খড়ের বিছানায় আগুন লেগে ফুপুর শরীরে দ্রুত আগুন জ্বলে ওঠে।

রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ১০ মিনিটের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। ততক্ষণে বৃদ্ধা রাবেয়া বেগম আগুনে পুড়ে মারা যান। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হলো তা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।

খানখানাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেলিম হোসেন বলেন, এ বিষয়ে মৃত রাবেয়া বেগমের পরিবারের সদস্যদের কোনো অভিযোগ নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।