ঢাকা ১২:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ র‍্যাবের নাম বদলে আসছে এসআরবি অফিস টাইমে ক্লিনিকে রোগী দেখছিলেন সরকারি চিকিৎসক, লাইসেন্স বাতিল ও বরখাস্তের নির্দেশ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ১২ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া সংস্কৃতির মাধ্যমে বিদায় করতে হবে : শফিকুর রহমান আ.লীগের কার্যক্রম নিয়ে ভারতকে কড়া বার্তা শামা ওবায়েদের  কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪ গ্রেপ্তার, উদ্ধার এক ভিকটিম ব্রাহ্মণপাড়ায় নবাগত ইউএনওর সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় কালিহাতীতে ২১৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ রাজশাহীর শীর্ষ মাদককারবারি গ্রেপ্তার বড়লেখায় গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিতে বৃদ্ধাকে আশালতাকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিবেশী বিশ্বজিৎ

রাজবাড়ীর পাংশায় বৃদ্ধা আশালতা দাস (৭৫) হত্যার পাঁচ ঘন্টার মধ্যে আসামি গ্রেফতার ও হত্যার কারণ উদঘাটন করেছে পুলিশ। স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিতে বাড়িতে ঢুকে ওই বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিবেশী ইলেকট্রিক মিস্ত্রী বিশ্বজিৎ বিশ্বাস (২৪)।

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের প্রেমটিয়া গ্রামের নিজ বাড়ির বারান্দা থেকে বৃদ্ধা আশালতা দাসের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত আশালতা দাস ওই গ্রামের মৃত সন্তোষ দাসের স্ত্রী। বিশ্বজিৎ তার প্রতিবেশী সুজিত বিশ্বাসের ছেলে।

জানা যায়, আশালতা দাসের স্বামী মারা যান ১১ বছর আগে। তার দুই মেয়ের অনেক আগেই বিয়ে হয়েছে। মেয়ে-জামাই, নাতি-নাতনি সবাই পাংশা শহরে থাকেন। গ্রামের বাড়িতে আশালতা দাস একাই বসবাস করতেন। পুরাতন বাড়িতে পুকুর, মাঠের জমি ছাড়াও বাগান রয়েছে তার। আশালতা দাসের দান করা জমির ওপর এলাকায় বিদ্যালয়, হাটবাজার হয়েছে। এসব দেখাশোনা করার জন্য লোকও ছিল।

সকালে বাড়ির কাজের লোক আশালতা দাসের মরদেহ ঘরের বারান্দায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার জি. এম. আবুল কালাম আজাদ জানান, আশালতা দাস স্বর্ণালংকার পড়ে থাকতে পছন্দ করতেন। তার স্বর্ণালংকারের ওপর নজর পড়ে প্রতিবেশী ইলেকট্রিক মিস্ত্রী বিশ্বজিৎ বিশ্বাসের। কারণ, বিশ্বজিৎ দেনার দায়ে জর্জরিত ছিল। তার পরিকল্পনা ছিল আশালতা দাসের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে বিক্রি করে দেনা শোধ করবেন। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৬ টার দিকে আশালতা ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় এলে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা বিশ্বজিৎ গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে হাতুড়ি দিয়ে আশালতার মাথায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে শরীর থেকে স্বর্ণালংকার খুলে নিয়ে পালিয়ে যায় সে।

তিনি জানান, সন্দেহজনকভাবে বিশ্বজিৎকে পুলিশ আটক করলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে তার কাছ থেকে স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। তার দেখানো মতে বাড়ির পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয় হত্যায় ব্যবহৃত হাতুড়ি। এ হত্যায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করবে। ওই মামলায় বিশ্বজিৎকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির নারী এমপিকে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ

স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিতে বৃদ্ধাকে আশালতাকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিবেশী বিশ্বজিৎ

আপডেট সময় ০৭:৪৪:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

রাজবাড়ীর পাংশায় বৃদ্ধা আশালতা দাস (৭৫) হত্যার পাঁচ ঘন্টার মধ্যে আসামি গ্রেফতার ও হত্যার কারণ উদঘাটন করেছে পুলিশ। স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিতে বাড়িতে ঢুকে ওই বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিবেশী ইলেকট্রিক মিস্ত্রী বিশ্বজিৎ বিশ্বাস (২৪)।

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের প্রেমটিয়া গ্রামের নিজ বাড়ির বারান্দা থেকে বৃদ্ধা আশালতা দাসের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত আশালতা দাস ওই গ্রামের মৃত সন্তোষ দাসের স্ত্রী। বিশ্বজিৎ তার প্রতিবেশী সুজিত বিশ্বাসের ছেলে।

জানা যায়, আশালতা দাসের স্বামী মারা যান ১১ বছর আগে। তার দুই মেয়ের অনেক আগেই বিয়ে হয়েছে। মেয়ে-জামাই, নাতি-নাতনি সবাই পাংশা শহরে থাকেন। গ্রামের বাড়িতে আশালতা দাস একাই বসবাস করতেন। পুরাতন বাড়িতে পুকুর, মাঠের জমি ছাড়াও বাগান রয়েছে তার। আশালতা দাসের দান করা জমির ওপর এলাকায় বিদ্যালয়, হাটবাজার হয়েছে। এসব দেখাশোনা করার জন্য লোকও ছিল।

সকালে বাড়ির কাজের লোক আশালতা দাসের মরদেহ ঘরের বারান্দায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার জি. এম. আবুল কালাম আজাদ জানান, আশালতা দাস স্বর্ণালংকার পড়ে থাকতে পছন্দ করতেন। তার স্বর্ণালংকারের ওপর নজর পড়ে প্রতিবেশী ইলেকট্রিক মিস্ত্রী বিশ্বজিৎ বিশ্বাসের। কারণ, বিশ্বজিৎ দেনার দায়ে জর্জরিত ছিল। তার পরিকল্পনা ছিল আশালতা দাসের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে বিক্রি করে দেনা শোধ করবেন। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৬ টার দিকে আশালতা ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় এলে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা বিশ্বজিৎ গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে হাতুড়ি দিয়ে আশালতার মাথায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে শরীর থেকে স্বর্ণালংকার খুলে নিয়ে পালিয়ে যায় সে।

তিনি জানান, সন্দেহজনকভাবে বিশ্বজিৎকে পুলিশ আটক করলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করে। পরে তার কাছ থেকে স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। তার দেখানো মতে বাড়ির পাশের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয় হত্যায় ব্যবহৃত হাতুড়ি। এ হত্যায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করবে। ওই মামলায় বিশ্বজিৎকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।