ঢাকা ০৩:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জালিয়াতির মাধ্যমে রূপায়ণ হাউজিংয়ের নকশা অনুমোদন দুদকের জালে রাজউকের ৪৬ কর্মকর্তা আমাদের চেহারা বদলায়নি, তারা ‘জামায়াত’ হঠাৎ করেই বদলে গেল জামালপুরে ধ্বংস করা হলো দুই ইটভাটার চিমনি, আটক ২ সংরক্ষিত নারী আসনের ৬৫ শতাংশই কোটিপতি : টিআইবি নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ শিক্ষার্থীদের ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে শুল্ক-কর প্রত্যাহার জিয়া শিশু কিশোর মেলা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা মুরাদনগরে মাদক সেবনের অপরাধে কারাদণ্ড   ডাব পাড়া নিয়ে একজনকে ‍কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট হত্যায় সেই জনিরও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

রাজশাহীর ৪৭ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি

রাজশাহীর ৯ উপজেলার ৪৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কাজ করছে। কমিটিগুলো গঠনের এক বছরের মাথায় এর সুফলও পাওয়া যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা মুখ খুলছে, প্রতিকারও হচ্ছে।

বেসরকারী সংস্থা ব্র্যাক তাদের অ্যাওয়ারনেস, অ্যাকশন অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি ফর জেন্ডার ইক্যুয়াল অ্যান্ড সেইফ স্পেসেস ফর উইমেন অ্যান্ড গার্লস-অগ্নি প্রকল্পের আওতায় কমিটিগুলো গঠন করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে রাজশাহী ও গাজীপুর জেলায় গতবছর থেকে প্রকল্পের কাজ চলছে।

সোমবার সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে এ প্রকল্পের সার্ভিস ম্যাপিং শেয়ারিং সভার আয়োজন করে ব্র্যাক সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স। সেখানে যৌন প্রতিরোধ কমিটির সুফলের কথা তুলে ধরেন বিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা। পবার ছয়টি প্রতিষ্ঠানে এ কমিটি রয়েছে।

বায়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক এসএম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এ কমিটি করার পর আমাদের ২০০ ছাত্রীর মাঝে সাহসী মনোভাব জেগে উঠেছে। আগে তারা রাস্তাঘাটের যৌন হয়রানি গোপন করত। এখন সাহস ও সততার সাথে বীরদর্পে এসে আমাদের কাছে অভিযোগ করা শিখেছে। যারা যৌন হয়রানি করছে, আমরা তাদের সতর্ক করছি। আইনের ভয় দেখাচ্ছি।’

দাদপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার আবদুল মজিদ বলেন, ‘আগে মাদ্রাসায় আসার পথে ছাত্রীরা বেশি যৌন হয়রানির শিকার হতো। এই কমিটির কার্যক্রম শুরুর পর এটি কমে এসেছে। এখন সবাই বুঝেছে, যৌন হয়রানি করলে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছাত্রীরা নিরাপদ হয়েছে। আমিও নিরাপদে আছি।’

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াসিন আলী। তিনি বলেন, ‘গ্রামে গ্রামে ব্র্যাকের সংগঠন আছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য স্কুলে স্কুলে কমিটি করে যে কাজ করছে সেটিও প্রশংসনীয়। সব স্কুলে এটি করা গেলে আরও অনেক বেশি সুফল পাওয়া যাবে।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন পবার ইউএনও আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাত। তিনি বলেন, ‘প্রতিমাসেই আমরা যৌন হয়রানি ও এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিবেদন পাঠাই। এতে দেখছি, আগের চেয়ে অনেক বেশি যৌন হয়রানি কমেছে। সবাই সচেতন হলে এটি শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব।’

সভায় প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন কারিগারি ব্যবস্থাপক ইজাজ আহমেদ। সভা পরিচালনা করেন প্রকল্প কর্মকর্তা মিতা রানী সরকার। বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আরজিয়া বেগম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শিমুল বিল্লাহ সুলতানা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এমএমএন জহুরুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাহিদ হাসান, ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারের অপারেশন ম্যানেজার শামীম হাসান।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জালিয়াতির মাধ্যমে রূপায়ণ হাউজিংয়ের নকশা অনুমোদন দুদকের জালে রাজউকের ৪৬ কর্মকর্তা

রাজশাহীর ৪৭ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি

আপডেট সময় ০৫:০৯:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৩

রাজশাহীর ৯ উপজেলার ৪৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কাজ করছে। কমিটিগুলো গঠনের এক বছরের মাথায় এর সুফলও পাওয়া যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা মুখ খুলছে, প্রতিকারও হচ্ছে।

বেসরকারী সংস্থা ব্র্যাক তাদের অ্যাওয়ারনেস, অ্যাকশন অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি ফর জেন্ডার ইক্যুয়াল অ্যান্ড সেইফ স্পেসেস ফর উইমেন অ্যান্ড গার্লস-অগ্নি প্রকল্পের আওতায় কমিটিগুলো গঠন করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে রাজশাহী ও গাজীপুর জেলায় গতবছর থেকে প্রকল্পের কাজ চলছে।

সোমবার সকালে রাজশাহীর পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে এ প্রকল্পের সার্ভিস ম্যাপিং শেয়ারিং সভার আয়োজন করে ব্র্যাক সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স। সেখানে যৌন প্রতিরোধ কমিটির সুফলের কথা তুলে ধরেন বিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা। পবার ছয়টি প্রতিষ্ঠানে এ কমিটি রয়েছে।

বায়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক এসএম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এ কমিটি করার পর আমাদের ২০০ ছাত্রীর মাঝে সাহসী মনোভাব জেগে উঠেছে। আগে তারা রাস্তাঘাটের যৌন হয়রানি গোপন করত। এখন সাহস ও সততার সাথে বীরদর্পে এসে আমাদের কাছে অভিযোগ করা শিখেছে। যারা যৌন হয়রানি করছে, আমরা তাদের সতর্ক করছি। আইনের ভয় দেখাচ্ছি।’

দাদপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার আবদুল মজিদ বলেন, ‘আগে মাদ্রাসায় আসার পথে ছাত্রীরা বেশি যৌন হয়রানির শিকার হতো। এই কমিটির কার্যক্রম শুরুর পর এটি কমে এসেছে। এখন সবাই বুঝেছে, যৌন হয়রানি করলে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছাত্রীরা নিরাপদ হয়েছে। আমিও নিরাপদে আছি।’

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াসিন আলী। তিনি বলেন, ‘গ্রামে গ্রামে ব্র্যাকের সংগঠন আছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য স্কুলে স্কুলে কমিটি করে যে কাজ করছে সেটিও প্রশংসনীয়। সব স্কুলে এটি করা গেলে আরও অনেক বেশি সুফল পাওয়া যাবে।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন পবার ইউএনও আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাত। তিনি বলেন, ‘প্রতিমাসেই আমরা যৌন হয়রানি ও এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিবেদন পাঠাই। এতে দেখছি, আগের চেয়ে অনেক বেশি যৌন হয়রানি কমেছে। সবাই সচেতন হলে এটি শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব।’

সভায় প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন কারিগারি ব্যবস্থাপক ইজাজ আহমেদ। সভা পরিচালনা করেন প্রকল্প কর্মকর্তা মিতা রানী সরকার। বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আরজিয়া বেগম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শিমুল বিল্লাহ সুলতানা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এমএমএন জহুরুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাহিদ হাসান, ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারের অপারেশন ম্যানেজার শামীম হাসান।