ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের পাইলট প্রকল্প শুরুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দেশে পোস্টগ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী তেজগাঁও থানায় আকস্মিক পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ নিউজ নেটওয়ার্ক নীলফামারীর আহ্বায়ক কমিটি গঠন অল্প সময়ে জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয় : পানিসম্পদমন্ত্রী জাজিরায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা মঠবাড়িয়ায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কীর্তি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিলেন তাকওয়া ফাউন্ডেশন মৌলভীবাজারের বড়লেখায় প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার রাজনীতি নিষিদ্ধ ববিতে জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের কাউন্সিল, পূর্ণাঙ্গ কমিটির আত্মপ্রকাশ   পোষা বিড়ালের আঁচড়ের পর থেকে ‘মিউ মিউ’ করছে শিশু আদ্রিতা

নারীদের বিদেশে পড়তে যেতে বাধা দিচ্ছে তালিবান

আফগানিস্তানে তালিবান নারীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়ার পর আমার একমাত্র আশা ছিল বৃত্তি নিয়ে বিদেশে পড়তে যাওয়া। এই কথা বলছিলেন ২০ বছর বয়সী আফগান তরুণী নাতকাই।

নাতকাই নিরাপত্তার স্বার্থে তার নাম বদলেছেন। তালেবানরা তাদের বিরোধিতাকারী নারীদের ওপর কঠোরভাবে দমন চালিয়েছে।

নাতকাই বলছেন যে, তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন যদিও তার নিজের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ খুব কম ছিল।

পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য আমিরাতের বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী শেখ খালাফ আহমদ আল হাবতুরের কাছ থেকে তিনি একটি বৃত্তি পান।

আফগান নারীদের জন্য বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তালিবান নারীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিষিদ্ধ করার পর।

বিবিসি জানতে পেরেছে মোট ১০০ জন আফগান নারী এই বৃত্তি অর্জনে সফল হয়েছেন। বিদেশে বসবাসকারী কিছু আফগান শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে দুবাইয়ে চলে গেছেন।

২৩ আগস্ট নাতকাই তার পরিবারের কাছ থেকে বিমানবন্দরে বিদায় নিয়েছিলেন। তবে তার আশা ভেঙে গেল।

তিনি বলেন, তালিবান কর্মকর্তারা যখন আমাদের টিকিট ও স্টুডেন্ট ভিসা দেখেছিলেন, তারা বলেছিলেন যে, নারীদের স্টুডেন্ট ভিসায় আফগানিস্তান ত্যাগ করার অনুমতি নেই।

নাতকাইয়ের মতো ৬০ জনকে বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

বিবিসি ছবিতে দেখতে পেয়েছে, কালো হিজাব পরা অল্পবয়সী মেয়েরা তাদের লাগেজের পাশে স্তম্ভিত ও বিধ্বস্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।

নারীদের একাকী ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তালিবান। কেউ দেশের বাইরে যেতে চাইলে তাকে স্বামী কিংবা ভাই, কিংবা চাচা, কিংবা বাবাকে সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। একে বলা হচ্ছে মাহরাম। যার অর্থ পুরুষ সঙ্গী। কিন্তু এই পুরুষ সঙ্গী নিয়ে গিয়েও অনেকে পার পাননি।

বৃত্তি পেয়ে আফগান নারীরা যে আমিরাতে যেতে পারছেন না, তা নিশ্চিত করেছে দুবাই বিশ্ববিদ্যালয় এবং বৃত্তি দেওয়া ওই ব্যবসায়ী আল হাবতুর। এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে আল হাবতুর তালিবান সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিথার বার বলেন, তালেবান ইতোমধ্যে নারী ও মেয়েদের পড়ার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের নিষ্ঠুরতার নতুন ধাপ হলো নারীদের দেশের বাইরে পড়তে যেতে না দেওয়া।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের পাইলট প্রকল্প শুরুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নারীদের বিদেশে পড়তে যেতে বাধা দিচ্ছে তালিবান

আপডেট সময় ১০:২৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৩

আফগানিস্তানে তালিবান নারীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়ার পর আমার একমাত্র আশা ছিল বৃত্তি নিয়ে বিদেশে পড়তে যাওয়া। এই কথা বলছিলেন ২০ বছর বয়সী আফগান তরুণী নাতকাই।

নাতকাই নিরাপত্তার স্বার্থে তার নাম বদলেছেন। তালেবানরা তাদের বিরোধিতাকারী নারীদের ওপর কঠোরভাবে দমন চালিয়েছে।

নাতকাই বলছেন যে, তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন যদিও তার নিজের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ খুব কম ছিল।

পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য আমিরাতের বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী শেখ খালাফ আহমদ আল হাবতুরের কাছ থেকে তিনি একটি বৃত্তি পান।

আফগান নারীদের জন্য বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তালিবান নারীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিষিদ্ধ করার পর।

বিবিসি জানতে পেরেছে মোট ১০০ জন আফগান নারী এই বৃত্তি অর্জনে সফল হয়েছেন। বিদেশে বসবাসকারী কিছু আফগান শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে দুবাইয়ে চলে গেছেন।

২৩ আগস্ট নাতকাই তার পরিবারের কাছ থেকে বিমানবন্দরে বিদায় নিয়েছিলেন। তবে তার আশা ভেঙে গেল।

তিনি বলেন, তালিবান কর্মকর্তারা যখন আমাদের টিকিট ও স্টুডেন্ট ভিসা দেখেছিলেন, তারা বলেছিলেন যে, নারীদের স্টুডেন্ট ভিসায় আফগানিস্তান ত্যাগ করার অনুমতি নেই।

নাতকাইয়ের মতো ৬০ জনকে বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

বিবিসি ছবিতে দেখতে পেয়েছে, কালো হিজাব পরা অল্পবয়সী মেয়েরা তাদের লাগেজের পাশে স্তম্ভিত ও বিধ্বস্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।

নারীদের একাকী ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তালিবান। কেউ দেশের বাইরে যেতে চাইলে তাকে স্বামী কিংবা ভাই, কিংবা চাচা, কিংবা বাবাকে সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। একে বলা হচ্ছে মাহরাম। যার অর্থ পুরুষ সঙ্গী। কিন্তু এই পুরুষ সঙ্গী নিয়ে গিয়েও অনেকে পার পাননি।

বৃত্তি পেয়ে আফগান নারীরা যে আমিরাতে যেতে পারছেন না, তা নিশ্চিত করেছে দুবাই বিশ্ববিদ্যালয় এবং বৃত্তি দেওয়া ওই ব্যবসায়ী আল হাবতুর। এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে আল হাবতুর তালিবান সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিথার বার বলেন, তালেবান ইতোমধ্যে নারী ও মেয়েদের পড়ার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের নিষ্ঠুরতার নতুন ধাপ হলো নারীদের দেশের বাইরে পড়তে যেতে না দেওয়া।