ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ক্রীড়া সৌহার্দ্য ও দেশপ্রেমের চেতনাকে সুদৃঢ় করে: প্রধানমন্ত্রী কূটনীতিতে প্রস্তুত, আত্মরক্ষায়ও পিছপা নয় ইরান বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে: সাদিক কায়েম ধর্মের শিক্ষা প্রতিফলিত হোক মানুষের কর্মে: ডিসি জাহিদ ‘কী খবর মাসুদ, ভালো?’ চট্টগ্রামের এসপিকে প্রধানমন্ত্রী আইসিটি খাতের উন্নয়নে জাতীয়তাবাদী ফোরামের নতুন কমিটি ফাইনালে ভারতের কাছে গোলের ব্যবধান কমাতে চায় বাংলাদেশ মেহেরপুরের গাংনীর করমদি গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১ জনের মৃত্যু ঢাকা-দাম্মাম-জেদ্দা-রিয়াদ রুটে বিমানের নতুন সূচি প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের সঞ্চালক আওয়ামী লীগ নেতা নিখিল কুমার নাথ, উঠছে প্রশ্ন

নুডলস খেয়ে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু

ভারতের উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় নিজ বাড়ি থেকে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে খাবারে বিষ মিশিয়ে তাঁরা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করছে পুলিশ।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় এনডিটিভি।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন—মহেশ (৩৭), তাঁর স্ত্রী ললিতা (৩৫), তাঁদের সাত বছর বয়সী কন্যাসন্তান মিষ্টি এবং দুই ছেলে লাড্ডু (১১) ও সাক্ষাৎ (৩)। গত শনিবার সকাল আটটার দিকে গ্রেটার নয়ডার নাগলা শ্রী পদম গ্রামে নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে এই পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় একটি মেলায় ঘুরতে গিয়েছিলেন। রাত আনুমানিক দশটার দিকে বাড়ি ফিরে তাঁরা রাতের খাবারে নুডলস খান। প্রথমে ঘটনাটিকে সাধারণ ফুড পয়জনিং বা খাদ্যবিষক্রিয়া বলে মনে করা হলেও পুলিশের দাবি, গৃহকর্তা মহেশ নিজেই সম্ভবত রাতের খাবারের সেই নুডলসে কোনো তীব্র বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়েছিলেন।

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ নিহত মহেশের মুঠোফোন থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অডিও বার্তা উদ্ধার করেছে। ওই অডিও বার্তায় পরিবারের এই করুণ পরিণতির জন্য মহেশ তাঁর দুই বোন ও এক ভগ্নিপতিকে সরাসরি দায়ী করেছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে মহেশের সেই দুই বোন ও ভগ্নিপতিকে ইতিমধ্যে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

এদিকে, মহেশের ভাইয়ের স্ত্রী (ভাবি) নীরজ এনডিটিভিকে জানান, পারিবারিক সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারটির মধ্যে চরম বিরোধ ও মানসিক অশান্তি চলছিল। নিজের স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হলেও মহেশ তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাঁরা আবার একসঙ্গে বসবাস করবেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী খাদ্যনিরাপত্তা কর্মকর্তারাও নিশ্চিত করেছেন যে এটি স্বাভাবিক খাদ্যবিষক্রিয়া নয়, বরং খাদ্যে বিষ প্রয়োগের ঘটনাই বেশি স্পষ্ট। খাদ্যনিরাপত্তা কর্মকর্তা ওপি সিং সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানান, তাঁদের বিশেষ দল ঘটনাস্থল থেকে নুডলসের প্যাকেটসহ বিভিন্ন খাবারের মোড়ক পরীক্ষা করে কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য পাননি।

ওপি সিং আরও জানান, সাধারণত ফুড পয়জনিং হলে বমি বা ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা গেলেও নিহতদের ক্ষেত্রে তেমন কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুদের একজনের মুখ দিয়ে লালা বা ফেনা বের হতে দেখা গিয়েছিল। পুরো ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে বর্তমানে বিস্তারিত ময়নাতদন্ত ও পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্রীড়া সৌহার্দ্য ও দেশপ্রেমের চেতনাকে সুদৃঢ় করে: প্রধানমন্ত্রী

নুডলস খেয়ে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু

আপডেট সময় ০৬:২৩:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় নিজ বাড়ি থেকে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে খাবারে বিষ মিশিয়ে তাঁরা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করছে পুলিশ।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় এনডিটিভি।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন—মহেশ (৩৭), তাঁর স্ত্রী ললিতা (৩৫), তাঁদের সাত বছর বয়সী কন্যাসন্তান মিষ্টি এবং দুই ছেলে লাড্ডু (১১) ও সাক্ষাৎ (৩)। গত শনিবার সকাল আটটার দিকে গ্রেটার নয়ডার নাগলা শ্রী পদম গ্রামে নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে এই পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় একটি মেলায় ঘুরতে গিয়েছিলেন। রাত আনুমানিক দশটার দিকে বাড়ি ফিরে তাঁরা রাতের খাবারে নুডলস খান। প্রথমে ঘটনাটিকে সাধারণ ফুড পয়জনিং বা খাদ্যবিষক্রিয়া বলে মনে করা হলেও পুলিশের দাবি, গৃহকর্তা মহেশ নিজেই সম্ভবত রাতের খাবারের সেই নুডলসে কোনো তীব্র বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়েছিলেন।

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ নিহত মহেশের মুঠোফোন থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অডিও বার্তা উদ্ধার করেছে। ওই অডিও বার্তায় পরিবারের এই করুণ পরিণতির জন্য মহেশ তাঁর দুই বোন ও এক ভগ্নিপতিকে সরাসরি দায়ী করেছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে মহেশের সেই দুই বোন ও ভগ্নিপতিকে ইতিমধ্যে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

এদিকে, মহেশের ভাইয়ের স্ত্রী (ভাবি) নীরজ এনডিটিভিকে জানান, পারিবারিক সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারটির মধ্যে চরম বিরোধ ও মানসিক অশান্তি চলছিল। নিজের স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হলেও মহেশ তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাঁরা আবার একসঙ্গে বসবাস করবেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী খাদ্যনিরাপত্তা কর্মকর্তারাও নিশ্চিত করেছেন যে এটি স্বাভাবিক খাদ্যবিষক্রিয়া নয়, বরং খাদ্যে বিষ প্রয়োগের ঘটনাই বেশি স্পষ্ট। খাদ্যনিরাপত্তা কর্মকর্তা ওপি সিং সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানান, তাঁদের বিশেষ দল ঘটনাস্থল থেকে নুডলসের প্যাকেটসহ বিভিন্ন খাবারের মোড়ক পরীক্ষা করে কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য পাননি।

ওপি সিং আরও জানান, সাধারণত ফুড পয়জনিং হলে বমি বা ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা গেলেও নিহতদের ক্ষেত্রে তেমন কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুদের একজনের মুখ দিয়ে লালা বা ফেনা বের হতে দেখা গিয়েছিল। পুরো ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে বর্তমানে বিস্তারিত ময়নাতদন্ত ও পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।