ঢাকা ১০:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জনগণের প্রতিটি পয়সা দেশের স্বার্থে ব্যয় করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যে দিল্লি যাচ্ছেন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বোরহানউদ্দিনে যানজটে আটকে ফায়ার সার্ভিস, জরুরি সেবা নিয়ে শঙ্কা-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দুর্গাপূজায় টানা ৩ দিন বন্ধ ব্যাংক, শনিবার খোলা সার-বিদ্যুতের সংকট তুলে ধরে প্রতিপক্ষকে জামায়াত প্রার্থীর প্রশ্ন এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর সঙ্গে রাশেদ খানের সৌজন্য সাক্ষাৎ মাগুরায় রাতের আঁধারে কেটে ফেলা হলো কৃষকের ১ হাজার কলাগাছ ধামরাইয়ে দুই অবৈধ ইটভাটায় অভিযান, দেড় লাখ টাকা জরিমানা না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন ষাটের দশকের অভিনেত্রী নাসিমা খান ওমরাহ করতে গিয়ে ফেরা হলো না, রিয়াদে হামলায় নিহত বাংলাদেশি শিক্ষক

সার-বিদ্যুতের সংকট তুলে ধরে প্রতিপক্ষকে জামায়াত প্রার্থীর প্রশ্ন

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সরকারি বরাদ্দ ও উন্নয়নকাজের বিস্তারিত তথ্য বিলবোর্ডের মাধ্যমে জনগণের সামনে প্রকাশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিল, জ্বালানি তেলের দাম, সার সংকট ও দুর্নীতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মড়লডোবা এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে নির্বাচনী উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “আমার সম্পর্কে খোঁজখবর নেবেন, জানার চেষ্টা করবেন। আমি যদি এমপি নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে সরকার থেকে আমার এলাকার জন্য যে বরাদ্দ আসবে, তা বিলবোর্ডের মাধ্যমে জনগণকে জানিয়ে দেব। কোন খাতে কত বরাদ্দ এসেছে, তা সবাই জানতে পারবেন। আবার কাজ শেষ হওয়ার পর কী কী কাজ হয়েছে, সেটিও জানিয়ে দেব। আমি নিজেকে এবং ঠাকুরগাঁওকে জবাবদিহির জায়গায় নিয়ে যেতে চাই।”

বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সমালোচনা করে জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, “আজ বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না, লোডশেডিং হয়। কিন্তু বিদ্যুতের বিল এলে মনে হয়, আপনি তিন-চার গুণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন। বিদ্যুতের বিল নিয়ে আমরা কেউ খুশি নই। সরকার অন্য পথে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে। এটাকে আমি ডিজিটাল চাঁদাবাজি বলি।”

কৃষকদের সার সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কৃষকেরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। তাঁর অভিযোগ, সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে। প্রত্যেক ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা নেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। যিনি এত টাকা দিয়ে ডিলার হবেন, তিনি আগে নিজের বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার চেষ্টা করবেন, নাকি কৃষকদের সেবা করবেন—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

দেলাওয়ার হোসেন আরও বলেন, সম্প্রতি সারা দেশে সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হলেও ঠাকুরগাঁওয়ের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি বলে তিনি জানতে পেরেছেন। নির্বাচন সামনে রেখে তালিকা প্রকাশ না করার পেছনে অনিয়ম থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন কি না, তা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।

বিদ্যুৎ, সার ও জ্বালানির সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, “যে দল কৃষককে সার দিতে পারে না, মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে পারে না, অথচ কয়েক গুণ বেশি বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়, সেই দলকে মানুষ কেন ভোট দেবে?”

তাঁর দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়েছে। এতে খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা বিভিন্নভাবে লাভবান হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আগামী ২৯ অক্টোবরের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, “আপনারা যদি মনে করেন, আপনাদের ওপর অন্যায়, জুলুম ও শোষণ করা হয়েছে, তাহলে আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে তার জবাব দেবেন।”

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ তুলে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, এসব ঘটনায় কারা জড়িত, তা মানুষ জানে। কার কাছে নিরাপদ থাকবেন, তা বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী অন্য ধর্মের মানুষের ধর্মীয় সংস্কৃতি ও স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। অন্য ধর্মের মানুষের ওপর আঘাত বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাকে দলটি সমর্থন করে না বলেও দাবি করেন তিনি।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “আমি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না হয়েও ঠাকুরগাঁওয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। জামায়াতে ইসলামী কখনো আপনাদের ক্ষতি করেনি। আমাদের কেউ চাঁদা চেয়েছে, লুটপাট করেছে কিংবা মিথ্যা মামলা দিয়েছে—এমন অভিযোগ আপনারা করতে পারবেন না।”

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আরও বেশি কাজ করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের প্রতিটি পয়সা দেশের স্বার্থে ব্যয় করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

সার-বিদ্যুতের সংকট তুলে ধরে প্রতিপক্ষকে জামায়াত প্রার্থীর প্রশ্ন

আপডেট সময় ০৯:৩১:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সরকারি বরাদ্দ ও উন্নয়নকাজের বিস্তারিত তথ্য বিলবোর্ডের মাধ্যমে জনগণের সামনে প্রকাশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিল, জ্বালানি তেলের দাম, সার সংকট ও দুর্নীতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মড়লডোবা এলাকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে নির্বাচনী উঠান বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “আমার সম্পর্কে খোঁজখবর নেবেন, জানার চেষ্টা করবেন। আমি যদি এমপি নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে সরকার থেকে আমার এলাকার জন্য যে বরাদ্দ আসবে, তা বিলবোর্ডের মাধ্যমে জনগণকে জানিয়ে দেব। কোন খাতে কত বরাদ্দ এসেছে, তা সবাই জানতে পারবেন। আবার কাজ শেষ হওয়ার পর কী কী কাজ হয়েছে, সেটিও জানিয়ে দেব। আমি নিজেকে এবং ঠাকুরগাঁওকে জবাবদিহির জায়গায় নিয়ে যেতে চাই।”

বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সমালোচনা করে জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, “আজ বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না, লোডশেডিং হয়। কিন্তু বিদ্যুতের বিল এলে মনে হয়, আপনি তিন-চার গুণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন। বিদ্যুতের বিল নিয়ে আমরা কেউ খুশি নই। সরকার অন্য পথে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে। এটাকে আমি ডিজিটাল চাঁদাবাজি বলি।”

কৃষকদের সার সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কৃষকেরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। তাঁর অভিযোগ, সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে। প্রত্যেক ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা নেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। যিনি এত টাকা দিয়ে ডিলার হবেন, তিনি আগে নিজের বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার চেষ্টা করবেন, নাকি কৃষকদের সেবা করবেন—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

দেলাওয়ার হোসেন আরও বলেন, সম্প্রতি সারা দেশে সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হলেও ঠাকুরগাঁওয়ের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি বলে তিনি জানতে পেরেছেন। নির্বাচন সামনে রেখে তালিকা প্রকাশ না করার পেছনে অনিয়ম থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন কি না, তা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।

বিদ্যুৎ, সার ও জ্বালানির সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, “যে দল কৃষককে সার দিতে পারে না, মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে পারে না, অথচ কয়েক গুণ বেশি বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়, সেই দলকে মানুষ কেন ভোট দেবে?”

তাঁর দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়েছে। এতে খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা বিভিন্নভাবে লাভবান হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আগামী ২৯ অক্টোবরের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, “আপনারা যদি মনে করেন, আপনাদের ওপর অন্যায়, জুলুম ও শোষণ করা হয়েছে, তাহলে আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে তার জবাব দেবেন।”

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ তুলে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, এসব ঘটনায় কারা জড়িত, তা মানুষ জানে। কার কাছে নিরাপদ থাকবেন, তা বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী অন্য ধর্মের মানুষের ধর্মীয় সংস্কৃতি ও স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। অন্য ধর্মের মানুষের ওপর আঘাত বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাকে দলটি সমর্থন করে না বলেও দাবি করেন তিনি।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “আমি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না হয়েও ঠাকুরগাঁওয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। জামায়াতে ইসলামী কখনো আপনাদের ক্ষতি করেনি। আমাদের কেউ চাঁদা চেয়েছে, লুটপাট করেছে কিংবা মিথ্যা মামলা দিয়েছে—এমন অভিযোগ আপনারা করতে পারবেন না।”

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আরও বেশি কাজ করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।