ঢাকা ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জালিয়াতির মাধ্যমে রূপায়ণ হাউজিংয়ের নকশা অনুমোদন দুদকের জালে রাজউকের ৪৬ কর্মকর্তা আমাদের চেহারা বদলায়নি, তারা ‘জামায়াত’ হঠাৎ করেই বদলে গেল জামালপুরে ধ্বংস করা হলো দুই ইটভাটার চিমনি, আটক ২ সংরক্ষিত নারী আসনের ৬৫ শতাংশই কোটিপতি : টিআইবি নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ শিক্ষার্থীদের ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে শুল্ক-কর প্রত্যাহার জিয়া শিশু কিশোর মেলা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা মুরাদনগরে মাদক সেবনের অপরাধে কারাদণ্ড   ডাব পাড়া নিয়ে একজনকে ‍কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট হত্যায় সেই জনিরও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে নেপালে হাজারও মানুষের বিক্ষোভ

দক্ষিণ এশিয়ার ছোট গণতান্ত্রিক দেশ নেপাল। বর্তমানে এটি গণতান্ত্রিক দেশ হলেও চলতি শতাব্দির শুরুতে এটি ছিল রাজতন্ত্র পরিচালিত। তবে নানা নাটকীয়তায় দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে সেই রাজতন্ত্রের অবসান হয়।

তবে এরপরও নেপালে রাজতন্ত্রের হাজারও সমর্থক রয়ে গেছেন এবং বুধবার (১১ জানুয়ারি) তারা রাজতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এপি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালের সাবেক রাজপরিবারের হাজার হাজার সমর্থক বুধবার হিমালয় দেশটিতে রাজতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে। এসময় তারা রাজা পৃথ্বী নারায়ণ শাহের মূর্তির চারপাশে জড়ো হন। নেপালের সাবেক এই রাজাই ১৮ শতকে শাহ রাজবংশের সূচনা করেছিলেন।

আর শাহ রাজবংশের শেষ রাজা ছিলেন জ্ঞানেন্দ্র। নানা নাটকীয়তার পর তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং ২০০৮ সালে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হয়ে নেপাল একটি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়।

এপি বলছে, নেপালে এখনও অনেক সমর্থক আছেন যারা রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চান এবং প্রতি বছর পৃথ্বী নারায়ণের জন্মবার্ষিকীতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন। এর আগের কিছু সমাবেশ অবশ্য বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে সহিংস রূপ নিয়েছে।

তবে বুধবারের সমাবেশটি শান্তিপূর্ণ ছিল এবং দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জাম নিয়ে মোতায়েন থাকা পুলিশ এই বিক্ষোভ সমাবেশের ওপর নিবিড় নজরদারি জারি রেখেছিল। এদিনের সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা পতাকা ওড়ানোর পাশাপাশি সঙ্গীত বাজানো এবং রাজতন্ত্রের প্রশংসাসূচক নানা স্লোগানও দেন।

অবশ্য প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহালের নেতৃত্বাধীন নেপালের নতুন সরকার সাবেক রাজা পৃথ্বী নারায়ণের জন্মদিন উপলক্ষে বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। দাহাল নেপালে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করতে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে মাওবাদী কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে প্রাসাদ হত্যাকাণ্ডের পর জ্ঞানেন্দ্র রাজা হন। কিন্তু তিনি বেশ অজনপ্রিয় ছিলেন। এরপর রাজনৈতিক দলগুলো মাওবাদী বিদ্রোহীদের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে বিক্ষোভ সংগঠিত করে এবং ২০০৬ সালে তাকে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য করে।

এর দুই বছর পর, পার্লামেন্ট রাজতন্ত্র বাতিলের পক্ষে ভোট দেয়। ৭৫ বছর বয়সী জ্ঞানেন্দ্র বর্তমানে একজন সাধারণ নাগরিক এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নন।

এদিকে সাবেক রাজা পৃথ্বী নারায়ণের জন্মদিন উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা এবং সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।

রাম প্রসাদ উপ্রেতি নামে নেপালের একজন অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক বলছেন, ‘নেপালে রাজতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা একজন আনুষ্ঠানিক রাজা খুঁজছি এবং আমরা একজন নির্বাহী প্রধানমন্ত্রীকে মেনে নিতে রাজি আছি। তবে নেপালের একজন আনুষ্ঠানিক রাজা দরকার।’

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জালিয়াতির মাধ্যমে রূপায়ণ হাউজিংয়ের নকশা অনুমোদন দুদকের জালে রাজউকের ৪৬ কর্মকর্তা

রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে নেপালে হাজারও মানুষের বিক্ষোভ

আপডেট সময় ১২:৩৫:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৩

দক্ষিণ এশিয়ার ছোট গণতান্ত্রিক দেশ নেপাল। বর্তমানে এটি গণতান্ত্রিক দেশ হলেও চলতি শতাব্দির শুরুতে এটি ছিল রাজতন্ত্র পরিচালিত। তবে নানা নাটকীয়তায় দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে সেই রাজতন্ত্রের অবসান হয়।

তবে এরপরও নেপালে রাজতন্ত্রের হাজারও সমর্থক রয়ে গেছেন এবং বুধবার (১১ জানুয়ারি) তারা রাজতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এপি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালের সাবেক রাজপরিবারের হাজার হাজার সমর্থক বুধবার হিমালয় দেশটিতে রাজতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে। এসময় তারা রাজা পৃথ্বী নারায়ণ শাহের মূর্তির চারপাশে জড়ো হন। নেপালের সাবেক এই রাজাই ১৮ শতকে শাহ রাজবংশের সূচনা করেছিলেন।

আর শাহ রাজবংশের শেষ রাজা ছিলেন জ্ঞানেন্দ্র। নানা নাটকীয়তার পর তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং ২০০৮ সালে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হয়ে নেপাল একটি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়।

এপি বলছে, নেপালে এখনও অনেক সমর্থক আছেন যারা রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চান এবং প্রতি বছর পৃথ্বী নারায়ণের জন্মবার্ষিকীতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন। এর আগের কিছু সমাবেশ অবশ্য বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে সহিংস রূপ নিয়েছে।

তবে বুধবারের সমাবেশটি শান্তিপূর্ণ ছিল এবং দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জাম নিয়ে মোতায়েন থাকা পুলিশ এই বিক্ষোভ সমাবেশের ওপর নিবিড় নজরদারি জারি রেখেছিল। এদিনের সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা পতাকা ওড়ানোর পাশাপাশি সঙ্গীত বাজানো এবং রাজতন্ত্রের প্রশংসাসূচক নানা স্লোগানও দেন।

অবশ্য প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহালের নেতৃত্বাধীন নেপালের নতুন সরকার সাবেক রাজা পৃথ্বী নারায়ণের জন্মদিন উপলক্ষে বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। দাহাল নেপালে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করতে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে মাওবাদী কমিউনিস্ট বিদ্রোহীদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে প্রাসাদ হত্যাকাণ্ডের পর জ্ঞানেন্দ্র রাজা হন। কিন্তু তিনি বেশ অজনপ্রিয় ছিলেন। এরপর রাজনৈতিক দলগুলো মাওবাদী বিদ্রোহীদের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে বিক্ষোভ সংগঠিত করে এবং ২০০৬ সালে তাকে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য করে।

এর দুই বছর পর, পার্লামেন্ট রাজতন্ত্র বাতিলের পক্ষে ভোট দেয়। ৭৫ বছর বয়সী জ্ঞানেন্দ্র বর্তমানে একজন সাধারণ নাগরিক এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নন।

এদিকে সাবেক রাজা পৃথ্বী নারায়ণের জন্মদিন উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা এবং সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।

রাম প্রসাদ উপ্রেতি নামে নেপালের একজন অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক বলছেন, ‘নেপালে রাজতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা একজন আনুষ্ঠানিক রাজা খুঁজছি এবং আমরা একজন নির্বাহী প্রধানমন্ত্রীকে মেনে নিতে রাজি আছি। তবে নেপালের একজন আনুষ্ঠানিক রাজা দরকার।’