ঢাকা ০২:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফেনীতে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে মানববন্ধন, র‍্যালি ও আলোচনা সভা জাকারিয়া-সোহাগ মিয়া সিন্ডিকেটে রাজউকে লুটপাট এলজিইডির সিআরএএলইপি প্রকল্পে নওরিনকে ঘিরে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ প্রিন্সিপাল সাইফুজ্জামানকে ঘিরে দুর্নীতি-অনিয়মের নানা অভিযোগ দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস নিজের গুমের বর্ণনা দিতে গিয়ে কাঁদলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজশাহীতে ১ হাজার তালগাছের চারা রোপণ কর্মসূচি  চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে গাঁজা ও সাইকেলসহ যুবক আটক সাঁওতাল কমিউনিটির বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বেরোবি শিক্ষার্থীদের ‘লুমিনোভা’ সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর টানে শিক্ষিকার মৃত্যু, গ্রেপ্তার ২

সাঁওতাল কমিউনিটির বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বেরোবি শিক্ষার্থীদের ‘লুমিনোভা’

সমাজের একটি বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে স্থানীয় সম্পদ ও নবায়নযোগ্য শক্তিকে কাজে লাগিয়ে টেকসই সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন বেরোবির কয়েকজন শিক্ষার্থী। রংপুরের সাঁওতাল কমিউনিটির বিদ্যুৎহীন পরিবারের জন্য বাঁশ ও সৌরশক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে সোলার ল্যাম্প।
 শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘লুমিনোভা’।
‘আমরা নতুন নেটওয়ার্ক’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তরুণদের একটি দল সমাজ ও কমিউনিটির বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে তারা রংপুরের সাঁওতাল কমিউনিটিতে সার্ভে পরিচালনা করেন এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা ও প্রয়োজনগুলো জানার চেষ্টা করেন শিক্ষার্থীরা।
সার্ভে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথোপকথনে উঠে আসে, কমিউনিটির অনেক পরিবারের এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে এসব পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে পারছে না। ফলে সন্ধ্যার পর শিশুদের পড়াশোনা, ঘরের কাজসহ বিভিন্ন দৈনন্দিন কার্যক্রমে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
এই সমস্যার সহজ, সাশ্রয়ী ও টেকসই সমাধান খুঁজতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা স্থানীয় পরিবেশ ও সম্পদ পর্যবেক্ষণ করেন। সেখানে প্রচুর বাঁশের উপস্থিতি এবং সৌরশক্তির সহজলভ্যতা তাঁদের নতুন ধারণার দিকে নিয়ে যায়। স্থানীয়ভাবে পাওয়া বাঁশ ও সৌরশক্তিকে একত্র করে ল্যাম্প তৈরির পরিকল্পনা থেকেই শুরু হয় ‘লুমিনোভা’ প্রকল্প।
উদ্যোক্তাদের মতে, লুমিনোভার লক্ষ্য শুধু বিদ্যুৎবিহীন পরিবারে একটি ল্যাম্প পৌঁছে দেওয়া নয়। বরং কমিউনিটির মানুষকে সৌর প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করা এবং তাদের নিজেরাই ল্যাম্প তৈরির দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা।
প্রাথমিক পর্যায়ে ছোট সোলার প্যানেল ব্যবহার করে ল্যাম্প তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে বড় সোলার প্যানেল ও আরও কার্যকর সৌরব্যবস্থা ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আলোর পাশাপাশি কমিউনিটির মানুষের প্রযুক্তিগত দক্ষতা তৈরি হবে। ভবিষ্যতে এই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা আয় ও স্বাবলম্বিতার সুযোগও তৈরি করতে পারবেন বলে মনে করছেন উদ্যোগটির সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, “লুমিনোভা আমাদের কাছে শুধু একটি সোলার ল্যাম্প নয়। এটি একটি সমস্যা থেকে সমাধানে, অন্ধকার থেকে আলোর পথে এবং নির্ভরশীলতা থেকে স্বাবলম্বিতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি প্রচেষ্টা।”
তাঁদের ভাষ্য, স্থানীয় সম্পদ বাঁশ এবং পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য শক্তি সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে এমন একটি সমাধান তৈরি করাই তাঁদের লক্ষ্য, যা সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব এবং দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে।
তারা আরও জানান, একটি ল্যাম্প দিয়ে শুধু একটি ঘর আলোকিত করা নয়, বরং আলো, জ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি কমিউনিটির সম্ভাবনাকে এগিয়ে নেওয়াই ‘লুমিনোভা’র মূল উদ্দেশ্য।
‘লুমিনোভা’ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন— মাসুম রেজা ও বিশাখা সাহা (গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা), সাইয়্যেদা তাসমিম (পরিসংখ্যান), আহানা রয় (সমাজবিজ্ঞান), সাদিয়া সুলতানা (রাষ্ট্রবিজ্ঞান), মিতানুর মুক্তা (জিডিএস), আনসারী জিহাদ (অর্থনীতি) এবং মাহির ফয়সাল (প্রাণিবিদ্যা, কারমাইকেল কলেজ)।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেনীতে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে মানববন্ধন, র‍্যালি ও আলোচনা সভা

সাঁওতাল কমিউনিটির বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বেরোবি শিক্ষার্থীদের ‘লুমিনোভা’

আপডেট সময় ০১:২৮:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
সমাজের একটি বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে স্থানীয় সম্পদ ও নবায়নযোগ্য শক্তিকে কাজে লাগিয়ে টেকসই সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন বেরোবির কয়েকজন শিক্ষার্থী। রংপুরের সাঁওতাল কমিউনিটির বিদ্যুৎহীন পরিবারের জন্য বাঁশ ও সৌরশক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে সোলার ল্যাম্প।
 শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘লুমিনোভা’।
‘আমরা নতুন নেটওয়ার্ক’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তরুণদের একটি দল সমাজ ও কমিউনিটির বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে তারা রংপুরের সাঁওতাল কমিউনিটিতে সার্ভে পরিচালনা করেন এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা ও প্রয়োজনগুলো জানার চেষ্টা করেন শিক্ষার্থীরা।
সার্ভে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথোপকথনে উঠে আসে, কমিউনিটির অনেক পরিবারের এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে এসব পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে পারছে না। ফলে সন্ধ্যার পর শিশুদের পড়াশোনা, ঘরের কাজসহ বিভিন্ন দৈনন্দিন কার্যক্রমে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
এই সমস্যার সহজ, সাশ্রয়ী ও টেকসই সমাধান খুঁজতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা স্থানীয় পরিবেশ ও সম্পদ পর্যবেক্ষণ করেন। সেখানে প্রচুর বাঁশের উপস্থিতি এবং সৌরশক্তির সহজলভ্যতা তাঁদের নতুন ধারণার দিকে নিয়ে যায়। স্থানীয়ভাবে পাওয়া বাঁশ ও সৌরশক্তিকে একত্র করে ল্যাম্প তৈরির পরিকল্পনা থেকেই শুরু হয় ‘লুমিনোভা’ প্রকল্প।
উদ্যোক্তাদের মতে, লুমিনোভার লক্ষ্য শুধু বিদ্যুৎবিহীন পরিবারে একটি ল্যাম্প পৌঁছে দেওয়া নয়। বরং কমিউনিটির মানুষকে সৌর প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করা এবং তাদের নিজেরাই ল্যাম্প তৈরির দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা।
প্রাথমিক পর্যায়ে ছোট সোলার প্যানেল ব্যবহার করে ল্যাম্প তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে বড় সোলার প্যানেল ও আরও কার্যকর সৌরব্যবস্থা ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আলোর পাশাপাশি কমিউনিটির মানুষের প্রযুক্তিগত দক্ষতা তৈরি হবে। ভবিষ্যতে এই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা আয় ও স্বাবলম্বিতার সুযোগও তৈরি করতে পারবেন বলে মনে করছেন উদ্যোগটির সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, “লুমিনোভা আমাদের কাছে শুধু একটি সোলার ল্যাম্প নয়। এটি একটি সমস্যা থেকে সমাধানে, অন্ধকার থেকে আলোর পথে এবং নির্ভরশীলতা থেকে স্বাবলম্বিতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি প্রচেষ্টা।”
তাঁদের ভাষ্য, স্থানীয় সম্পদ বাঁশ এবং পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য শক্তি সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে এমন একটি সমাধান তৈরি করাই তাঁদের লক্ষ্য, যা সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব এবং দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে।
তারা আরও জানান, একটি ল্যাম্প দিয়ে শুধু একটি ঘর আলোকিত করা নয়, বরং আলো, জ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি কমিউনিটির সম্ভাবনাকে এগিয়ে নেওয়াই ‘লুমিনোভা’র মূল উদ্দেশ্য।
‘লুমিনোভা’ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন— মাসুম রেজা ও বিশাখা সাহা (গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা), সাইয়্যেদা তাসমিম (পরিসংখ্যান), আহানা রয় (সমাজবিজ্ঞান), সাদিয়া সুলতানা (রাষ্ট্রবিজ্ঞান), মিতানুর মুক্তা (জিডিএস), আনসারী জিহাদ (অর্থনীতি) এবং মাহির ফয়সাল (প্রাণিবিদ্যা, কারমাইকেল কলেজ)।