রংপুরের পীরগঞ্জে জমিতে ঘাস কাটার পর পুকুরে ঘাস ধুতে নেমে পানিতে ডুবে ওয়াদুত (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার শমসেরপাড়া ও কাঙুরপাড়ার মধ্যবর্তী ব্যালা ঘাট ব্রিজসংলগ্ন একটি গভীর পুকুরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ওয়াদুত উপজেলার জাদবপুর এলাকার বাসিন্দা বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, জমিতে ঘাস কাটার পর তা ধোয়ার জন্য পুকুরে নামেন ওয়াদুত। এ সময় তিনি পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন। পাশের জমিতে কাজ করছিলেন শমসেরপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। তিনি চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে স্থানীয়দের খবর দেন। পরে স্থানীয় লোকজন পুকুরে নেমে খোঁজাখুঁজি করেও গভীরতার কারণে তাকে উদ্ধার করতে পারেননি।
খবর পেয়ে পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে পুকুরটির গভীরতা বেশি হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন। পরে রংপুর থেকে ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়। ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়ে পুকুরের গভীর থেকে ওয়াদুতের মরদেহ উদ্ধার করে।
পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সাবস্টেশন অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন, “খবর পাওয়া মাত্রই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করি। পুকুরের গভীরতা বেশি হওয়ায় রংপুরের ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়। পরে ডুবুরি দল এসে পানিতে ডুবে যাওয়া ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে।”
স্থানীয়দের দাবি, পুকুরটির গভীরতা প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ফুট। এ কারণে পানিতে কেউ ডুবে গেলে দ্রুত উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাদের ভাষ্য, প্রায় দুই বছর আগেও একই পুকুরে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, পুকুরটি খাসজমিতে খনন করা হয়েছে এবং ঘোনা চতরা গ্রামের হেলাল, জেনারুল, সাইদুলসহ কয়েকজনের উদ্যোগে রাস্তার পাশে পুকুরটি খনন করা হলেও এর চারপাশে নিরাপত্তামূলক পাড় বা সুরক্ষাব্যবস্থা রাখা হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আগে থেকেই অসন্তোষ ছিল বলে তারা জানান।
তবে পুকুরটি খাসজমিতে খনন এবং কারা এটি খনন করেছেন—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তারিকুল ইসলাম তারিক পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি 



















