ঢাকা ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা অনুমোদন কুমিল্লায় আদর্শ সদর উপজেলা ছাএদলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ২৫ লাখ টাকার ভারতীয় ট্রাকের যন্ত্রাংশ জব্দ চেয়ারম্যানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে মামলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০০ গ্রাম হেরোইন ও নগদ টাকাসহ ৩ জন আটক বৃষ্টি নিয়ে বড় দুঃসংবাদ, টানা ৫ দিন ঝরতে পারে বজ্রবৃষ্টি ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে সারাদেশে র‍্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য দ্রুত নীতিমালা আসছে: জাহেদ উর রহমান বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজের ২২ ঘণ্টা পর পাঁচ জেলের মরদেহ উদ্ধার আশ্রয়প্রার্থীদের ২ লাখ ভিসা বাতিল করতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
তদারকিতে অনিয়মের অভিযোগ

৬০ কোটি টাকার বিপিসি ভবনে উদ্বোধনের পরই পানি-ফাটল

চট্টগ্রামে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নিজস্ব সদর দপ্তর নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাঁচতলা ভবনটি উদ্বোধনের পর প্রথম বর্ষাতেই বিভিন্ন কক্ষে পানি ঢোকা এবং ভবনের একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় নির্মাণকাজের মান ও প্রকল্প তদারকিতে থাকা কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে প্রকল্প পরিচালক ও বিপিসির উপমহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা) প্রকৌশলী মো. আপেল মামুনের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা এবং নির্মাণকাজের বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়ার বিনিময়ে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিপিসি সূত্রের দাবি, ভবন নির্মাণের পুরো প্রক্রিয়ায় প্রকৌশলী মো. আপেল মামুন তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজের বিভিন্ন ধাপে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ দাবি করছেন, এ অনিয়মের সঙ্গে আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। ফলে প্রকল্পটির আর্থিক ও কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ভাড়া ভবনে কার্যক্রম পরিচালনার পর বিপিসির নিজস্ব সদর দপ্তর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। চট্টগ্রাম নগরীর জয়পাহাড় এলাকায় পাঁচতলা ইস্পাত কাঠামোর ভবনটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা। ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার পর সেখানে বিপিসির সদর দপ্তরের কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়।

গত ১০ জুলাই নতুন ভবনে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এরপর ১২ জুলাই থেকে সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে অফিস কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু অফিস শুরুর প্রথম দিনেই বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ে ভবনের বিভিন্ন কক্ষে। পানি ঠেকাতে ভবনের বিভিন্ন অংশে ত্রিপল ব্যবহার করতে হয়।

একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন ভবনে অফিস শুরুর পরপরই এ ধরনের পরিস্থিতি দেখা দেওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়। দীর্ঘদিনের ভাড়া ভবনের বিড়ম্বনা কাটিয়ে নিজস্ব সদর দপ্তরে ওঠার পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় প্রকল্পটির নির্মাণমান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ভবনে পানি ঢোকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন প্রকল্প পরিচালক মো. আপেল মামুন। তবে তিনি নির্মাণকাজের মান নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি বলে দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনের কাচে বিশেষ ধরনের আঠা ব্যবহার না করায় বৃষ্টির পানি প্রবেশ করেছে।

তবে পানি প্রবেশের বিষয়টি সামাল দেওয়ার আগেই ভবনের উত্তর পাশের অন্তত তিনটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে এসব ফাটলের অস্তিত্ব দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর আগেও ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। পরে সেগুলো পুডিং ও প্লাস্টারের মাধ্যমে মেরামত করা হয় বলে জানা গেছে।

প্রকল্প পরিচালক মো. আপেল মামুন অবশ্য এসব ফাটলকে বড় ধরনের ত্রুটি হিসেবে দেখছেন না। তাঁর দাবি, ভবনটি ইস্পাত কাঠামোয় নির্মিত হওয়ায় ইস্পাত কাঠামো ও সিমেন্টের বিভিন্ন অংশের সংযোগস্থলে সূক্ষ্ম ফাটল দেখা দিতে পারে। এগুলো বড় ধরনের ফাটল নয় এবং পুডিং ও প্লাস্টারের মাধ্যমে মেরামত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

ভবন নির্মাণের দায়িত্ব পাওয়া ইউনাইটেড করপোরেশনের মালিক মো. আমিনও ফাটলের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ইস্পাত কাঠামোর কারণে কিছু জায়গায় ফাটলের মতো দেখা দিয়েছে। সেগুলো পুডিং দিয়ে মেরামত করা হচ্ছে এবং এতে মূল ভবনের কোনো ক্ষতি হবে না।

তবে প্রকৌশল ও নির্মাণসংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন একটি সরকারি ভবনে উদ্বোধনের পরপরই পানি প্রবেশ এবং একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ভবনের নকশা, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান, কাঠামোগত নিরাপত্তা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের মান স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি।

বিপিসি ১৯৯০ সাল থেকে চট্টগ্রামে ভাড়া ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রথমে আগ্রাবাদের হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন ভবনে এবং পরে ২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ভবনে সদর দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন দশক পর নিজস্ব সদর দপ্তর পায় প্রতিষ্ঠানটি।

জয়পাহাড় এলাকায় নির্মিত নতুন ভবনটিতে প্রায় ১৮০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাজ করার কথা। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর নিজস্ব ভবন পেলেও প্রথম বর্ষাতেই পানি প্রবেশ এবং এরপর দেয়ালে ফাটলের ঘটনায় পুরো প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, বিপিসি দেশের জ্বালানি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করে। পদ্মা অয়েল কোম্পানি, যমুনা অয়েল কোম্পানি ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের মাধ্যমে এসব জ্বালানি বাজারজাত করা হয়। এ ছাড়া বিপিসির অধীন ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা হয়।

এমন একটি কৌশলগত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর নির্মাণে পানি প্রবেশ ও ফাটলের মতো ত্রুটি দেখা দেওয়াকে স্বাভাবিকভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয়, ঠিকাদারি প্রক্রিয়া, ব্যবহৃত সামগ্রী, কাজের মান, বিল পরিশোধ এবং প্রকল্প পরিচালকের তদারকি—সবকিছুই নিরপেক্ষ কারিগরি ও আর্থিক অডিটের আওতায় আনা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. আপেল মামুনের বিরুদ্ধে ওঠা কমিশন-বাণিজ্য ও ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সরকারি অর্থের অপচয় ও নির্মাণকাজে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের ৩ মামলা অনুমোদন

তদারকিতে অনিয়মের অভিযোগ

৬০ কোটি টাকার বিপিসি ভবনে উদ্বোধনের পরই পানি-ফাটল

আপডেট সময় ০১:১১:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নিজস্ব সদর দপ্তর নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাঁচতলা ভবনটি উদ্বোধনের পর প্রথম বর্ষাতেই বিভিন্ন কক্ষে পানি ঢোকা এবং ভবনের একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় নির্মাণকাজের মান ও প্রকল্প তদারকিতে থাকা কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে প্রকল্প পরিচালক ও বিপিসির উপমহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা) প্রকৌশলী মো. আপেল মামুনের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা এবং নির্মাণকাজের বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়ার বিনিময়ে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিপিসি সূত্রের দাবি, ভবন নির্মাণের পুরো প্রক্রিয়ায় প্রকৌশলী মো. আপেল মামুন তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজের বিভিন্ন ধাপে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতার মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ দাবি করছেন, এ অনিয়মের সঙ্গে আরও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। ফলে প্রকল্পটির আর্থিক ও কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ভাড়া ভবনে কার্যক্রম পরিচালনার পর বিপিসির নিজস্ব সদর দপ্তর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। চট্টগ্রাম নগরীর জয়পাহাড় এলাকায় পাঁচতলা ইস্পাত কাঠামোর ভবনটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা। ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার পর সেখানে বিপিসির সদর দপ্তরের কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়।

গত ১০ জুলাই নতুন ভবনে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এরপর ১২ জুলাই থেকে সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে অফিস কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু অফিস শুরুর প্রথম দিনেই বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ে ভবনের বিভিন্ন কক্ষে। পানি ঠেকাতে ভবনের বিভিন্ন অংশে ত্রিপল ব্যবহার করতে হয়।

একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন ভবনে অফিস শুরুর পরপরই এ ধরনের পরিস্থিতি দেখা দেওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়। দীর্ঘদিনের ভাড়া ভবনের বিড়ম্বনা কাটিয়ে নিজস্ব সদর দপ্তরে ওঠার পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় প্রকল্পটির নির্মাণমান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ভবনে পানি ঢোকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন প্রকল্প পরিচালক মো. আপেল মামুন। তবে তিনি নির্মাণকাজের মান নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি বলে দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনের কাচে বিশেষ ধরনের আঠা ব্যবহার না করায় বৃষ্টির পানি প্রবেশ করেছে।

তবে পানি প্রবেশের বিষয়টি সামাল দেওয়ার আগেই ভবনের উত্তর পাশের অন্তত তিনটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে এসব ফাটলের অস্তিত্ব দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এর আগেও ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। পরে সেগুলো পুডিং ও প্লাস্টারের মাধ্যমে মেরামত করা হয় বলে জানা গেছে।

প্রকল্প পরিচালক মো. আপেল মামুন অবশ্য এসব ফাটলকে বড় ধরনের ত্রুটি হিসেবে দেখছেন না। তাঁর দাবি, ভবনটি ইস্পাত কাঠামোয় নির্মিত হওয়ায় ইস্পাত কাঠামো ও সিমেন্টের বিভিন্ন অংশের সংযোগস্থলে সূক্ষ্ম ফাটল দেখা দিতে পারে। এগুলো বড় ধরনের ফাটল নয় এবং পুডিং ও প্লাস্টারের মাধ্যমে মেরামত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

ভবন নির্মাণের দায়িত্ব পাওয়া ইউনাইটেড করপোরেশনের মালিক মো. আমিনও ফাটলের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ইস্পাত কাঠামোর কারণে কিছু জায়গায় ফাটলের মতো দেখা দিয়েছে। সেগুলো পুডিং দিয়ে মেরামত করা হচ্ছে এবং এতে মূল ভবনের কোনো ক্ষতি হবে না।

তবে প্রকৌশল ও নির্মাণসংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন একটি সরকারি ভবনে উদ্বোধনের পরপরই পানি প্রবেশ এবং একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ভবনের নকশা, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান, কাঠামোগত নিরাপত্তা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের মান স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি।

বিপিসি ১৯৯০ সাল থেকে চট্টগ্রামে ভাড়া ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রথমে আগ্রাবাদের হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন ভবনে এবং পরে ২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ভবনে সদর দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন দশক পর নিজস্ব সদর দপ্তর পায় প্রতিষ্ঠানটি।

জয়পাহাড় এলাকায় নির্মিত নতুন ভবনটিতে প্রায় ১৮০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাজ করার কথা। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর নিজস্ব ভবন পেলেও প্রথম বর্ষাতেই পানি প্রবেশ এবং এরপর দেয়ালে ফাটলের ঘটনায় পুরো প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, বিপিসি দেশের জ্বালানি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করে। পদ্মা অয়েল কোম্পানি, যমুনা অয়েল কোম্পানি ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের মাধ্যমে এসব জ্বালানি বাজারজাত করা হয়। এ ছাড়া বিপিসির অধীন ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা হয়।

এমন একটি কৌশলগত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর নির্মাণে পানি প্রবেশ ও ফাটলের মতো ত্রুটি দেখা দেওয়াকে স্বাভাবিকভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয়, ঠিকাদারি প্রক্রিয়া, ব্যবহৃত সামগ্রী, কাজের মান, বিল পরিশোধ এবং প্রকল্প পরিচালকের তদারকি—সবকিছুই নিরপেক্ষ কারিগরি ও আর্থিক অডিটের আওতায় আনা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. আপেল মামুনের বিরুদ্ধে ওঠা কমিশন-বাণিজ্য ও ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সরকারি অর্থের অপচয় ও নির্মাণকাজে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।