ঢাকা ০৫:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভোলাহাটে উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় করলেন ড. মু. মিজানুর রহমান এমপি রাজস্ব কর্মকর্তা বিএম আব্দুল্লাহ আল মাসুমের বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ কুমিল্লায় গৃহবধূ মরিয়ম বেগম হত্যায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবরের যাবজ্জীবন শিবগঞ্জে ১৮৫ গ্রাম হেরোইনসহ চারজন গ্রেপ্তার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে ১৩০ বোতল এস্কাফ সিরাপ জব্দ দেশে বিনা চিকিৎসায় আর রুগীর মৃত্যু দেখতে চাই না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী কুমিল্লায় বিজিবির অভিযানে  ৯২ লাখ টাকার অবৈধ ভারতীয় শাড়ি-থ্রিপিস উদ্ধার পাগলাপীরের ঠাকুরপাড়ায় মাইক্রোবাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ,দুই বন্ধুর মৃত্যু ডাবল সুবিধা’ নিতে নিয়ম ভাঙার অভিযোগ, যুব উন্নয়নের সাবেক ডিজির বিরুদ্ধে এলজিইডিতে পদোন্নতি-বদলি ও নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে শফিকুর রহমান

ডাবল সুবিধা’ নিতে নিয়ম ভাঙার অভিযোগ, যুব উন্নয়নের সাবেক ডিজির বিরুদ্ধে

সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার রোধে কঠোর নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে একই সাথে দ্বৈত সরকারি গাড়ি ও ভাতার সুবিধা ভোগ করার চাঞ্চল্যকর আর্থিক ও নৈতিক অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে এই অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামান সরকারি প্রাধিকারভুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিজের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য একটি সরকারি গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা পান। একই সাথে উক্ত গাড়ির জ্বালানি, চালকের বেতন ও সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ (মেইনটেনেন্স) খরচ বাবদ প্রতি মাসে সরকারি কোষাগার থেকে নির্ধারিত ৫০ হাজার টাকা নিয়মিত উত্তোলন করে আসছিলেন। তবে নিয়মানুযায়ী এই মেইনটেনেন্স সুবিধা গ্রহণ করলে অধিদপ্তরের বা অন্য কোনো সরকারি গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ থাকে না। তবে তিনি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্রতিনিয়ত যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিজস্ব গাড়ি ও জ্বালানি ব্যবহার করে আসছিলেন।

একদিকে সরকারি নগদ অর্থ পকেটে ঢুকানো এবং অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় গাড়ি ব্যবহার করাকে প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্পষ্ট দুর্নীতি এবং চরম নীতিবিগর্হিত কাজ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এটা স্পষ্টত ‘গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা-২০২০’ এর পরিপন্থী।

মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ড. সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে কেবল গাড়ি বিলাসই নয়, অধিদপ্তরের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ প্রকল্প, কেনাকাটা ও প্রশাসনিক বদলি-পদায়নেও চরম স্বেচ্ছাচারিতা এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর ক্ষমতার দাপট দেখানো এবং নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ করানোর অভিযোগও জমা পড়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে।

প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে এসব অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের খবর পৌঁছানোর পর সম্প্রতি তাকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে অবমুক্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, সরকারি অর্থ লোপাট এবং দ্বৈত গাড়ি ব্যবহারের মতো অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার পেছনে যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা সরকারি অডিট ও তদন্তের মাধ্যমে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

এই বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে ইচ্ছুক না বলে জানান।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোলাহাটে উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় করলেন ড. মু. মিজানুর রহমান এমপি

ডাবল সুবিধা’ নিতে নিয়ম ভাঙার অভিযোগ, যুব উন্নয়নের সাবেক ডিজির বিরুদ্ধে

আপডেট সময় ০৪:০১:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার রোধে কঠোর নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে একই সাথে দ্বৈত সরকারি গাড়ি ও ভাতার সুবিধা ভোগ করার চাঞ্চল্যকর আর্থিক ও নৈতিক অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে এই অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামান সরকারি প্রাধিকারভুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিজের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য একটি সরকারি গাড়ি ব্যবহারের সুবিধা পান। একই সাথে উক্ত গাড়ির জ্বালানি, চালকের বেতন ও সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ (মেইনটেনেন্স) খরচ বাবদ প্রতি মাসে সরকারি কোষাগার থেকে নির্ধারিত ৫০ হাজার টাকা নিয়মিত উত্তোলন করে আসছিলেন। তবে নিয়মানুযায়ী এই মেইনটেনেন্স সুবিধা গ্রহণ করলে অধিদপ্তরের বা অন্য কোনো সরকারি গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ থাকে না। তবে তিনি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্রতিনিয়ত যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিজস্ব গাড়ি ও জ্বালানি ব্যবহার করে আসছিলেন।

একদিকে সরকারি নগদ অর্থ পকেটে ঢুকানো এবং অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় গাড়ি ব্যবহার করাকে প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্পষ্ট দুর্নীতি এবং চরম নীতিবিগর্হিত কাজ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এটা স্পষ্টত ‘গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা-২০২০’ এর পরিপন্থী।

মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ড. সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে কেবল গাড়ি বিলাসই নয়, অধিদপ্তরের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ প্রকল্প, কেনাকাটা ও প্রশাসনিক বদলি-পদায়নেও চরম স্বেচ্ছাচারিতা এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর ক্ষমতার দাপট দেখানো এবং নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ করানোর অভিযোগও জমা পড়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে।

প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে এসব অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের খবর পৌঁছানোর পর সম্প্রতি তাকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে অবমুক্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, সরকারি অর্থ লোপাট এবং দ্বৈত গাড়ি ব্যবহারের মতো অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার পেছনে যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা সরকারি অডিট ও তদন্তের মাধ্যমে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

এই বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে ইচ্ছুক না বলে জানান।