ঢাকা ০৯:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের পাইলট প্রকল্প শুরুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দেশে পোস্টগ্র্যাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী তেজগাঁও থানায় আকস্মিক পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ নিউজ নেটওয়ার্ক নীলফামারীর আহ্বায়ক কমিটি গঠন অল্প সময়ে জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয় : পানিসম্পদমন্ত্রী জাজিরায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা মঠবাড়িয়ায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কীর্তি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিলেন তাকওয়া ফাউন্ডেশন মৌলভীবাজারের বড়লেখায় প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার রাজনীতি নিষিদ্ধ ববিতে জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের কাউন্সিল, পূর্ণাঙ্গ কমিটির আত্মপ্রকাশ   পোষা বিড়ালের আঁচড়ের পর থেকে ‘মিউ মিউ’ করছে শিশু আদ্রিতা

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মরিয়ম আক্তার মুন্নী (২৩) নামের এক তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর স্বজনদের অভিযোগ, তাঁকে হত্যা করে গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বড়লেখা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুড়িরগুল গ্রামের একটি বাড়ি থেকে মরিয়মের লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী মামুনুর রশীদ লাবলুর স্ত্রী। মরিয়ম উপজেলার বিওসি কেছরিগুল (ডিমাই) গ্রামের হাজী মকবুল আলীর মেয়ে।

মরিয়মের পরিবারের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনার আগে বিভিন্ন সময় মরিয়মকে নির্যাতন করা হতো। এ বিষয়ে তাঁদের কাছে মরিয়মের পাঠানো কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ ভয়েস রেকর্ড রয়েছে। এসব রেকর্ডে মরিয়ম তাঁর বাবার কাছে শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, মরিয়মের ঝুলন্ত লাশের নিচে একটি বালতি ও মগ পাওয়া যায়। এ বিষয়টি তাঁদের কাছে ঘটনাটিকে সন্দেহজনক করে তুলেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মরিয়মের শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরের দিকে মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে সন্ধ্যার দিকে বড়লেখা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। বড়লেখা থানার এসআই প্রলয় রায় শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরিয়মের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মরিয়মের বাবা হাজী মকবুল আলী বলেন, আমার মেয়েকে নির্যাতন করা হতো। সে আমাদের কাছে নির্যাতনের কথা জানিয়েছে। আমরা ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছি। এ ঘটনায় মেয়ের শাশুড়ি ও ননদকে আসামি করে হত্যা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

তবে মরিয়মের পরিবারের এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনায় কারও দায় রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের পাইলট প্রকল্প শুরুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

আপডেট সময় ০৮:২১:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মরিয়ম আক্তার মুন্নী (২৩) নামের এক তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর স্বজনদের অভিযোগ, তাঁকে হত্যা করে গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বড়লেখা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুড়িরগুল গ্রামের একটি বাড়ি থেকে মরিয়মের লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী মামুনুর রশীদ লাবলুর স্ত্রী। মরিয়ম উপজেলার বিওসি কেছরিগুল (ডিমাই) গ্রামের হাজী মকবুল আলীর মেয়ে।

মরিয়মের পরিবারের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনার আগে বিভিন্ন সময় মরিয়মকে নির্যাতন করা হতো। এ বিষয়ে তাঁদের কাছে মরিয়মের পাঠানো কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ ভয়েস রেকর্ড রয়েছে। এসব রেকর্ডে মরিয়ম তাঁর বাবার কাছে শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, মরিয়মের ঝুলন্ত লাশের নিচে একটি বালতি ও মগ পাওয়া যায়। এ বিষয়টি তাঁদের কাছে ঘটনাটিকে সন্দেহজনক করে তুলেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মরিয়মের শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরের দিকে মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে সন্ধ্যার দিকে বড়লেখা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। বড়লেখা থানার এসআই প্রলয় রায় শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরিয়মের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মরিয়মের বাবা হাজী মকবুল আলী বলেন, আমার মেয়েকে নির্যাতন করা হতো। সে আমাদের কাছে নির্যাতনের কথা জানিয়েছে। আমরা ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছি। এ ঘটনায় মেয়ের শাশুড়ি ও ননদকে আসামি করে হত্যা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

তবে মরিয়মের পরিবারের এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনায় কারও দায় রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।