ঢাকা ১০:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা ওয়াসার ‘ওয়াটার এটিএম’ প্রকল্পে দুর্নীতি : দুদকে অভিযোগ আহতদের চিকিৎসা ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার : ইশরাক হোসেন ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে: রিজভী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ বৃহস্পতিবার, শপথ শুক্রবার : চিফ হুইপ পিনাকী-ইলিয়াস জামায়াতের হয়ে টাকার বিনিময়ে গুজব ছড়ান: প্রতিমন্ত্রী নুর বিদায়ী বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ স্বজনদের, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের জাজিরা থানার ওসি মোঃ সালেহ আহাম্মদ জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত কালুখালীতে নবাগত ইউএনও’র সঙ্গে উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ সিলেটে চুরি-ছিনতাই ও কিশোরগ্যাং আতঙ্ক, জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আবারও

সিলেটে চুরি-ছিনতাই ও কিশোরগ্যাং আতঙ্ক, জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আবারও

চুরি, ছিনতাই ও কিশোরগ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে সিলেট নগরবাসীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নগরের ব্যস্ত বিভিন্ন এলাকা, গণপরিবহন, বাসাবাড়ি এমনকি সভা-সমাবেশ ও ধর্মীয় স্থাপনাকেন্দ্রিক জনসমাগমেও সক্রিয় রয়েছে চোর-ছিনতাইকারী চক্র। এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নগরের বন্দরবাজার, কোর্ট পয়েন্ট, জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা, লামাবাজার, রিকাবীবাজার, মীরাবাজার, সুরমা পয়েন্ট, নাসির টার্মিনাল, রেলস্টেশন, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা ও শাহজালাল (রহ.) মাজারসহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় চক্রগুলোর তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চোরচক্রের সদস্যরা কখনো পথচারী, কখনো যাত্রী কিংবা সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে ভিড়ের মধ্যে মিশে যায়। সুযোগ বুঝে তারা পকেট থেকে মোবাইল ফোন, টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেয়। সিএনজি অটোরিকশাকেও কখনো কখনো ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শুধু রাস্তাঘাটেই নয়, নগরের বিভিন্ন বাসাবাড়িতেও চুরির ঘটনা ঘটছে। মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত নগরবাসী। সম্প্রতি এক প্রবীণ সাংবাদিকের বাসায় চুরির ঘটনায় মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এদিকে, চুরি ও ছিনতাইয়ের কয়েকটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওসহ ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয়রা কয়েকজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তারের পর আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে কেউ কেউ আবারও একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

নগরবাসীর অভিযোগ, একাধিক মামলার আসামি ও অতীতে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনায় কারাভোগ করা কয়েকজনকে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন অনেকে। অভিযোগ রয়েছে, সুযোগ বুঝে চাকু দেখিয়ে মোটরসাইকেল থামিয়ে যাত্রী বা চালকের কাছ থেকে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে সিলেট নগরীতে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ছিনতাই চক্রের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে বেশ কিছু মোবাইল ফোন, যা পরবর্তীতে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। তবে সম্প্রতি আবারও চুরি-ছিনতাই চক্রের তৎপরতা বাড়ছে বলে অভিযোগ করছেন নগরবাসী।

স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধানে চুরি-ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত হিসেবে কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং কারাভোগের তথ্যও রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ইমন আহমদ, জারু মিয়া, শাহিন, সুমন দাস ওরফে রাব্বি, নোমান আহমদ আপন সক্রিয় ছিনতাই চুরির সাথে জড়িত বলে অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে।

সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মুহাম্মদ মাঈনুল জাকির কাজীরবাজারে একটি মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, কেউ মাদক, জুয়া বা ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকলে এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, অপরাধ দমনে পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

নগরবাসীর দাবি, শুধু গ্রেপ্তার নয়—চুরি, ছিনতাই ও কিশোরগ্যাংয়ের মূলহোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা, নিয়মিত টহল জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বৃদ্ধি এবং সিসিটিভি কার্যক্রম কার্যকর করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জামিনে বের হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িতদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

নগরবাসীর প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর ও ধারাবাহিক তৎপরতায় সিলেট নগরীর চুরি-ছিনতাই ও কিশোরগ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা ওয়াসার ‘ওয়াটার এটিএম’ প্রকল্পে দুর্নীতি : দুদকে অভিযোগ

সিলেটে চুরি-ছিনতাই ও কিশোরগ্যাং আতঙ্ক, জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আবারও

আপডেট সময় ০৮:৪৩:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

চুরি, ছিনতাই ও কিশোরগ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যে সিলেট নগরবাসীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নগরের ব্যস্ত বিভিন্ন এলাকা, গণপরিবহন, বাসাবাড়ি এমনকি সভা-সমাবেশ ও ধর্মীয় স্থাপনাকেন্দ্রিক জনসমাগমেও সক্রিয় রয়েছে চোর-ছিনতাইকারী চক্র। এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নগরের বন্দরবাজার, কোর্ট পয়েন্ট, জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা, লামাবাজার, রিকাবীবাজার, মীরাবাজার, সুরমা পয়েন্ট, নাসির টার্মিনাল, রেলস্টেশন, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা ও শাহজালাল (রহ.) মাজারসহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় চক্রগুলোর তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চোরচক্রের সদস্যরা কখনো পথচারী, কখনো যাত্রী কিংবা সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে ভিড়ের মধ্যে মিশে যায়। সুযোগ বুঝে তারা পকেট থেকে মোবাইল ফোন, টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেয়। সিএনজি অটোরিকশাকেও কখনো কখনো ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শুধু রাস্তাঘাটেই নয়, নগরের বিভিন্ন বাসাবাড়িতেও চুরির ঘটনা ঘটছে। মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির ঘটনায় আতঙ্কিত নগরবাসী। সম্প্রতি এক প্রবীণ সাংবাদিকের বাসায় চুরির ঘটনায় মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এদিকে, চুরি ও ছিনতাইয়ের কয়েকটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওসহ ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয়রা কয়েকজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তারের পর আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে কেউ কেউ আবারও একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

নগরবাসীর অভিযোগ, একাধিক মামলার আসামি ও অতীতে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনায় কারাভোগ করা কয়েকজনকে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন অনেকে। অভিযোগ রয়েছে, সুযোগ বুঝে চাকু দেখিয়ে মোটরসাইকেল থামিয়ে যাত্রী বা চালকের কাছ থেকে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে সিলেট নগরীতে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ছিনতাই চক্রের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে বেশ কিছু মোবাইল ফোন, যা পরবর্তীতে প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। তবে সম্প্রতি আবারও চুরি-ছিনতাই চক্রের তৎপরতা বাড়ছে বলে অভিযোগ করছেন নগরবাসী।

স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধানে চুরি-ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত হিসেবে কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং কারাভোগের তথ্যও রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ইমন আহমদ, জারু মিয়া, শাহিন, সুমন দাস ওরফে রাব্বি, নোমান আহমদ আপন সক্রিয় ছিনতাই চুরির সাথে জড়িত বলে অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে।

সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মুহাম্মদ মাঈনুল জাকির কাজীরবাজারে একটি মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, কেউ মাদক, জুয়া বা ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকলে এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, অপরাধ দমনে পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

নগরবাসীর দাবি, শুধু গ্রেপ্তার নয়—চুরি, ছিনতাই ও কিশোরগ্যাংয়ের মূলহোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা, নিয়মিত টহল জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বৃদ্ধি এবং সিসিটিভি কার্যক্রম কার্যকর করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জামিনে বের হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িতদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

নগরবাসীর প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর ও ধারাবাহিক তৎপরতায় সিলেট নগরীর চুরি-ছিনতাই ও কিশোরগ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হবে।