ঢাকা ০৩:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাহারাদার ৫ কুকুরকে অচেতন করে কৃষকের গরু চুরি

পিরোজপুরের নেছারাবাদে পথের পাঁচটি কুকুরকে নিয়মিত খাবার দিয়ে পোষ মানিয়েছিলেন কৃষক হরিদাস হালদার। সেই কুকুরগুলোই হয়ে উঠেছিল তার গবাদি পশুর রাতের পাহারাদার। তবে গোয়ালঘর পাহারায় থাকা কুকুরগুলোকে অচেতন করে হরিদাসের গর্ভবতী গরু নিয়ে গেছে চোরেরা।

গত ৮ আগস্ট ভোর ৪টার দিকে গরু চুরির বিষয়টি টের পান নেছারাবাদ উপজেলার দৈহারী ইউনিয়নের থালিয়া গ্রামের হরিদাস হালদার। এর আগে ৭ আগস্ট রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, হরিদাসের বাড়ির গোয়ালঘরের পাশেই নিয়মিত রাতে অবস্থান করত স্থানীয় পাঁচটি কুকুর। হরিদাস তাদের নিয়মিত খাবার দিতেন। ধীরে ধীরে কুকুরগুলোও যেন বাড়িটিরই সদস্য হয়ে উঠেছিল। রাতে তারা পাহারা দিত গোয়ালঘরের গরু; কিন্তু শুক্রবার রাতে চোরেরা কোনো ধরনের অচেতনকারী দ্রব্য খাইয়ে বা প্রয়োগ করে পাঁচটি কুকুরকে অচেতন করে ফেলে। এরপর গোয়ালঘর থেকে নিয়ে যায় একটি গর্ভবতী গরু।

শনিবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে গোয়ালঘরের পাশে গিয়ে হরিদাস হালদার দেখেন; তার গরুটি নেই। কিছুটা এগিয়ে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তার প্রিয় পাঁচ পাহারাদার কুকুর মাটিতে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে।

পরিবারের দাবি, চুরি যাওয়া গরুটি ছিল গর্ভবতী। আর মাত্র এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই গরুটির বাচ্চা প্রসব করার কথা ছিল। তাই গরু হারানোর পাশাপাশি অনাগত বাছুরটির ভবিষ্যৎ নিয়েও কষ্টে পড়েছে পরিবারটি। তারা বলছেন, সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও পাঁচটি কুকুরের এখনো স্বাভাবিক জ্ঞান ফেরেনি। তারা কিছু খাচ্ছে না, ঠিকমতো দাঁড়াতেও পারছে না।

হরিদাস হালদার বলেন, কুকুরগুলোকে আমি নিয়মিত খাবার দিতাম। ওরাই রাতে আমার গরু পাহারা দিত। এখন গরুটাও নেই, কুকুরগুলোর অবস্থাও খারাপ। ওরা এখনো স্বাভাবিক হয়নি। ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

নেছারাবাদ উপজেলার পাটিকেলবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিশ্বজিৎ বলেন, ঘটনার তদন্তে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি ইন্দুরহাট ও চাঁদকাঠির দিকে যাওয়ার সড়কগুলোর তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশা করি চুরির প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাহারাদার ৫ কুকুরকে অচেতন করে কৃষকের গরু চুরি

আপডেট সময় ০১:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

পিরোজপুরের নেছারাবাদে পথের পাঁচটি কুকুরকে নিয়মিত খাবার দিয়ে পোষ মানিয়েছিলেন কৃষক হরিদাস হালদার। সেই কুকুরগুলোই হয়ে উঠেছিল তার গবাদি পশুর রাতের পাহারাদার। তবে গোয়ালঘর পাহারায় থাকা কুকুরগুলোকে অচেতন করে হরিদাসের গর্ভবতী গরু নিয়ে গেছে চোরেরা।

গত ৮ আগস্ট ভোর ৪টার দিকে গরু চুরির বিষয়টি টের পান নেছারাবাদ উপজেলার দৈহারী ইউনিয়নের থালিয়া গ্রামের হরিদাস হালদার। এর আগে ৭ আগস্ট রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, হরিদাসের বাড়ির গোয়ালঘরের পাশেই নিয়মিত রাতে অবস্থান করত স্থানীয় পাঁচটি কুকুর। হরিদাস তাদের নিয়মিত খাবার দিতেন। ধীরে ধীরে কুকুরগুলোও যেন বাড়িটিরই সদস্য হয়ে উঠেছিল। রাতে তারা পাহারা দিত গোয়ালঘরের গরু; কিন্তু শুক্রবার রাতে চোরেরা কোনো ধরনের অচেতনকারী দ্রব্য খাইয়ে বা প্রয়োগ করে পাঁচটি কুকুরকে অচেতন করে ফেলে। এরপর গোয়ালঘর থেকে নিয়ে যায় একটি গর্ভবতী গরু।

শনিবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে গোয়ালঘরের পাশে গিয়ে হরিদাস হালদার দেখেন; তার গরুটি নেই। কিছুটা এগিয়ে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তার প্রিয় পাঁচ পাহারাদার কুকুর মাটিতে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে।

পরিবারের দাবি, চুরি যাওয়া গরুটি ছিল গর্ভবতী। আর মাত্র এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই গরুটির বাচ্চা প্রসব করার কথা ছিল। তাই গরু হারানোর পাশাপাশি অনাগত বাছুরটির ভবিষ্যৎ নিয়েও কষ্টে পড়েছে পরিবারটি। তারা বলছেন, সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও পাঁচটি কুকুরের এখনো স্বাভাবিক জ্ঞান ফেরেনি। তারা কিছু খাচ্ছে না, ঠিকমতো দাঁড়াতেও পারছে না।

হরিদাস হালদার বলেন, কুকুরগুলোকে আমি নিয়মিত খাবার দিতাম। ওরাই রাতে আমার গরু পাহারা দিত। এখন গরুটাও নেই, কুকুরগুলোর অবস্থাও খারাপ। ওরা এখনো স্বাভাবিক হয়নি। ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

নেছারাবাদ উপজেলার পাটিকেলবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিশ্বজিৎ বলেন, ঘটনার তদন্তে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি ইন্দুরহাট ও চাঁদকাঠির দিকে যাওয়ার সড়কগুলোর তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশা করি চুরির প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে।