ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রয়াত বাবাকে নিয়ে মেসির আবেগঘন বার্তা নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল চট্টগ্রামের ডিসি পদ পেতে উপসচিব সালাহউদ্দিনের ৭০ কোটি টাকার চুক্তি! ঝালকাঠিতে ইভ্যালির রাসেল-শামীমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মালয়েশিয়ায় বড় ধরনের অভিযান, ৩৭০ বাংলাদেশি আটক পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে মালদ্বীপের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ বর্তমান সরকারের অধীনে তথ্য বিভ্রান্তির সুযোগ নেই: অর্থমন্ত্রী থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ সিদ্ধান্তের ফুলঝুরি সভায়, বাস্তবায়ন শূন্য-বোরহানউদ্দিনে চুরি-জুয়া নিয়ে উদ্বেগ ভারতের উত্তরপ্রদেশে লিটারপ্রতি নগদে কেনা হচ্ছে গোমূত্র

সিদ্ধান্তের ফুলঝুরি সভায়, বাস্তবায়ন শূন্য-বোরহানউদ্দিনে চুরি-জুয়া নিয়ে উদ্বেগ

  • রিয়াজ ফরাজী 
  • আপডেট সময় ০৫:৪৭:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১১ বার পড়া হয়েছে

ভোলার বোরহানউদ্দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভার পর সভা হলেও বাস্তবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। দিনদুপুরে চুরির ঘটনা, জুয়া এবং তরুণদের অনিয়ন্ত্রিত মোবাইল আসক্তি ও কিশোর গ্যাং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা ও মাসিক সমন্বয় সভায়।

বুধবার (১২ আগস্ট) অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে চুরি, ডাকাতি ও জুয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে যুবসমাজের মধ্যে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও আসক্তি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সভায় বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে প্রতিবারই বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু আলোচনা ও সিদ্ধান্তের পর বাস্তবে তার কতটা বাস্তবায়ন হচ্ছে—এ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে দিনের বেলাতেই যেভাবে চুরির ঘটনা ঘটছে, তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চুরি প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি ও টহল জোরদার করা না হলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। শুধু ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে অপরাধ সংঘটনের আগেই তা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
সভায় তরুণ সমাজের মোবাইল আসক্তির বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বর্তমানে অনেক কিশোর-তরুণ দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত থাকছে। এর ফলে পড়াশোনা, খেলাধুলা, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও পারিবারিক বন্ধনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
বক্তব্যে বলা হয়, চুরি, ডাকাতি ও জুয়া নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে অপরাধ ও আসক্তির ঝুঁকি থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনোরঞ্জন বর্মন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রণজিৎ চন্দ্র দাস, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট কাজী মো. আজম, যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ কাজী, উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ইশরাত জাহান বনি, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, এনজিও প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
সভায় বক্তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে শুধু নিয়মিত সভা ও আলোচনা যথেষ্ট নয়; সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং তার তদারকি নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চুরি-জুয়া ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত অভিযান, নজরদারি ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা সভায় উত্থাপিত সমস্যাগুলো যেন শুধু আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। সভার সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে চুরি, জুয়া ও অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ নিশ্চিত করা হবে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রয়াত বাবাকে নিয়ে মেসির আবেগঘন বার্তা

সিদ্ধান্তের ফুলঝুরি সভায়, বাস্তবায়ন শূন্য-বোরহানউদ্দিনে চুরি-জুয়া নিয়ে উদ্বেগ

আপডেট সময় ০৫:৪৭:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

ভোলার বোরহানউদ্দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভার পর সভা হলেও বাস্তবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। দিনদুপুরে চুরির ঘটনা, জুয়া এবং তরুণদের অনিয়ন্ত্রিত মোবাইল আসক্তি ও কিশোর গ্যাং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা ও মাসিক সমন্বয় সভায়।

বুধবার (১২ আগস্ট) অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে চুরি, ডাকাতি ও জুয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে যুবসমাজের মধ্যে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও আসক্তি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সভায় বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে প্রতিবারই বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু আলোচনা ও সিদ্ধান্তের পর বাস্তবে তার কতটা বাস্তবায়ন হচ্ছে—এ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে দিনের বেলাতেই যেভাবে চুরির ঘটনা ঘটছে, তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চুরি প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি ও টহল জোরদার করা না হলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। শুধু ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে অপরাধ সংঘটনের আগেই তা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
সভায় তরুণ সমাজের মোবাইল আসক্তির বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বর্তমানে অনেক কিশোর-তরুণ দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত থাকছে। এর ফলে পড়াশোনা, খেলাধুলা, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও পারিবারিক বন্ধনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
বক্তব্যে বলা হয়, চুরি, ডাকাতি ও জুয়া নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে অপরাধ ও আসক্তির ঝুঁকি থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনোরঞ্জন বর্মন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রণজিৎ চন্দ্র দাস, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট কাজী মো. আজম, যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ কাজী, উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ইশরাত জাহান বনি, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, এনজিও প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
সভায় বক্তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে শুধু নিয়মিত সভা ও আলোচনা যথেষ্ট নয়; সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং তার তদারকি নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চুরি-জুয়া ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত অভিযান, নজরদারি ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা সভায় উত্থাপিত সমস্যাগুলো যেন শুধু আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। সভার সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে চুরি, জুয়া ও অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ নিশ্চিত করা হবে।